।। স্বাধীনতা প্রসঙ্গে
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।
নিবেদনে—তপন দাস
কীর্তন, পল্লী সংগঠন, তপোবন বিদ্যালয়, বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র ইত্যাদি কর্মসংগঠনের মাধ্যমে আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের
নমুনার কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করে চলেছেন শ্রীশ্রীঠাকুর হিমায়েতপুরে । সেই সময় কিছু স্বাধীনতাকামী বিপ্লবী ঠাকুরকে ওইসব ছেড়ে তাদের সাথে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেবার আহ্বান জানালে
ঠাকুর বলেন, ভারত তো পরাধীন ছিল না। আর্য্যযুগ থেকে
শুরু করে দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা আমাদের হারাতে
হলো কেন ?
বিপ্লবী : সাম্রাজ্যবাদীদের
চক্রান্তে ।
ঠাকুর : সাম্রাজ্যবাদীদের
চক্রান্ত যদি থেকেই থাকে সে চক্রান্তের ফাঁদে আমরা পা দিলাম কেন ?
বিপ্লবী : আমাদের
জাতীয় চরিত্রের দুর্বলতার জন্য ।
ঠাকুর : তাহলে
দেখুন আপনিই স্বীকার করলেন যে পরাধীনতার মূল কারণ চরিত্রগত দুর্বলতা । আমি তো দাদা সেই কাজটাই করছি, মানুষ যাতে লোভ, কাম, ক্রোধ
এইসব রিপুর,বা প্রবৃত্তির অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে সু বা সত্তার অধীন হতে পারে। তাই
আপনাদের উচিত আমার সাথে যোগ দেওয়া।
তাই তো, শ্রীশ্রীঠাকুর সর্বপ্রথমে
আমাদের দুর্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সু অর্থাৎ
সত্তার অধীন হতে উপদেশ দিলেন
যাতে আমরা আর কোন চক্রান্তের শিকার না হই।
শ্রীশ্রীঠাকুরের মতে,
FREEDOM মানে প্রিয়ের বাড়ী । inborn we are
inter-dependent not independent. জন্ম নিতেও বাবা মা লাগে
অধীনতা মানতেই হয়। সু পিতামাতার অধীনেই সুসন্তান অর্থাৎ স্বাধীন সন্তান
বা প্রকৃষ্ট জাতক বা প্রজা জন্মায়।
এই হলো প্রকৃত
স্বাধীনতার তাৎপর্য।
——–