JANMA SAMAY

।। বিজ্ঞান-বিভূতি গ্রন্থ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।

যে যখনই 
জন্মগ্রহণ করুক না কেন—–
তৎকালে যেটা তা’র লগ্ন,
বা লেগে থাকা,
বা লাগোয়া গ্রহ,
অর্থাৎ, ঐ জন্মসময়ের সাথে 
যে-গ্রহ সম্বন্ধান্বিত ও সংস্থিত
বা যা’র সাথে
তার সহ-সংস্থ-সম্বন্ধ হয়েছে—-
তাকে ধরে 
ও অন্যান্য গ্রহের 
পরিবর্তনী পরিপ্রেক্ষার সহিত
নির্ণীত কারকতার কূটচলনে
ঐ জীবনগতিকে
পরিমাপ করবার কায়দাই হ’চ্ছে
ফলিত জ্যোতিষবিদ্যা ;…..
(বাণী সংখ্যা—৩৮) ���������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������tCCtSRgFaGlEymxHzUKA87BuA+Xw2z/Mcn0uybIoGjJwgwKlkwb+kkE5m0GX4uXhCoWaXynN8HjTSuZwi5vMcbFXJgK0KjDUlIXBIAEzkWOqL02ISLimD/8oKLD0Nf5hHvFM4KBGXx2AQPnKwTwmxUchBQIKCvkLBo

SWASTHA O SADACHAR

***************************************

** সুস্থভাবে বাঁচতে চাইলে মানতে হবে **

।। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কথিত— 

‘স্বাস্থ্য ও সদাচার-সূত্র’-এর বিধি।।

                           সংকলক—তপন দাস

****************************************

মুখ ধুয়ে  অর্থাৎ  কুলকুচো ক’রে

     তোমার খাদ্য-পাত্রে

          তা ফেলতে যেও না,

তোমার  লালা-গ্রন্থির উৎসেচন

     তা’তে বিকার সৃষ্টি করতে পারে,

যা’র ফলে,

     ঐ পাত্র সুমার্জিত না হ’লে

          ঐ পাত্রস্থ অন্নপানীয়

               দুষ্ট হ’য়ে উঠতে পারে ;

গ্লাসে চুমুক দিয়ে খেলেও

                ঐ দশা হয়,

     তাই, উঁচু ক’রে জল খাওয়া-ও

                         সদাচারের অঙ্গ। ৪২ ।

সুকেন্দ্রিক ও সুসংস্কৃত জনন,

     শ্রেয়নিষ্ঠ, সৎসন্দীপী  কর্ম্মঠ জীবন,

সত্তা-সংরক্ষী  সদাচার-পালন,

     অবৈধ-উত্তেজনা-বিহীন

          পোষণপাচ্য পান ও ভোজন,

     ভিজা পায়ে আহার্য্য গ্রহণ,

          শুকনো পায়ে নিদ্রাগমন,

সত্তানুপোষী বৈশিষ্ট্যপালী

          বৈধী বিশুদ্ধ যৌন-সংশ্রব,

বাহ্যিক ও মানসিক  ব্যভিচার ও

          ব্যতিক্রম  হ’তে আত্মরক্ষণ,

              এই সবগুলিরই সমন্বয়

                     দীর্ঘায়ুপালী। ৪৪ ।

যে খাদ্য, ব্যবহার বা পরিচর্য্যা

          সত্তাপোষণী—

                     তা’ প্রস্বস্তির,

আর, যা’ সত্তার পক্ষে

     শুভও নয় বা অশুভও নয়—

তা’ পাতিত্যপ্রমুখী, অতএব পরিহার্য্যই

     কারণ, তা’কে আপ্তীকৃত ক’রতে

          সত্তাশক্তি

     অযথা ক্ষয়িতই হ’য়ে থাকে,

আবার, যে খাদ্য, ব্যবহার ও পরিচর্য্যা

     সত্তার পক্ষে দূষণীয় ও ক্ষয়কারী—

                      তা’ পাপের,

     এবং সর্ব্বতোভাবে পরিহার্য্যই

                        সাধারণতঃ। ৬১ ।

তুমি যা’ খাবে—

তা’র যেমনতর গুণ, স্বভাব ও ক্রিয়া,

          তোমার বিধানকে

              তদনুপাতিক সঙ্গত ক’রে

          ঐ গুণ ও ক্রিয়া

          তোমার স্বভাবে জান্তব হ’য়ে

                     ফুটে উঠবে কিন্তু,

          খাদ্যাখাদ্যের বিবেচনা

একটুকু ঐ-দিকে নজর রেখে যদি কর—

   লাভবান্ হ’তে পারবে প্রায়শঃ,                                                

তাই, ‘‘আহারশুদ্ধৌ সত্ত্বশুদ্ধিঃ’’। ৬২                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                    e

DEVDEVI

 নারায়ণ
(শ্রীদেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রচিত ‘শ্রীশ্রীঠাকুরের দৃষ্টিতে দেব-দেবী’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত)

 প্রতিটি মানুষ বাঁচতে চায়, সুস্থ থাকতে চায়। এই পৃথিবীতে যারা বেঁচে আছে তাদের প্রত্যেকেই জানে যে একদিন তাকেও মরতে হবে। তবুও মানুষ মরণকে এড়াতে চায়। এড়াতে যে চায় তার প্রমাণ হ’ল, পায়ে সামান্য একটা কাঁটা ফুটলে বা দাঁতের গোড়ায় একটু যন্ত্রণা হ’লেই মানুষ অস্থির হ’য়ে ওঠে। এবং যতক্ষণ পর্য্যন্ত কাঁটাটি তুলে ফেলতে না পারে বা ঐ যন্ত্রণার উপশম ঘটাতে না পারে, ততক্ষণ সে সোয়াস্তি পায় না। এটা হয় ঐ বাঁচার তথা সুস্থ থাকার কামনা থেকেই।
        বাঁচার জন্যই মানুষ স্মরণাতীত কাল থেকেই অমৃতের সন্ধান করছে, ‘অমৃত অমৃত’ ব’লে চীৎকার করছে। আর্য্যঋষিগণ মানুষকে সম্বোধন করেছেন ‘অমৃতের পুত্র’ বলে। এই অমৃতের পথ অর্থাৎ মৃত্যুহীনতার পথ তথা বাঁচার পথ যাঁর কাছে পাওয়া যায়, তিনিই নারায়ণ—মানুষের জীবনপথ।
        ‘নারায়ণ’-শব্দটিকে ভাঙ্গলে দুটি পদ পাওয়া যায়, ‘নর’ এবং ‘অয়ন’। ‘নর’ শব্দের উত্তর ‘অন্’ প্রত্যয় যোগ ক’রে হয় ‘নার’, মানে—নরসমূহ। আর ‘অয়ন’ মানে—চলন, পথ। তাই নারায়ণ মানে হ’ল— নরসমূহের (জীবন) পথ, সর্ব্বজীবের আশ্রয় বা পথ। (২) আবার, ‘নারায়ণ’ মানে—প্রাপ্তি ও বর্দ্ধনার পথ [ নৃ (প্রাপণ, বর্দ্ধন) + ঘঞ্ = নার ]। অর্থাৎ যে-পথ অনুসরণ ক’রে চললে মানুষ ভাল থাকবে, সুস্থ, স্বস্থ, ও ক্রমশঃ বৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয়ে সুদীর্ঘ জীবনের অধিকারী হবে তাই হ’ল নারায়ণ।
        মনুসংহিতায় আছে, ‘নারা’ মানে জল (১/১০)। এই জল যাঁর আশ্ৰয় তিনিই নারায়ণ। স্মৃতির এই উক্তির একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। ক্ষিতি (মাটি), অপ্ (জল), তেজ (আগুন), মরুৎ (বাতাস) ও ব্যোম (শূন্য)। এই পঞ্চভূত দ্বারা সমগ্র বিশ্বচরাচর সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে ব্যোম হ’ল মহাশূন্য। সেখানে আছে শুধু শব্দগুণ। তৎপরবর্ত্তী পদার্থ মরুৎ—রূপ-রস-গন্ধ-বিহীন ; তাকে অনুভব করতে হয় স্পর্শের ভিতর দিয়ে। তারপর আসছে তেজ (অগ্নি), যার মধ্যে আছে শব্দ, স্পর্শ ও রূপ-গুণ। কিন্তু তখনও পর্য্যন্ত সৃষ্টিধারা ঘনীভূত কোন অবস্থায় পর্য্যবসিত হয়নি। তেজ বা অগ্নিতে একটা গ্যাসীয় অবস্থার বিকাশ পর্য্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। ঘনীভূত প্রথম পদার্থই হ’ল জল— যার মধ্যে শব্দগুণ, স্পর্শগুণ, রূপগুণ ও রসগুণের অস্তিত্ব আছে। এই জলকে আশ্রয় ক’রেই হয়েছে প্রথম প্রাণের উদ্ভব। প্রাণের উৎপত্তির জন্য চাই রস। তাই, মনুসংহিতাতে আবার বলা হয়েছে, জলই প্রথম সৃষ্টি (১/৮)। জলেই সূচিত হ’ল প্রাণের প্রথম স্পন্দন। এককোষী প্রাণী প্রথম দেখা দিল জলের মধ্যে। তাই, নারায়ণ শব্দের এমনতর বুৎপত্তি।
        শতপথ ব্রাহ্মণে আছে, নারায়ণ প্রথম পুরুষ (১৩/৬/২/১)। তিনি সৃষ্টিকর্তারও স্রষ্টা। নারায়ণের নাভিপদ্ম থেকে ব্রহ্মার জন্ম। ব্রহ্মাই জগৎ সৃষ্টি করেছেন। তাই, মহামতি ব্যাসদেব সেই প্রথম পুরুষ নারায়ণকে প্রণাম ক’রে শ্রীমদ্ভাগবত রচনার কাজে ব্রতী হয়েছেন (১/২/৪)।
ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণে আছে, নারায়ণের চতুর্ভূজ মূর্ত্তি। চতুর্ভূজ মানে চার হাত। চার হাতওয়ালা বিষ্ণুমূর্ত্তি আমরা অনেক জায়গায় পূজিত হ’তে দেখে থাকি। নারায়ণের এই চার হাতের তাৎপর্য্য কী ? চার হাত মানে চার দিক দেখে চলা, চারদিকে অথাৎ সবদিকে নজর রাখা। বিশ্ব দুনিয়ার প্রভু যিনি তাঁর দৃষ্টির বাইরে তো কিছুই নেই। —তিনি সর্ব্বদর্শী।
        নারায়ণের চার হাতে আছে শঙ্খ, চক্র, গদা এবং পদ্ম। তাই তিনি ‘শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী’ নামে অভিহিত হ’য়ে থাকেন। শঙ্খধ্বনি দ্বারা তিনি সমগ্র মানবসমাজকে আহ্বান করেন, যুদ্ধার্থে বা কর্ম্মার্থে নিয়োজিত হ’তে প্রবুদ্ধ করে তোলেন। চক্র ও গদা হ’ল যুদ্ধাস্ত্রের প্রতীক, যা’ দিয়ে তিনি অন্যায়কারীকে শাস্তি-প্রদান ও নিধন করেন। আর, পদ্ম হ’ল লক্ষ্মী তথা সৌন্দর্য্যের প্রতীক। নারায়ণের করকমলে পদ্ম মানে সেখানে লক্ষ্মীশ্ৰীর আবাস।
        এই শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মের অপূৰ্ব্ব এক যুক্তিপূর্ণ সুসমঞ্জস ব্যাখ্যা দান করেছেন পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। তাঁর কথা থেকে বোঝা যায়, এগুলি নারায়ণের বিভিন্ন শক্তি। আরো উপলব্ধি করা যায় যে, যারা নারায়ণের উপাসনা করে, নারায়ণকে তৃপ্ত ও প্রীত ক’রে চলাই যাদের পরম-পুরুষার্থ, তারা প্রত্যেকেই কমবেশী এইসব শক্তির অধিকারী হ’য়ে ওঠে। এ সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুরের সেই চিরস্মরণীয় বাণীটি মুদ্রিত হ’য়ে আছে তাঁর ‘সম্বিতী’ নামক গ্রন্থে।
        ধাতুগত অর্থের উপর দাঁড়িয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর প্রতিটি শব্দকে ব্যাখ্যা করেছেন। এর আগে সাহিত্যে এমনতর দৃষ্টিভঙ্গী আর দেখা যায়নি। তাই, তাঁর কৃত ব্যাখ্যাগুলি চিন্তার এক নবদিগন্ত উন্মোচিত করেছে, ভাষার জগতেও এনে দিয়েছে নতুন প্রাণস্পন্দন।
        ‘শঙ্খ’ শব্দটির উৎপত্তি ‘শম্’-ধাতু থেকে, অর্থ—শান্ত করা বা প্রশমিত করা। আবার, ‘শম্’ শব্দের মানে কল্যাণ। এই অর্থের উপর ভিত্তি ক’রে কম্বুনিনাদে উচ্চারণ করলেন শ্রীশ্রীঠাকুর —-
“তাঁ’র শঙ্খ তোমাতে গ’র্জ্জে উঠুক,
দুষ্টবুদ্ধিকে দমন করুক,
মরণকে নিরসন করুক,
সব যাতনার উপশম করুক—-
পাপকে নিবৃত্ত ক’রে সবাইকে শান্ত ক’রে তুলুক ;
… … … … … … … … … … … …।”
(‘সম্বিতী’ দর্শন অধ্যায়, বাণী সংখ্যা ৩৩২)
এই হ’ল নারায়ণের হস্তস্থিত শঙ্খের ক্রিয়া।
        ‘চক্র’ এসেছে ‘কৃ’-ধাতু থেকে, মানে—কর্ম্ম করা,—যে কর্ম্ম মঙ্গল আনে। আবার, ‘চক্’- ধাতু থেকেও ‘চক্র’ শব্দ নিষ্পন্ন হয়, অর্থ—তৃপ্তি। তাই, ‘চক্র’ মানে—যে কর্ম্ম দ্বারা সবার সাত্বত তৃপ্তি হয়। শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—-
“… … … … … … … … … … … ..
তাঁ’র চক্র তোমাকে সুদর্শন-প্রবুদ্ধ ক’রে
কৃতী ক’রে তুলুক,
অন্যায়কে অপসারিত করুক,
শান্তির প্রতিষ্ঠায় তোমাকে নিরবিচ্ছিন্ন ক’রে তুলুক ;
… … … … … … … … … … …।”
(‘সম্বিতী’ দর্শন অধ্যায়, বাণী সংখ্যা– ৩৩২)
নারায়ণের সুদর্শন-চক্রের ক্রিয়া এমনতরই।
এই চক্র ‘সুদর্শন’ নামে প্রসিদ্ধ। চক্রের নাম সুদর্শন হ’ল কেন ? চমৎকার ব্যাখ্যা ক’রে বললেন যুগত্রাতা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্ৰ—-
“সুদর্শন মানে সম্যক্ দর্শন—-
ভাল ক’রে দেখা—-
পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখা ;
তোমার সুদর্শন—-
যা’-কিছু প্রত্যেককে এমন ক’রে দেখুক—-
যা’তে অন্তর্নিহিত মঙ্গলকে
উদ্ঘাটন করতে পারে ;
আর, তা’রই এমনতর চক্র সৃষ্টি কর—-
যা’র ফলে, জন ও জাতি উৎকর্ষে
অবাধ হ’য়ে চলতে পারে—নিয়ত,—নির্ব্বিরোধে,
ভগবানের সুদর্শন-চক্র
আশীর্ব্বাদী হ’য়ে
তোমাতে পরিশোভিত হোক।”
(শাশ্বতী, সংজ্ঞা– ৫৮৪)
তারপর আসছে ‘গদা’। ‘গদা’ শব্দটা শুনলেই স্বভাবতঃ আমাদের মনে জেগে ওঠে ভীমের গদার কথা। আর, তা’ হ’ল লড়াই করার জন্য এক শ্রেণীর লোহার মুগুর। কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে যখন গদার তাৎপর্য্য জিজ্ঞাসা করা হ’ল, তিনি শব্দটির ধাতুগত অর্থ দেখতে বললেন। দেখা গেল, ‘গদা’ শব্দটি এসেছে ‘গদ্’ ধাতু থেকে। যার মানে—কথন (কথা বলা) এবং মেঘধ্বনি। একথা শুনে পরম দয়াল শ্রীশ্রীঠাকুর গদার তাৎপর্য্য ব্যাখ্যা-প্রসঙ্গে বললেন—-
“… … … … … … … … … … … ..
আর, গদা তোমাকে
গুরুগম্ভীর মেঘবাণীতে বাগ্মী ক’রে তুলুক,
তোমাতে মুগ্ধ হোক সবাই—
পরিপোষণী বিচ্ছুরণে দীপ্ত হোক 
তোমার পরিপূরণী প্ৰকীর্ত্তি,
কৌমোদকী সার্থক ক’রে তুলুক তোমাকে ;
… … … … … … … … … … …।”
(‘সম্বিতী’ দর্শন অধ্যায়, বাণী সংখ্যা– ৩৩২)
তাহ’লে ‘গদা’ মানে দেখা যাচ্ছে বাক্য ও কর্ম্মের অমোঘ সুসঙ্গতিপূর্ণ বিন্যাস।
‘পদ্ম’ শব্দস্থিত ‘পদ্’- ধাতুর মানে আছে—গতি, স্থৈর্য্য, প্রাপ্তি। ধাতুগত অথের্র উপর দাঁড়িয়ে পদ্মের কী কাজ তা’ বুঝিয়ে বললেন শ্রীশ্রীঠাকুর—
“… … … … … … … … … … … ..
আর, পদ্ম আনুক গতি, আনুক স্থৈর্য্য,—-
প্রাপ্তিতে প্রস্ফুটিত ক’রে তুলুক জন ও জাতিকে ;
আর, সব হৃদয় খুলে—-
উদাত্ত আত্মনিবেদনে তুমি ব’লে ওঠ,
গেয়ে ওঠ—-“বন্দে পুরুষোত্তমম্”।”
(‘সম্বিতী’ দর্শন অধ্যায়, বাণী সংখ্যা– ৩৩২)
        সমস্ত কথাগুলি একটু ধীর মস্তিষ্কে গভীরভাবে অনুধাবন করলেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে, শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম যে একমাত্র নারায়ণের হাতে ছাড়া আর কোথাও থাকতে পারে না তা’ নয়। যে-ব্যক্তি নিষ্ঠার সঙ্গে নারায়ণের অর্চ্চনা করে, প্রকৃত বিষ্ণুভক্ত বা বৈষ্ণব যে, তারও চরিত্রে ঐ চতুঃশক্তি সতাৎপর্য্যে উদ্ভাসিত হ’য়ে ওঠে—যার যার বৈশিষ্ট্যমাফিক।
        শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র একদিন কথাপ্রসঙ্গে বলছিলেন, “প্রতিটি মানুষই একটি ক্ষুদে ঈশ্বর।” তাই, নারায়ণকে যারা ভালবাসে, তাঁকে অনুসরণ ক’রে যারা চলে, তঁৎপ্রীত্যর্থেই যাদের জীবন ও কর্ম্ম নিয়ন্ত্রিত হয়, তাদের চলা-বলা-করায় শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মের উপরি-উক্ত ক্রিয়া বিকশিত হ’য়ে ওঠে। তারাও হ’য়ে ওঠে এক-একটি ক্ষুদে শঙ্খ-চক্ৰ-গদা-পদ্মধারী। চার আল্ দেখে চলার জন্য তারা হয় চতুরচলনসম্পন্ন। এইভাবে তাদের জীবনে বিষ্ণুপূজা বা নারায়ণপূজা সার্থক হ’য়ে ওঠে। কারণ, পূজা মানেই হ’ল সংবর্ধনা—যাঁকে পূজা করছি, তাঁর প্রতি অনুরাগ নিয়ে, তাঁর গুণাবলী বিহিত অনুশীলনের ভিতর দিয়ে নিজ চরিত্রে মূর্ত্ত করে তোলা।
        তাৎপর্য্য জেনে দেবতার আরাধনা করতে পারলেই তাঁর অন্তঃপুরে গতাগতির একটা সুযোগ হয়, দেবতার সাথে প্রাণের একটা নিবিড় সম্বন্ধ স্থাপিত হয়। নতুবা, দেবমূর্ত্তির সামনে শুধু কতগুলি পুঁথিগত শুষ্ক সংস্কৃত মন্ত্র পাঠ ক’রে ফুল-জল দিলে তা’ হয় দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বাড়ীটি দেখে চ’লে আসার মত। জানা হয় না বাড়ীর ভেতরে কতগুলি ঘর, ঘরগুলি কত বড়, আসবাবপত্র কেমন, ইত্যাদি। একেই বলা হয় বাহ্যপূজা। তাতে দেবতার সাথে অন্তরের যোগ স্থাপিত হয় না। ফলে উদ্বর্দ্ধনাও ব্যাহত হয়। মুনিগণ এমনতর পূজাকে বলেছেন অধমেরও অধম।
পুরাণে উল্লিখিত আছে, নারায়ণ অনন্তশয্যায় শায়িত। তাঁর নাভিপদ্ম থেকে ব্রহ্মা জাত হলেন। এই ব্রহ্মা হলেন ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্ত্তা। এই তথ্যটিকে এবার আমরা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ভাবানুসরণে বুঝতে চেষ্টা করব—
       ‘নর’ শব্দ এসেছে ‘নৃ’-ধাতু থেকে, মানে—বর্দ্ধন। আর ‘অয়ন’ মানে—পথ। তাই, ‘নারায়ণ’ মানে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন—‘বর্দ্ধনার পথ’। বিশ্বদুনিয়ায় সৃষ্ট প্রতিটি পদার্থের মধ্যেই আছে অস্তি ও বৃদ্ধির আকূতি— থেকে, বেড়ে চলার প্রবণতা। বিরাট নীহারিকা জগৎ থেকে আরম্ভ ক’রে ধূলিকণার অতি ক্ষুদ্র অণু পর্য্যন্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যাবতীয় সব কিছুতে এই অস্তি-বৃদ্ধির সম্বেগ অনুস্যূত হ’য়ে আছে। এমন কিছুই নেই যেখানে এই সম্বেগ নেই। তাই নারায়ণ অনন্ত, তাঁর অন্ত করা যায় না। আর, সর্ব্বত্র আছেন বলে সমগ্র বিশ্বই তাঁর অনন্তশয্যা। তিনি ‘অনীয়সামনীয়াংসং স্থবিষ্টঞ্চ স্থবীয়সাম্’ (গরুড় পুরাণ, পূর্ব্বখণ্ড)—তিনি ক্ষুদ্র হতেও ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ হতেও বৃহৎ।
আকাশে যে বিরাট বিস্তৃত ছায়াপথ ও তৎসহ অগণিত গ্রহনক্ষত্রের ছড়াছড়ি দেখা যায়, তা’ দেখে কেউ হয়তো ভাবতে পারেন ‘ইহাই নারায়ণের মহিমা’। হ্যাঁ, মহিমা তো বটেই, তবে সেটা এই ব্রহ্মাণ্ডের। আর, তার সৃষ্টিকর্ত্তা একজন ব্রহ্মা। এইরকম অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ড আছে। সেগুলির সৃষ্টিকর্ত্তা আছেন অনন্তকোটি ব্রহ্মা, যাঁরা প্রত্যেকেই জাত হয়েছেন নারায়ণের নাভিপদ্ম থেকে। পৃথিবীর বৈজ্ঞানিকগণ এরকম অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ডের অস্তিত্ব কল্পনা করেছেন মাত্র। কিন্তু তার অতি সামান্য অংশই আছে তাঁদের অবগতিতে। আমরা এই একটি ব্রহ্মাণ্ডের বিস্তৃতি দেখেই হতচকিত হ’য়ে যাই। পৃথিবী কত বড়। এর থেকে বহুগুণ বড় সূর্য্য। আবার, সূর্য্য থেকে বহুগুণ বৃহৎ অসংখ্য তারকাও রয়েছে। এরকম সংখ্যাতীত তারকা-গ্রহ-নিহারিকা নিয়ে আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ড। এই বিপুল ব্যাপারের কতটুকু হদিশ আমরা রাখি।
        তাইতো গল্প আছে, চতুর্ম্মুখ ব্রহ্মার একবার অহঙ্কার হয়েছিল ‘আমার চাইতে বড় আর কে আছে ! আমি হলাম ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্ত্তা।’ বিষ্ণুর দরবারে তিনি জাঁকিয়ে বসেছিলেন। তারপর একে একে সেই দরবারে প্রবেশ করতে আরম্ভ করলেন দশ মুখ ব্রহ্মা, শতমুখ ব্রহ্মা, সহস্রমুখ, লক্ষমুখ, কোটিমুখ সব ব্ৰহ্মার দল। দেখে তো চতুর্ম্মুখ ব্রহ্মার চোখ ছানাবড়া। তাঁর বড়ত্বের অহঙ্কার চূর্ণ হ’য়ে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, ‘আমিই একমাত্র ব্রহ্মা নই, আরো ব্রহ্মা আছে এবং তারা আমার থেকে ঢের বেশী শক্তির অধিকারী।’ তাইতো বৈষ্ণব কবি বিদ্যাপতি ভাবাবেগে রচনা করলেন—-
‘কত চতুরানন মরি মরি যাওত
ন তুয়া আদি অবসানা
তোঁহে জনমি পুন তোঁহে সমাওত
সাগর লহরি সমানা।।’
—- কত কত ব্রহ্মা তোমার মধ্যে লীন হ’য়ে যায়। তোমার আদিও নেই, অন্তও নেই। সমগ্র জীবকুল সাগর-তরঙ্গের মত তোমাতেই জন্ম নেয় আবার তোমাতেই লয়প্রাপ্ত হয়।
উপরি-উক্ত কাহিনী থেকে প্রমাণিত হয়— ব্রহ্মা বহু, কিন্তু বিষ্ণু বা নারায়ণ একজন। এক বিষ্ণু থেকে জাত কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ড। এক এক ব্রহ্মা এক ব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা। এইরকম কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ডও যেখানে লীন হ’য়ে যায়, তা’ই নারায়ণের অনন্তশয্যা। সেই বিশাল ব্যাপ্তি, যা’ মানুষের কোনরকম ধারণাতেই আসে না, সেই ব্যক্ত অব্যক্ত সব কিছু ব্যাপ্ত ক’রে নারায়ণ বা বিষ্ণুর অবস্থিতি। সর্ব্বত্র ব্যাপ্ত হ’য়ে আছেন বলেই তাঁর নাম ‘বিষ্ণু’ [‘বিষ্ণু’ শব্দটি হয়েছে ‘বিষ্’- ধাতু থেকে, অর্থ–ব্যাপ্তি। {বিষ্ণু = বিষ্ + নুক্ (কর্ত্তরি)} মানে—যিনি সব-কিছুতে পরিব্যাপ্ত হ’য়ে আছেন।]। ‘সর্ব্বং বিষ্ণুময়ং জগৎ’—সমগ্র জগৎ বিষ্ণুময়।
        আমাদের এই গ্রহ-নক্ষত্র-পরিপূর্ণ জগৎ সেই পরম ঐশী সত্তারই ক্ষুদ্র একটি অংশ-মাত্র। তাই, নারায়ণের ব্যক্ত মানুষী তনু পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—
“বিষ্টভ্যহমিদং কৃৎস্নমেকাংশেন স্থিতো জগৎ।” (গীতা, ১০/৪২)
—এই সমস্ত জগৎ আমি আমার একটি অংশ-মাত্র দ্বারা ধারণ ক’রে আছি।
        নারায়ণের বিভূতি বর্ণনা-প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রায়ই এইসব উদ্ধৃতির উল্লেখ করতেন। মহাভাববাণীতে তাঁর শ্রীমুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে—“আমি পরমকারণ। অনন্তকোটি দেবতা, ইন্দ্র, চন্দ্র, বায়ু, বরুণ, ব্রহ্মজ্যোতিঃ, শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গজ্যোতিঃ, সেই পরমপুরুষ শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীকৃষ্ণের সত্তা, সত্ত্ব, আমিই সব। আমি সেই দয়ালদেশ, ব্রহ্মদেশ, পিণ্ডদেশ। আমি সেই বৃন্দাবন, আমি কৃষ্ণ, রাধা, গোপ, গোপী ; আমার আরতি করে চন্দ্র, সূৰ্য্য, তারকা, কোটি কোটি গগন সব আমারই লীলা, আমারই প্রকট, আমারই জন্য আমারই ফাঁদ আর কিছু নয়।” (ষট্ পঞ্চাশত্তম দিবস)। ভাবসমাধি অবস্থায় শ্রীশ্রীঠাকুরের এই বাণী কি গীতার বিভূতিযোগকেই স্মরণ করিয়ে দেয় না?
        এই হ’ল নারায়ণের স্বরূপ—যার আদি নেই, অন্ত নেই, কোন পরিমাপে যাঁকে পরিমাপিত করা যায় না। যা’ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তার মধ্যে তিনি আছেন, আবার এর পারেও আছেন। “স ভূমিং সর্ব্বতো বৃত্বাহত্যতিষ্ঠদ্ দশাঙ্গুলম্”—সমস্ত ভূত পদার্থের মধ্যে অনুস্যূত থেকেও তাকেও অতিক্রম ক’রে তিনি আছেন। সেইজন্য ব্রহ্ম বা ব্রহ্মাণ্ডের বিনাশ আছে, পরিবর্ত্তন আছে। কিন্তু নারায়ণ অবিনাশী, অপরিবর্ত্তনীয়। শ্রীশ্রীঠাকুর এই সত্তাকে তাই বলেছেন ‘পরাবর্ত্তনী সৎ’ অর্থাৎ যা’ ঠিক তেমনি থেকে চলেছে, যা’ প্রতিটি পদার্থ ও বিষয়ের মধ্যে জীবন সম্বেগরূপে অন্তঃস্যূত। আর যা’ পরিবর্ত্তনশীল, অর্থাৎ যার উৎপত্তি আছে, তার নাম তিনি দিয়েছেন ‘অপরাবর্ত্তনী সৎ’।
নারায়ণের নাভিপদ্ম থেকে ব্রহ্মার উৎপত্তি। এই নাভি কী ? শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কাছে এসব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। ব্যাখ্যা ক’রে তিনি বলেছেন, নাভি যেমন শরীরের মধ্যভাগ, তেমনি নারায়ণের নাভিদেশ বলতে বুঝতে হবে সেই বিশাল বিস্তৃতির মধ্যবিন্দু বা কেন্দ্রবিন্দু—বিজ্ঞানের ভাষায় ‘নিউট্রাল জোন্’, যাকে কেন্দ্র ক’রে ‘পজিটিভ্’ ও ‘নেগেটিভ্’ পরস্পর মিলিত হবার আবেগে বার বার আবর্ত্তিত হ’য়ে চলেছে। আর, দুই সমবিপরীত সত্তার মিলন-আবেগ যেখানে ঘনীভূত হ’য়ে ওঠে, সৃষ্টির সূচনা তো সেখান থেকেই হয়।
তা ছাড়া, মনুষ্যদেহের নাভিকুণ্ডলী খুব শক্ত। শবদাহের সময় দেহের সর্ব্বাঙ্গ দগ্ধ হ’য়ে গেলেও নাভিকুণ্ডলী সহজে পুড়তে চায় না। সেইজন্যই বোধহয়, ঘনীভূত পদার্থনিচয়ের সৃষ্টি বিরাট পুরুষের নাভিদেশ থেকেই কল্পনা করা হয়েছে।
        লৌকিক জগতেও আমরা দেখি, পুরুষ ও নারী দুইটি সমবিপরীত সত্তা। এরা ‘পজিটিভ্’ ও ‘নেগেটিভ্’ শক্তি। শ্রীশ্রীঠাকুর নাম দিলেন ‘স্থাস্নু’ ও ‘চরিষ্ণু’। এদের মিলন-সম্বেগের ভিতর দিয়েই নব প্রজন্মের উদ্ভব হয়ে ওঠে, সৃষ্টিধারা অব্যাহত থাকে। গাছ, লতা, পশু, পাখী প্রভৃতি যেখানেই সৃষ্টির প্রসার হয়েছে, সেখানেই এই সমবিপরীত সত্তা বা শক্তিদ্বয়ের পরস্পর মিলন-আকূতি আছেই। সৃষ্টির এই রহস্যটি এই জাগতিক বিষয়ে যেমন, মহাব্রহ্মাণ্ডের বুকেও ঠিক একই রকম। ক্ষুদ্ৰাতিক্ষুদ্ৰ পরমাণুর মধ্যেও এই একই ক্রিয়া বিবর্ত্তিত হয়ে চলেছে। পার্সী ভাষায় ক্ষুদ্ৰ ব্রহ্মাণ্ডকে বলা হয়, ‘আলমসগীর’, ইংরাজীতে ‘মাইক্রোকজম্’ এবং বৃহৎ ব্রহ্মাণ্ডকে বলা হয় ‘আলমকবীর’, ইংরাজীতে ‘ম্যাক্রোকজম্’। মাইক্রোকজম্-এই হোক আর ম্যাক্রোকজম্-এই হোক সৃষ্টির ক্রিয়া যেখানেই আছে, সেখানেই পজিটিভ্ ও নেগেটিভ্-এর আবর্ত্তন ক্রিয়া সতত-সঞ্চারমাণ। সর্ব্বত্রই ‘এক তরী করে পারাপার’।
        কিন্তু নাভিদেশ থেকে পদ্ম জেগে উঠল কেন ? ছবিতে দেখা যায়, সেই পদ্মের উপরে সৃষ্টিকর্ত্তা ব্রহ্মা উপবিষ্ট। এই পদ্ম কী ? ‘পদ্ম’-শব্দের মধ্যে আছে ‘পদ্’- ধাতু, অর্থ— গতি ও স্থিতি। স্থিতি মানে অস্তিত্ব। এর আর এক নাম সত্য। এই সত্য বা স্থিতিকে আশ্রয় করেই গতি এগিয়ে চলে। এক পায়ে ভর দিয়ে তবেই আর এক পা বাড়ানো যায়। তাই, গতিসম্বেগ যেখানে আছে, সেখানে অবশ্যই আছে স্থিতিসম্বেগ। বর্দ্ধন-আকূতি যেখানে আছে, তার পশ্চাতে আছে থাকার আকূতি। যা’ থাকে, তাই তো বাড়তে পারে। যার অস্তিত্ব নেই, তার বর্দ্ধনারও প্রশ্ন আসে না। স্থিতি ও গতির উপর দাঁড়িয়ে সৃষ্টিধারার এই যে প্রথম বিকাশের সূচনা তারই প্রতীক হ’ল পদ্ম।
        নারায়ণ যিনি, বিশ্বাত্মা যিনি, তিনি একক ছিলেন। যখন তাঁর বহুতে বিস্তৃত হওয়ার আকাঙ্খা জাগ্রত হ’ল, তখন তাঁকে সেই বিশেষ ইচ্ছার মধ্যে আবদ্ধ হ’তে হ’ল। এই ইচ্ছা কিন্তু একজাতীয় বন্ধন। কারণ, নিরাকার ঈশ্বর নির্দ্দিষ্ট রূপের মধ্যে সীমায়িত হ’য়ে বাঁধা পড়তে চাইলেন। অসীমের ইচ্ছা জাগল সসীম হ’তে। এরকম ইচ্ছা কিন্তু এক বিশেষ গণ্ডী বা বৃত্ত, যার মধ্যে ধরা পড়তে চাইলেন স্বয়ং বিশ্বেশ্বর। গণ্ডীবদ্ধ হওয়ার এই ইচ্ছার নাম শ্রীশ্রীঠাকুরের ভাষায় ‘বৃত্তি-অভিধ্যান’ [পুরুষ নিষ্ক্রিয়, স্বীয় ভাবে স্থিত। কিন্তু সৃষ্টির জন্য চাই বৃত্তি-অভিমুখিনতা, অর্থাৎ কোন-একটা বিশেষ ভাবনার বৃত্তের মধ্যে অভিনিবিষ্ট হওয়া। তা’ না হ’তে পারলে সৃষ্টিক্রিয়া সম্ভব হয় না। ইহাই ‘বৃত্তি-অভিধ্যান’।]। পরমপুরুষের যদি বৃত্তির উপর অভিধ্যান না হ’ত, অথবা অন্য কথায় বৃত্তের মধ্যে ধরা পড়ার ইচ্ছা না হ’ত, তাহ’লে বাক্য ও মনের অগোচর ঈশ্বর কখনই বিভিন্ন রূপে রূপায়িত হ’য়ে সারা বিশ্বে প্রকটিত হ’য়ে উঠতেন না। তিনি যেই বৃত্তি অভিধ্যানে রত হলেন, অমনিই সৃষ্টির সুরু হ’ল, রূপ নিল স্থিতি ও গতি। ভাবগম্ভীর মন্ত্রধ্বনিতে উচ্চারণ করলেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র—-
“স্ব-অয়নস্যূত
গতি ও অস্তি
বৃত্ত্যভিধ্যান-তপস্যায়
অধিজাত হইল।” (প্রার্থনা)
        নাভিপদ্মের উপরে জন্মগ্রহণ করলেন ব্রহ্মা। তিনি কে ? ‘ব্রহ্মা’- শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘বৃংহ্’-ধাতু থেকে, অর্থ–বৃদ্ধি, দীপ্তি। তাহলে যেখানে প্রকাশ আছে এবং বর্দ্ধনার আকূতি আছে, তাই ‘ব্রহ্ম’ বা ‘ব্রহ্মা’। শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—-
“যিনি
সব যাহা কিছুতে
বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়া দেদীপ্যমান,—-
সেই ব্রহ্মাকে নমস্কার করি।” (প্রার্থনা)
        দ্বিজগণ সন্ধ্যা-আহ্নিকের সময় “নমো ব্রহ্মণে” বলে ব্রহ্মকে প্রণাম করেন। কিন্তু ঐ পর্য্যন্তই। সেই ব্রহ্ম কে ? কেন তাঁর অমনতর নাম, তাঁকে নতিই বা জানাতে হবে কেন, এসব কথা জানা ও বোঝা হয় না। জানাতে ও বোঝাতে পারেন একমাত্র সদ্-গুরু। তাই সদ্-গুরু লাভ না হ’লে মানুষের বোধের দ্বারই উন্মুক্ত হয় না।
        ব্রহ্মা থেকে ব্রহ্মাণ্ডের উদ্ভব। তাই, নারায়ণ সৃষ্টিকর্তারও উৎস। নারায়ণপূজা মানে সমগ্ৰ সৃষ্টির উৎসের উৎসকে ধ্যান করা ও সংবর্দ্ধিত ক’রে তোলা।
        মূর্ত্তি ছাড়া শালগ্রাম শিলাতেও নারায়ণপূজা করা হয়। শালগ্রাম-শিলার মধ্যে নারায়ণের কল্পনা কিভাবে হ’তে পারে ? শোনা যায়, ঐ আকারের পাথর নাকি দক্ষিণ ভারতে নর্ম্মদা নদীর তীরে অনেক পাওয়া যায়। তা’ ছাড়াও পাওয়া যায় হিমালয়ের স্পিটি এবং গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলে। কিন্তু নারায়ণ শিলার আকারটি ডিম্বাকৃতিই বা হ’তে হবে কেন ? এসব নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল দয়াল ঠাকুর শ্রীঅনুকূলচন্দ্রকে। যে-ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন তা’ নিম্নোক্ত রূপ—
শালগ্রাম-শিলা হ’ল ব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক। ব্রহ্মাণ্ডের আকৃতিটা ডিম্বসদৃশ (ডিমের মত আকার), মানে, ঠিক নিখুঁত জ্যামিতিক বৃত্ত নয়, বরং বলা যায় খানিকটা বৃত্তের মত। শ্রীশ্রীঠাকুর এর নাম দিলেন ‘বৃত্তাভাস’। এই বৃত্তাভাস-গতি ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি ধাপে বর্ত্তমান। সূর্য্যকে কেন্দ্র ক’রে গ্রহগণ যে কক্ষপথে আবৰ্ত্তিত হ’য়ে চলেছে সেই কক্ষপথও ডিম্বাকৃত। ব্রহ্মাণ্ডের সর্ব্বস্তরে এই যে ডিম্বাকৃতি গতি বিদ্যমান, সেই আকৃতিরই প্রতীক ঐ শালগ্রামশিলা। সেইজন্য শালগ্রামশিলা ডিম্বাকৃতি হওয়াই বিধেয়।
        নারায়ণ পূজা মানে নারায়ণের প্রীতিকর কর্ম্মের অনুষ্ঠান করা এবং তাঁর অনভিপ্রেত কিছু না করা। অন্য কথায় বলতে গেলে, মানুষের জীবনবৃদ্ধি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে তাই ক’রে চলা এবং যে চিন্তা বা কর্ম্ম সুস্থ দেহ-মন নিয়ে বেঁচে থাকার ব্যাঘাত ঘটায় তা’ বর্জ্জন করা। ক্রিয়াযোগসারে (১৮শ অধ্যায়) নারায়ণের প্রীতিকর কর্ম্ম বলা আছে—সর্ব্বভূতে দয়া, নিরহঙ্কার, তাঁর উদ্দেশ্যে ভক্তিপূৰ্ব্বক ধৰ্ম্মকাৰ্য্যানুষ্ঠান, যথাৰ্থ বাক্য-কথন, মিষ্ট বস্তু তাঁর উদ্দেশ্যে নিবেদন, পরহিংসাবিহীনতা, মান-অপমান তুল্যজ্ঞান, গো ও ব্রাহ্মণ-হিতৈষিতা, শাস্ত্রনিয়ম-পরিপালন, উপকার প্রত্যাশা না করে দান, ইত্যাদি। আর, নারায়ণের অপ্রীতিকর কর্ম্ম—হিংসা, ক্রোধ, অসত্য, অহংঙ্কার, ক্রূরতা, পরনিন্দা, পিতা-মাতা-ভ্রাতা-পত্নী-ভগিনী ত্যাগ, গুরুজনের প্রতি কটুবাক্য প্রয়োগ, শ্রেয়জনকে অবজ্ঞা, পরদ্রব্য হরণ, জলাশয় নষ্টকরণ, পরস্ত্রীদর্শনে আকুলতা, পাপচর্য্যাশ্রবণ, অনাথ ব্যক্তিকে দ্বেষকরণ, বিশ্বাসঘাতকতা, বেদনিন্দা, পরদারাসক্তি, মিত্রদ্রোহ, বৈষ্ণবনিন্দা, ইত্যাদি। দেখা যাচ্ছে, এই অপ্রীতিকর কর্ম্মগুলি অপরের ক্ষতি করে, সমাজের অমঙ্গল করে, নিজের মনকে সঙ্কুচিত করে, শরীরে অবসাদ আনে, মনে সবসময় একটা ভয়-ভয় ভাব থাকাতে মনের প্রসারতা নষ্ট ক’রে দেয়। ফলে, বিস্তারের পথও বন্ধ হয়। আর, বিস্তার বা বৃদ্ধির পথ যেথানে নেই, সেখানে নারায়ণও নেই।
        নারায়ণ জীবনের পথ ও বৃদ্ধি পাওয়ার পথ। এ পথের পরিপোষণ যাতে হয় তা-ই প্রকৃত নারায়ণপূজা। আর, ঐ পথ বাদ দিয়ে হাজার ‘নারায়ণায় নমঃ’ ব’লে ফুল দিলে বা ‘নমো ব্রহ্মণ্যদেবায়’ ব’লে আভূমি প্ৰণাম করলে কোন লাভ হয় না। নারায়ণ সেবা শুধু বিশেষ সময়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই সংঘটিত হ’য়ে থাকে তাই নয়। জীবনের প্রতি পদক্ষেপেই আছে নারায়ণের সেবা। এ ব্যাপারে দয়াল ঠাকুর শ্রীঅনুকূলচন্দ্র আমাদের বিশেষভাবে সজাগ ক’রে দিয়েছেন তাঁর অজস্র বাণীর মধ্য দিয়ে। একটি উদাহরণ নেওয়া যাক।
        সৎসঙ্গীগণ নিয়মিত আহার্য্যগ্রহণের পূৰ্ব্বেই ইষ্টাৰ্থে ইষ্টভৃতি নিবেদন করেন। ইষ্টভৃতি প্রতি ত্রিশ দিনে ইষ্টসন্নিধানে পাঠিয়ে দিতে হয়। ইষ্টভৃতি যেদিন পাঠানো হয়, সেদিন দু’জন গুরুভ্রাতাকে দুটি ভ্রাতৃভোজ্য দেবার নিয়ম আছে। কেউ যদি কোন কারণে অবজ্ঞা ক’রে ঐ ভ্রাতৃভোজ্য গ্রহণ না করে, তাহলে সে নারায়ণকেই অস্বীকার করে। সে যতই চোখ বুঁজে ‘ধ্যেয়ঃ সদা সবিতৃমণ্ডল-মধ্যবর্ত্তী…..’ বলুক অথবা মুখে ঠাকুর-ঠাকুর করুক, নারায়ণ তাতে প্রীত হ’ন না। এবিষয়ে একটি ছড়া দিয়েছেন যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্ৰ—-
“ইষ্টভৃতির ভ্রাতৃভোজ্য
অবজ্ঞা ক’রে নেয় না,
পায়ে লক্ষ্মী সেই তো ঠেলে
নারায়ণে চায় না।”
(অনুশ্রুতি ১ম খণ্ড, ইষ্টভৃতি স্বস্ত্যয়নী অধ্যায়, বাণী সংখ্য ২৭)
        এরকম আরো বহু বাণী ও ছড়ার মাধ্যমে শ্রীশ্রীঠাকুর দেখিয়ে দিয়েছেন দৈনন্দিন প্রতিটি ব্যাপারে ও বিষয়ের মধ্যে কিভাবে নারায়ণসেবা ওতপ্রোত হ’য়ে আছে।
কথিত আছে, নারায়ণের স্ত্রী লক্ষ্মীদেবী। লক্ষ্মী হচ্ছেন ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। তাঁর কৃপা হ’লে অর্থসম্পদ লাভ হয়। এই উদ্দেশ্যে গৃহস্থের বাড়ীতে কত ঘটা ক’রে লক্ষ্মীপূজা হয়, লক্ষ্মীর আড়ি পাতা হয়, আলপনা দেওয়া হয়, ইত্যাদি। কিন্তু বহু আড়ম্বরে লক্ষ্মীপূজা করার পরেও হয়তো দেখা যায়, গৃহস্থের দারিদ্রদশা ঘুচছে না, ঘরে তার লক্ষ্মীশ্ৰী কিছুতেই থাকছে না। কিন্তু তা’ তো হওয়া উচিত নয়। যে-কাজের যে-ফল তাই-ই হওয়া উচিত। লক্ষ্মীপূজায় লক্ষ্মীলাভ হওয়াই উচিত। তা’ যখন হচ্ছে না, তখন বুঝতে হবে সেই ক্রিয়ায় কোন গোলমাল আছে। আরো পরিষ্কার ক’রে বলা যায়, লক্ষ্মীপূজাই বিধিমত হচ্ছে না।
        তা’হলে কেমন প্রক্রিয়ায় লক্ষ্মীর আরাধনা ঠিকমত করা হয় ? এ সম্বন্ধে অপূৰ্ব্ব সমাধানবাণী এনে দিয়েছেন যুগত্রাতা পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্ৰ। আলোচনা-প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন একদিন—-
        “নারায়ণকে খুশি করতে পারলে লক্ষ্মী আপনি এসে ধরা দেন, আর নারায়ণকে তোয়াক্কা করে না, সতী-স্ত্রী-লক্ষ্মী কি তার কাছে এগোন ?” তিনি তাকে এড়িয়েই চলেন, সে তাঁকে যতই তোয়াজ করুক না কেন। নারায়ণ মানে বৃদ্ধির পথ, মূৰ্ত্ত নারায়ণে যুক্ত হ’য়ে তাঁকেই মুখ্য ক’রে বাস্তবভাবে বৃদ্ধির পথে, বিস্তারের পথে চলতে হবে। তবেই নারায়ণ পূজা সাৰ্থক হবে, লক্ষ্মীও বরণডালা সাজিয়ে নিয়ে এসে ধরা দেবেন। এ বাদ দিয়ে উন্নতি যে হয় না, তার কারণ, মানুষ প্রবৃত্তিপন্থী হ’য়ে পড়লে তার কাছে টাকা বড় হয়, মানুষ হ’য়ে যায় ছোট, সে মানুষের সংস্রব হারায়। একটি ছোট্ট ছড়াতে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—
“মানুষ আপন টাকা পর
যত পারিস্ মানুষ ধর।”
অন্যত্রও বলেছেন, “মানুষ হ’ল লক্ষ্মীর বরযাত্রী।”
এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, নারায়ণকে প্রীত করতে না পারলে লক্ষ্মীর অনুগ্রহ লাভ করা যায় না। আর, নারায়ণের সেবা মানে মানুষের সেবা—মানুষ যাতে সুস্থ নীরোগ সুদীর্ঘজীবী হ’য়ে থাকে তাই ক’রে চলা। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই কমবেশী প্রবৃত্তির অধীন। প্রবৃত্তিপথ হ’ল ঈশ্বরের বিপরীত পথ বা শয়তানের পথ। প্রবৃত্তির অধীন থেকে যদি আমরা লোকসেবা করতে যাই, তাহলে মানুষের সর্ব্বাঙ্গীণ সাত্বত কল্যাণ করা কিছুতেই সম্ভব নয়। কারণ, প্রবৃত্তিপাশের মধ্যে আছে দম্ভ, অভিমান, লোভ, স্বার্থপরতা, ঈর্ষ্যা, আত্মম্ভরিতা প্রভৃতি। যে-মানুষের মধ্যে এসব বর্ত্তমান, সে তার কথা ও কাজের মধ্য দিয়ে তারই অভিব্যক্তি দিতে পারে মাত্র। সে মানুষের জন্য কিছু করতে গেলেই তার মধ্যে প্রাধান্য পাবে ঐ অবগুণগুলি। ঈশ্বর চান মিলন, আনন্দ, স্বস্তি, মনের প্রসারতা, সহ্য, ধৈর্য্য, অধ্যবসায়। প্রবৃত্তি-অধীন মানুষের এসব গুণ থাকে না। তার নিজের ব্যাপারটাই তার কাছে সব চাইতে বড় হ’য়ে দাঁড়ায়। প্রবৃত্তির বৃত্তেই সে ঘুরপাক খেতে থাকে। তার বাইরে কিছু দেখার শক্তি তার থাকে না। সে হয় আত্মকেন্দ্রিক। তাই, অপরকে সে বুঝতে পারে না, বুঝতে চায়ও না। মানুষের সত্তাগত স্থায়ী কল্যাণসাধন করা তার পক্ষে অসম্ভবই হ’য়ে থাকে। কেউ যদি হয় স্বার্থপর-মনোবৃত্তিসম্পন্ন, সে সব কাজের মধ্যেই কিভাবে নিজের দু’পয়সা হবে, কতটুকু লাভ হবে, সেই ধান্ধা নিয়ে চলবে। কেউ যদি অহংকারে মদমত্ত বা আত্মপ্রতিষ্ঠা-পরায়ণ হয়, সে সব ব্যাপারের মধ্যেই তার প্রধানত্ব যাতে অটুট থাকে তাই ক’রে চলবে। তার সমকক্ষ বা তার চাইতে বড় এমন কাউকে সে সহ্য করতে পারবে না। তার নিজের নাম-যশ ও প্রতিষ্ঠা নিয়ে যেখানে মাতামাতি হয় না, তা’ যত মঙ্গলকর বিষয়ই হোক, সে বিষয়ে তার কোন আগ্রহ থাকে না। মানুষকে বড় ক’রে তোলা বা অপরের ন্যায্য প্রশংসা করা তার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। তার ঠুনকো মনের বড়াইয়ে সে উচ্চকেও শ্রদ্ধা করতে পারে না। এইভাবে প্রতিপদে তার মানুষের সাথে অসহযোগ হ’তে থাকবে ; মানুষের সত্তাগত প্রয়োজন বুঝে চলা তার পক্ষে অসম্ভব হবে। সেইজন্য, প্রবৃত্তির আকর্ষণের উপরে উঠতে না পারলে মানুষের প্রকৃত সেবা করা সম্ভব নয়।
কিন্তু নিজ চেষ্টায় প্রবৃত্তির উপরে ওঠা যায় না। এজন্য চাই একটা অবলম্বন, যাকে ধ’রে উঠতে হবে। সেই অবলম্বন-দণ্ডই হচ্ছেন মানুষের ইষ্ট, সদ্-গুরু— মূর্ত্ত নারায়ণ। তাঁর উপরে টান হ’লেই অন্য সব টানের শক্তি কমে যায়। এইভাবে কাটানো যায় প্রবৃত্তির বাঁধন। তাই তনিই একমাত্র উপাস্য, আরাধ্য, শরণীয়।
        ঈশ্বর অব্যক্ত, অচিন্তনীয়। তাঁকে চিনিয়ে দেন, জানিয়ে দেন ঐ ইষ্টগুরু। তাই, ‘তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ’। সেই নারায়ণের পরম পদ (‘তদ্-বিষ্ণোঃ পরমং পদম্’) যিনি দেখিয়ে দেন তিনিই মানুষের ইষ্ট, আচার্য্য। তিনি স্বয়ং ঘোষণা করেন, ‘আমাকে আচার্য্য ব’লে জানবে’ (শ্রীমদ্ভাগবত)। আর, সেই পরম পদ কী ? পরম মানে শ্রেষ্ঠ, আর ‘পদ্’- ধাতুর অর্থ– গতি, চলা। তাই, পরম পদ মানে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ চলার রীতি। সে-রীতি হ’ল বাঁচাবাড়ার পথ, স্বস্তির পথ, শান্তির পথ–যা’ মানুষের পরম কাম্য।
        বিষ্ণু সেই পরম পদে নিত্য অবস্থান করেন, মানে বিশ্বজগতে সাত্বত বিধি হিসাবে তিনি নিত্য বর্ত্তমান। জীবন ও বর্দ্ধনকে কেন্দ্র ক’রেই আবর্ত্তিত বৈষ্ণবীয় নীতি। বিষ্ণু কখনও তাঁর এই পথ থেকে চ্যুত হন না। তাই, তাঁর আর এক নাম ‘অচ্যুত’। আর, মর্ত্ত্যধামে তাঁরই জীয়ন্ত সচল রূপ হলেন গুরু-পুরুষোত্তম।
        বিশ্বেশ্বর নারায়ণ যখনই গুরুরূপে মানুষী তনু আশ্রয় ক’রে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন, তিনি শিখিয়েছেন নারায়ণ-উপাসনা। নানা ইঙ্গিতে কখনও স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনিই সেই। তাঁর আদেশ পালন ক’রে চললে, তাঁকে তৃপ্ত ও প্রীত করতে পারলেই প্রকৃত নারায়ণ পূজা করা হয়।
        যুগে যুগে এই বার্ত্তা নিয়ে এসেছেন প্রেরিত পুরুষগণ। কলির এই শেষ যামে জগতের জন্য সেই শিক্ষা নিয়ে আবার আবির্ভূত হলেন পরম দয়াল শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্ৰ। মানুষকে তিনি নারায়ণমুখী ক’রে তুললেন। দৈনন্দিন জীবনের আচরণের ভিতর দিয়ে তিনি দেখালেন নারায়ণপূজা কী ! আবার, কথাপ্রসঙ্গে মাঝে-মাঝে প্রাণদোলনী সুরে ও ছন্দে তিনি গেয়ে উঠেছেন—-
        “নারায়ণঃ পরা বেদাঃ নারায়ণঃ পরাক্ষরাঃ।
        নারায়ণঃ পরা মূর্ত্তির্নারায়ণঃ পরা গতিঃ।।”

 ———- eirsIEuh/KUA2kNfpayELJbP6JyerijlSrUUXP/UY8TTpZs1zb5bgHLyGZwlDImJtkGLyWuRX1s0BtsG9eGpIE7SOA3Lsdp8M9LPMH+7aKpTakFZG1/WDSwa5saPTtqpvKw4n9ZcCVL3/979SMBFx52ondXgPnYjVzMdeVr3GR4uT05ymjwgFVYYVmFFzSXDtW5Vh3vYIqkFxwJua1wmyXbgZLcvEire3YmHDjo3yIFThExU4ZySW1H5R4FBnvPr9ASHKDWOBy8w+V5APsbKtRvmBtS5uJrmpXQIBVs1g+vf/uQ7YELwDQaPXHP6BEScJ4/9ROtt3WnWJZfq8vHYfCiAdlwPsjxztGMOhMmr+bEOoZ4UWNaZlUU9W11agksVj7IEpv8e1aGyw2cNSf6VpdrKXMxOMTYbR5bbm1D7SVU5PaMWjfLapHueDtSUdvSAn6nrIx9KtAdCibrLn4cOuz6B+fCUMWvgoZCwIisKHswEGRRu4jDenN6FtX0PoW7XpwyHSy18AvW7Ii24h0jSp7irDaM9ri3lVW+wpp7bnYFFR3EnYmuhIV07T6pZO3PvhKVt5Znza1GH/Z2eUZj9lw+inbZuNqPk88Qy2JR2RCKRYfx/5JnqkaWlpfwzXfj02/h4B5l9GWZiMUbHMD1NatcJRrDklnHHPD7sEfO4y7u2Z5jjfvv29nLwacZsaJdXW9fLo2BJsMN6DIkt292T0Y35BSXETd4SIG0ePzGlZqvL1lEP0lpw/dbHXieowjmLhobgn91JLRps1VRD8M/vpKYJqn0QfwZ/ARRiRF6IsZdJ1/6bQq0Q5ENZI5E98FB6Bf/R7RJfzEV/EiLvSWuoF4OlFiati3qyVB3PK6UKCwU80S58wCfdLtQhfiJHHL5kXIDMgDLGxxkU1uwvAijI+qZTAD8quaO5vKnwJ8mV/HNryL9O8iBHAAwp+UOGrfcLO/9aNhTyB/fI15YNDfrDcxtlngtqLWpm8CJqPGsCyJsmgHyJEKDB5aosLuLHsQYCmyZB4BIhQda1BviDJId2sybmVZKcUqe88NTCiXR0SA6uv+ruD9e1XXZYZPt5pcZ94cUBp5eykSWOIGC5bMLtOLEK9/YufNsfkUdHEkdGI0fikSPh4ciRmIuRDCJPKNz1PhbDtXU4TlyXR0kEP9HlDrN3Lw+gKxkeFIGcYlYWlPKyWpnQKhAoEt6JzRV8gwXXP/LjPxKsQbjMinuDL7qHnpnW6PcGb71HfG4aJEKQo3Bxpy795BY0xHBZqGK+Z7KglUqYMifUM2phRtPDlukXlmSMIuQyw8gg1np0JJJ8C166njUjsQg+1V/yB48Esvia6PaEiUUk78rRqG9JwrdkJCJ5d1MXzZEIvmpeWhfNkQuDZqwOmrgnTM2XMTQvDDaPg5q4I4zmy+uj6Y+M/wDOMZojgObt9dF8nLN+9mi2IW5DkXwVtklzhHcEGx2Shefil/z4kZdskT7+9A5+egc/vYMvqR18RZ0d3Ojav59vfgL7N7LRxmh4EmyMS2oq7wggjrhYgrz4pKu7nJpcywkcy+lqWpyap1aHs4ZuOQFOzwXXX/bF97g5SluoCN52T02u7he7WMosmK2JZgnSS6giYDE9wWxaFozlZTCNPcNrXnajNlbseGNsRZfRisk+1M5KOQuhrZJV7DLJo5KEleNlJD4UI9ZBmMfv8UCEBjrEuLi7OHuc8g5ORKBJ2EYRLr2PF0FOavo5R8LKc8RZrw1zYoe0RihCXCysWCVTWlmFOIxrwfX/+eP7BXvlPvCOoeHqbahF0OssTk25YpSKAr7Ea3XZw0T13HUd4Lt2rcc2l8PIexvRFSdXVLWAxSujUDgB6l2wKSShrkgBCRkL2qLjqN0qtkjfk5VRPwnyVoIwCHmPlqQOd1PJOdRNvuEKXg3WVNioi+Sv8RphubZHaaMGOBL1EE02jaclx72FQbxO+pj8jg8dGXyTTsOkzWhFlcSsEUNbd87Pj89PAxC4LduPHnl5Gwoclng53VGBdDs5mcijR4J5rUq/fd677vHqmhoUXqRxw7G5iNqcTqG94PpP7/uTzQZq6LbfkMZI9ME4s0OTfgt142Zxe2ayWiyBRpsF1zSD6x/457eR1zPw0zbMyvWaqVVwN+2oFRJWMLAOGTTMIkiHTB6tiOGbHB3jX+xwlyrawbo8YSwbS0spBZyz3/HQm4Qd3ukBhfvic4uIlNvGd3JDQPodFLeMP3V1dSBXVklQCaUwsDhNzD6t1DoDZXx94s+aPjAzDBruCG8Juk/aO4mrLk7TlAHHjDJDa9Ju0IRbjstJA3Q9gXamUwusjo8NBxcnq4+FGLPu64QYLuvfAyjkJCxiwwLND0l1h1G+ylbN2e8BQdTlVJk1bGgzeY31ujKnZ7xB8J0SDPlVvxYNsOpLS3XqD/rUT+2XWkfAPjw2Rm3kR91vEMRwSnpPIwphEh7lom7TaCWMksnvBtCOWXV1sqAquB/7JULuQ21WeIQMMdqSWk1ypz8DDGrkMOp3InlTgAxeDlyiglanT1negZoqyrKEoG4GV8xkswW027qiSOfVEoRgm1ib0Co6ZsDRbh5nzqyXYI+G6pXO6eOFwng5B6G7cjSm+BXOw2KErJAREt1wZJSn2qn7X/LAz9vBFLfessuhLodgi9NcTOG8vAe1kLg1kg+I3IGa06qal7bKETkSScgj2V1ImtaJgbJatmvgq5m+4WZ3SR7F8JTPDccZwcr6Tz77s5YbAoNdpP1hWQ5HRuLgZDoSTcQS8f8PMqBS/IaOBgA=”,”variations_country”:”in”,”variations_last_fetch_time”:”13237286075987500″,”variations_permanent_consistency_country”:[“49.0.2623.112″,”in”],”variations_seed_date”:”13237286017000000″,”variations_seed_signature”:”MEYCIQC6MAkyVYwkP1Zl

EDUCATION IN ENGLISH

EDUCATION : 
(in respect of
“Teachers’-day” )
By the greatest teacher of mankind Shree Shree Thakur Anukulchandra
EDUCATION IN TRUE SENSE
“Education in its true sense
creates adjustment of 
intra-cellular substance
through proper exercise;
intelligence and character evolve
and with due marital combination,
progeny improves.”

EDUCATION IS TO KNOW
EXISTENCE 
“Education
is to know existence
in consonant contrast
to environment
by doing and discerning.”

READ man AND KNOW
“Read man and know
and drive your knowledge
to his welfare.”

METHOD OF IMPARTING EDUCATION
“Let the method
and device of your
process of imparting education
be according to the
dealings and characteristics
of your students
and let the way
of laying it down
before them
be tactful, sweet
and touching
by which
the characteristic interest
of your pupil
becomes glaring
and they become interested
and adjusted
in your mission of training
with jolly propitious propagation;
thus rouse their interest
towards your mode of delivery
and attributes of teaching
that inspire their awe and regard
for your personality;
and infuse your
affectionate dealings
into their mind.”


NURTURE THY PUPIL

“Do nurture thy pupil
with delighting educative talks,
and want something form him
from time to time
without any selfish loll
by which he can feel exalted,
and often
express to him thy bidding wishes
to perform something
at thy or others necessity
with enlightening encouragement
and with every pious aptitude
which helps his educative
active urge;
this elating active attitude
will make him
inquisitive with active ardour,
and he will try to be active
with elevating valorous admiration;
thus he will gradually
gain experience
with intelligent go of life.”


“Systematic organisation of habits and instinct, for the purpose of fulfilling, the becoming of life, by a graduated active manipulation of behaviour, may be called education.”
(জীবন বিকাশের উদ্দেশ্যে নিজ আচরণসমূহকে সহজাত সংস্কার ও স্বীয় অভ্যাসগুলোর সাথে সুব্যবস্থিত ও সুগঠিত করে তোলার নাম শিক্ষা ।)

“Adherence to and admiration for the teacher is the key in education process.
Education means conduct, behaviour and character. It neither lies in books nor is created in school campus. It sprouts through affectionate service to Acharya possessing integrity.”
(Alo. Pra. Vol. 8/18.5.46)
“Mere literated learning is not education ; 
trained habits which induce intelligence with every consistency and make the system habituated accordingly is education.”
(The Message, Vol. VIII/62)
“If there is an inventive and research attitude in learning process, then the learning does not become taxing.
Similarly, if you try to teach others, then your own understanding become clearer.
Wherever there is a possibility to forget, then its needs to be repeated, and recapitulated.”
(The Message, Vol. VIII/57)
‘VEDA’ AND ‘BODHA’
To know
is to know a thing
in contrast with others
with its constituents, construction
and action and reaction—
not only part
but as a whole—
and to apply it
accordingly
to many things
by which
it is conditioned,
acted on
and reacts
according to its
elementary constitution;
thus,
knowledge grows
both analytically and synthetically
with its attribute and action
wholly and partly;
this kind of knowledge
is known as ‘Veda’
thus,
‘Veda’ means knowledge
—to feel and to know
With all thoroughness;
‘Veda’ and ‘Bodha’ mean
To know and to feel.”
EDUCATION WITHOUT CHARACTER

“Where education 
does not collaborate
with character and conduct, 
it is merely 
an induction
of knowledge
without an all-round association
with facts
that make
the personality
of our inner being
grow,
effulging
into peaceful fellow-feeling
with sympathetic service
to one’s existential uphill
momentum.”

BE POSITIVE
“See an affair positively
think it with all positive essence,
discern and adjust it
with its connoting meaning
and keep the negative
adjusted with its negative spirit;
serve analytically
and synthetically
and raise from it
the positive essence
of existential go
by which it is maintained
and becomes proptitious to you
and others too;
so, see with every positiveness,
think with every positiveness,
speak with every positiveness,
do with every positive uphill go
and keep the negative
as a negation of positiveness,
thus be wise positively.”

HABIT IS TO ‘HAVE IT’
“Go on
with your habits
until you ‘have it’—
the existential go.”

EGO OF KNOWLEDGE
“Ego of knowledge
without practical experience
is a debilitated downfall
of learning.”
LEARN FROM VARIOUS ASPECTS
“Learn
through enjoyment
learn
through exercise
with every interest
and keen observation;
learn
through fear
observing all the affairs
with interest
which make your existence
shaking;
learn
from devout urge
on which you can stand
all through
in an unshaken condition,
laying out
all intelligent tactics
and desisting from all evils;
learn
from foe
how to combat,
how to deal with him
intelligently
and how to make him appeased
without any suffering;
learn
from beauty
which makes your heart
flourish to bloom
with all attitude and action
how it makes you so
and all thoughts
that follow accordingly
occur
thus,
make yourself
all-round in experience
which comes out
through
your keen observation
and active energetic urge;
remember however,
while doing any work,
you have to perform it
without forgetting anything
with all beauty, 
in good time
and temper.”

Top of Form


 * EDUCATION : in a true sense * 
by Shree Shree Thakur Anukulchandra
“Adherence to and admiration for the teacher is the key in education process.
Education means conduct, behaviour and character. It neither lies in books nor is created in school campus. It sprouts through affectionate service to Acharya possessing integrity.”
(Alo. Pra. Vol. 8/18.5.46)
“Mere literated learning is not education ; 
trained habits which induce intelligence with every consistency and make the system habituated accordingly is education.”
(The Message, Vol. VIII/62)
“If there is an inventive and research attitude in learning process, then the learning does not become taxing.
Similarly, if you try to teach others, then your own understanding become clearer.
Wherever there is a possibility to forget, then its needs to be repeated, and recapitulated.”
(The Message, Vol. VIII/57)

PRIMAY EDUCATION

প্রাথমিক শিক্ষা সম্বন্ধে শ্রীশ্রী ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গী

” প্রশ্ন—প্রাথমিক শিক্ষা compulsory করবার যে আন্দোলন দেশময় চলছে, তা কেমনধারা হ’লে জাতির বাস্তব উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে?

শ্রীশ্রীঠাকুর- Primary education আমার মনে হয় upto present matric standard compulsory হওয়া উচিৎ। এটা thoroughly practical nature-এর মধ্য-দিয়ে যা’তে grow করে তার ব্যবস্থা করা উচিৎ। Practical-এ চোস্ত থেকে যদি Theoretical-এ একটু-আধটু খাঁকতিও থাকে তা’ নিয়ে খুব একটা ঝোঁকাঝুঁকি না করলেও চলতে পারে—কারণ, হাতে-কলমে জানার ভিতর-দিয়ে মানুষের instinct ও temperament অনুপাতিক theoretical যা’ তা’ automatically গজিয়ে উঠতে থাকে। আর এই যে Practical education—এটার main move হওয়া চাই from an inclination to fulfil the Master beloved by serving the environment through inquisitive acquisition-finding out the necessities of every individual for the acceleration of further becoming with a firmness of being.

As a common sense প্রত্যেক student এর ভিতর যদি এটা grow করে, তবে তারা যেখানেই দাঁড়াবে সেখান থেকেই service দিয়ে, পারিপার্শ্বিক–যা’দের service দেওয়া হয়েছে–তা’দের স্বার্থ হয়ে জীবন-চলনার লাওয়াজিমা যে নিঃসন্দেহে সংগ্রহ করতে পারবে-সে-সম্বন্ধে ভাবলেও আনন্দ হয়. আবার শুধু Compulsory education নিয়েই যদি হট্টগোল করা যায়, আর উক্ত রকমটা as a common sense যা’তে ছাত্রদের ভিতর গজিয়ে ওঠে তার চেষ্টা না করা যায়,–তা’হলে যত বিদ্যা, যত degree , বেকার-সমস্যার degree-ও যে তত হবে তা তো স্বচক্ষেই দেখতে পাচ্ছেন,–আমার তো এই ধারনা।

শুনেছি England-এর I.C.S trainning নাকি অনেকটা অমনতর। তাই বোধ হয় দেখা যায় I.C.S.-রা বেশীর ভাগই successful in their field of service. আমাদের যে matric standard-এর compulsory primary education-এর কথা বললাম—ঐ রকমের ভিতর-দিয়ে miniature I.C.S-মাফিক bringing up ঘটাতে পারলেই বোধ হয় অনেকটা সার্থক হওয়া যেতে পারে।”

নানা প্রসঙ্গে । ২৫শে শ্রাবণ, ১৩৪২ ।

Top of Form

Bottom of Form

AAHARSHUDDHU

                        ।। রোগ-প্রতিরোধে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।

পংক্তি-ভোজন না করাই ভাল,
        যদি কোথাও করতে হয় —-
এতখানি দুরত্ব অবলম্বন করা উচিত
        যা’তে অন্যের হাঁচি,  কাশি,  থুতু
                নিঃশ্বাস বা বাতাসের সাথে
                  তোমাদের ভিতরও পরিবেষিত না হয়  ;

সব সময়ই
      সদাচারের সার্থক ব্যবহারে
              যতই দক্ষ হ’য়ে উঠবে —-
      দুষ্ট আক্রমণের হাতও
              ততই এড়িয়ে চলতে পারবে,
      ভাতই হো’ক,  লুচিই হো’ক,
      ডাল-তরকারী যা’ই হো’ক,
নাকে, মুখে,  গুহ্যদেশে (মলদ্বার)
              বা শরীরে হাত দিয়ে
       কাউকে পরিবেশন করতে যেও না,
       তা’তে হয়তো অন্যের ক্ষতি হ’তে পারে,
আর, সে-ক্ষতি
     তোমাতেও সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা
                                                    ঢের বেশী  ;
নিজের বিছানা,  কাপড়,  বালিশ ইত্যাদি
                নিজেই ব্যবহার ক’রো,
অন্য কেউ ব্যবহার করতে হ’লে
       তোমার অব্যবহৃত জিনিসই দিও,
এবং পরে তা’ উপযুক্তভাবে
               পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ক’রে রেখো,
অন্যের বাসন ব্যবহার না করাই ভাল—
     করলেও উপযুক্তভাবে পরিশুদ্ধ ক’রে,
ব্যাধিমুক্ত নিকট-গুরুজন ছাড়া
              কা’রও এঁঠো-পাতে খেতে নাই,
এগুলো ছোট্ট জিনিস হ’লেও
        অসতর্ক চলনে চললে
                   খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা ;
খাওয়ার সমময় এমনতর শব্দ, ভঙ্গী
       বা রকম ক’রো না —-
             যা’তে অন্যের বিরক্তি বা ঘৃণা
                     উৎপাদিত হ’তে পারে,
এক হাতে খাচ্ছ, অন্য হাতে শিকনি ফেলছ—-
                     তা’ কিন্তু ভাল নয়কো,
তা’তে অন্যের ঘৃণা তো হ’তেই পারে 
                       নিজেরও খারাপ হ’তে পারে,
শিকনি যদি ফেলতেই হয় —-
        কাছে এমনতর
ব্যবহারোপযোগী পরিষ্কার ন্যাকড়া বা কিছু রেখো,
       যা’তে শিকনি ঝেড়ে
               হাত ধুয়ে
                    তুমি খাদ্যবস্তু গ্রহণ করতে পার,—-
               এটা মন্দের ভাল,

আর অভ্যাস থাকলে
      নিজে-নিজে একলা-একলা খাওয়াই উচিত ;
ছোট্ট কথা হ’লেও
      মেনে যদি চলতে পার,
অনেক সোয়াস্তি লাভ করতে পারবে আশা করি,
      আবার সব সময়ই লক্ষ্য রেখো—-
             শরীরের প্রতিষেধী শক্তি
                     যা’তে সম্বর্দ্ধিত হ’য়ে ওঠে,
এবং তা’ বেশী হ’লে
        এক-আধটু গোলমাল হ’লেও
                      রেহাই পেতে পার । ৮৮ ।

(‘স্বাস্থ্য ও সদাচার-সূত্র’ গ্রন্থ থেকে)
                                             

।। হত্যা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কাতর আবেদন ।।
‘‘তুলিস্ না, তুলিস্ না, ঐ ফুলটাকে তুলিস না। ব্যথা লাগে রে বড্ড।….. দুর্বাগুলি তুলিস না। মা’র পূজা ওতে হয় না। মা’র হাড় ভেঙ্গে কি মা’র পূজা হয়?……. হায়রে রাজার শাসন! মানুষগুলির উপর রাজার শাসন এত, দরিদ্র পশুগুলির উপর রাজার দয়া নাই? রাজা! তুমি না রাজা! তুমি না নরনারায়ণ! ভগবানের কাছে কি দুই? লাথি মার, লাথি মার। আবার ওই দক্ষযজ্ঞের মত করে সব ভেঙ্গে ফেল্। যেখানে হিংসা সেখানে আবার ধর্ম্ম কোথায়? ……. যে তন্ত্রের মধ্যে মা হয়ে সন্তানের রক্ত কেড়ে খায়. সে তন্ত্র তন্ত্রই নয়। …..ওতে সিদ্ধি হবে না—বাড়বে পৈশাচিকত্ব!’’ (ভাববাণী, একাদশ দিবস, ৬ই শ্রাবণ, ১৩২১)

** সনাতনী কথা **
।। মাছ-মাংস খাসনে আর/পেঁয়াজ-রসুন মাদক ছাড় ।।

“According to the Bible, the first people were vegetarians. The first two chapters of Genesis tell a story of man and animal being companions,and trees being the source of food. In Genesis chapter 1, verse 29, God commands man to only eat fruits and vegetables…..
Genesis 1:29
Then God said, “I give you every seed-bearing plant on the face of the whole earth and every tree that has fruit with seed in it. They will be yours for food.”
Ref. [Genesis 1:29]

 ** সনাতনী কথা **

।। মাছ-মাংস খাসনে আর/পেঁয়াজ-রসুন মাদক ছাড় ।।

“I think that the biological component of fish and flesh have a horrible effect on the body cells. It causes an abnormal excitation in our body. It accelerates the process of cell division. As a result of this, the body may get a transient nutrition but it becomes harmful in the long run.”

—by Shree Shree Thakur Anukulchandra

(Alochana Prasange, vol. 5)

** সনাতনী কথা **

।। মাছ-মাংস খাসনে আর/পেঁয়াজ-রসুন মাদক ছাড় ।।

“Animal food is harmful to the bliss. It weakens the nervous system. At least I think so. Alcohol consumption causes stimulation, the alcohol acts as a stimulant. It aggravates the hankering to have stimulant. Fish and Flesh are of the same type as I know.”

—by Shree Shree Thakur Anukulchandra

(Alochana Prasange, vol. 11) t;font-family:Soumili-Bengali-Unicode;color:#333333;background:white’>প্রভু যিশু বলেন, “তুমি হত্যা করিও না” ।

BE VEGETERIAN

** আহারশুদ্ধৌ সত্তাশুদ্ধিঃ সত্তাশুদ্ধৌ ধ্রুবাস্মৃতি। **

।। আমিষাহার প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বিধান ।।

প্রশ্ন—আমাদের শরীরের পক্ষে যা’ প্রয়োজন তা’ যদি আমিষ-আহার থেকে নিই, তাতে দোষ কী?
শ্রীশ্রীঠাকুর—‘‘আমারও ছেলেবেলায় ঐ ধারণা ছিল। তাই, মাছ আমি নিজে খেয়ে দেখেছি। কিন্তু দেখতাম, যখনই মাছ খেতাম তারপর অন্ততঃ ১২-১৪ দিন পর্য্যন্ত finer vision (সূক্ষ্ম দর্শন)-গুলি কেমন যেন obscure (অস্পষ্ট) হ’য়ে যেত। মনের একাগ্রতাও ব্যহত হ’তো। ছেড়ে দিলে কিছুদিন পরে ঠিক হতো। পরে ভাবলাম, আমি আর কতটুকুই বা জানি। বহুদর্শন থেকে মহানরা যে নিরামিষ-আহারকে শ্রেয় বলেছেন, তাই মেনে চলা ভাল। আর-একটা জিনিস আমি নিজে বোধ করেছি। আমিষাহারী অবস্থায় কোন অসুখ বিসুখ হ’লে শরীর যত vitally affected (গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত) হ’তো, নিরামিষাহারী অবস্থায় তজ্জাতীয় অসুখ-বিসুখে শরীর কিন্তু অতখানি বিপন্ন হয় না। মনুষ্যেতর প্রাণীর দেহ এবং মনুষ্য দেহ সবই জীবদেহের মধ্যে পড়ে, ওরা-আমরা অনেকাংশে এক, অবশ্য বৈশিষ্ট্যানুপাতিক ব্যতিক্রম আছে। যা’ হোক, animal diet (আমিষ-আহার) যে সহজপাচ্য নয়, এটা খুব ঠিক। তার দরুণ শরীরে যে টক্সিনের সৃষ্টি হয়, তাতে মানুষের nerve (স্নায়ু) irritate (উত্তেজিত) ক’রে তোলে, ফলে, সওয়া-বওয়ার ক্ষমতা ক’মে যায়। যে কোন কারণেই হোক, স্নায়ু যার যত অপটু ও সাম্য-সঙ্গতিহারা, তার অহমিকা, ক্রোধ, হিংসা, অসহিষ্ণুতা তত বেড়ে ওঠে। অবশ্য জন্মের থেকে অনেকে হয়তো সুপটু, স্বস্থ স্নায়ু পায়, আমিষ-আহার সত্বেও তাদের স্নায়ুর সওয়া-বওয়ার ক্ষমতা অনেক নিরামিষাশীর থেকে বেশী দেখা যায়, তার মানে কিন্তু এ নয় যে, আমিষ-আহারে তাদের আদৌ কোন ক্ষতি হচ্ছে না এবং নিরামিষ-আহারে তাদের আদৌ কোন উপকার হ’চ্ছে না। প্রত্যেকটার সূক্ষ্ম প্রভাব হ’তেই থাকে।’’ 
(আলোচনা প্রসঙ্গে ৮ম খণ্ড, ১৪-৮-১৯৪৬)
 ★শচীনবাবু—তবে তো অনেক জীবের সংখ্যা অসাধারণ বেড়ে যাবে! সেও তো আর-একটা সমস্যা!
শ্রীশ্রীঠাকুর—পরমপিতার economy (অর্থনীতি)-তে excess (বাহুল্য) হয় না। যে-কোন সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে, তাকে দিয়ে আবার আমাদের বেঁচে থাকার ব্যাপারে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শূকরগুলি এমনি কোন কাজে লাগে না, কিন্তু ওগুলি normal (স্বাভাবিক) মেথর-মুদ্দফরাসের কাজ করে। এরও কি একটা দাম নেই? পাহাড়-পর্ব্বতে, বনে-জঙ্গলে কত গাছপালা আছে, যা’ হয়তো এমনি বিশেষ কাজে লাগে না, কিন্তু সেই গাছগুলি হয়তো বৃষ্টি টেনে আনার ব্যাপারে সাহায্য করে। ওর মধ্যে কত গাছের medicinal and other values (ভেষজ এবং অন্যান্য গুণ) আজও হয়তো আবিষ্কার হয়নি। মানুষ অনেক জেনেছে, তবু তার বিশেষ কিছুই জানা হয়নি। অজস্র জানার বাকী আছে, অজস্র করার বাকী আছে। আজ যে পশুটাকে খেয়ে ফেলেছি, একদিন হয়তো দেখতে পাব, তাকে বাঁচিয়ে রেখে তার সুষ্ঠু ব্যবহারে অভাবনীয় জীবনীয় রসদ পেতে পারি।
(সুত্র—আলোচনা প্রসঙ্গে ৮/৫.৬.১৯৪৬)


.
 ★আমিষ আহার প্রসঙ্গে—★

★একটি মা বললেন—বাবা! আমি বাপের বাড়ী গিয়েছিলাম ভাই-এর বিয়েতে, সেখানে আমার অগোচরে ছেলেকে কাকিমা মাছ খাইয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে ওর পেট খারাপ করেছে। তা’ আর সারছে না।
শ্রীশ্রীঠাকুর গভীর উদ্বেগের সাথে বললেন—কাম করিছ একখান। ছেলের পেট হয়তো ভাল হ’য়ে যাবে। কিন্তু মগজ ও স্নায়ুর মধ্যে একটা খুঁত ঢুকায়ে দিলে। জীবনে সম্পূর্ণ নিরামিষাশী থাকা ও একদিনের জন্যও মাছ খাওয়া এ দুইয়ের মধ্যে ঢের তফাৎ হ’য়ে যায়। শরীর-মনের মধ্যে একটা adverse factor (প্রতিকূল উপাদান) অনুপ্রবেশ লাভ করে, যার প্রভাব ক্ষীণ হ’তে ক্ষীণতর হতে হ’তেও সারা জীবন ব’য়ে চলে।
(সুত্র—আলোচনা প্রসঙ্গে ৮/২১.৫.১৯৪৬)

।। আমিষ আহার প্রসঙ্গে ।।
একটি মা বললেন—বাবা! আমি বাপের বাড়ী গিয়েছিলাম ভাই-এর বিয়েতে, সেখানে আমার অগোচরে ছেলেকে কাকিমা মাছ খাইয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে ওর পেট খারাপ করেছে। তা’ আর সারছে না।
শ্রীশ্রীঠাকুর গভীর উদ্বেগের সাথে বললেন—কাম করিছ একখান। ছেলের পেট হয়তো ভাল হ’য়ে যাবে। কিন্তু মগজ ও স্নায়ুর মধ্যে একটা খুঁত ঢুকায়ে দিলে। জীবনে সম্পূর্ণ নিরামিষাশী থাকা ও একদিনের জন্যও মাছ খাওয়া এ দুইয়ের মধ্যে ঢের তফাৎ হ’য়ে যায়। শরীর-মনের মধ্যে একটা adverse factor (প্রতিকূল উপাদান) অনুপ্রবেশ লাভ করে, যার প্রভাব ক্ষীণ হ’তে ক্ষীণতর হতে হ’তেও সারা জীবন ব’য়ে চলে।
(আলোচনা প্রসঙ্গে ৮ম খণ্ড, ২১. ৫. ১৯৪৬)

।। কোনটা খাব, আমিষ না নিরামিষ ।।

সংকলক—তপন দাস

জনার্দ্দনদা—ডাক্তাররা তো মানুষের ভাল চায়। তবুও তারা flesh diet-এর (আমিষ-আহারের) opinion (মত) দেয় কেন?
      শ্রীশ্রীঠাকুর—Opinion (মতামত) আসে understanding (বুঝ) থেকে।
যার যেমন বুঝ, তার তেমন Opinion (মত) হ’য়ে থাকে। তা’ছাড়া দেখ, তুমি হয়তো ডাক্তার আছ। লোভ ছাড়তে পার না। সেইজন্য ঠিক ক’রে নেছ, মুরগী খাওয়া ভাল। ভাল হওয়ার চাওয়াটা আছে। তাহলে যে-পথে ভাল হয় সেটা ধরা লাগবে তো। কিসে ভাল হয় তা’ যতদিন মানুষ না বুঝবে ততদিন এ-সব থাকবেই। সেইজন্য আমি অত ক’রে যাজনের কথা কই। Existence-কে (অস্তিত্বকে) যা’ energetic push (উদ্যমী প্রেরণা) দেয় তেমনতর চিন্তা-চলন-বলন সবার মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হয়।
      জনার্দ্দনদা—অনেক ডাক্তার vegetables (নিরামিষ) ভাল বলেন, কিন্তু meat (মাংস) খাওয়া খারাপ বলেন না। আমাদের তো প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে কেন meat diet (আমিষ আহার) খারাপ।
      শ্রীশ্রীঠাকুর–প্রমাণ দেব কেমন ক’রে? আমি যা’ দেব, তার against-এও (বিরুদ্ধেও) কত কথা আছে। আবার তুমি যদি নিরামিষ আহারের support-এ (সমর্থনে) বই লেখো, দেখো নে, তোমার support-এ (সমর্থনে) আবার কত volume (খণ্ড) বই বেরিয়ে যাবেনে। Vegetable diet (নিরামিষ আহার) আমাদের system-এর (শরীর-বিধানের) পক্ষে compatible (সঙ্গতিশীল)। Meat diet (আমিষ আহার) কিন্তু তা’ নয়।
      পূজনীয় কাজলদা—পেঁয়াজ খেলে কী হয়?
      শ্রীশ্রীঠাকুর—Undue heat (অবৈধ উত্তাপ) সৃষ্টি হয়। আমি একদিন পেঁয়াজ খেয়েছিলাম। খাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমার জ্বর এসে গেল। কী যন্ত্রণা! পায়খানা ক’ষে গেল। পরে, ভাল হওয়ার পর আমার মনে হ’ল, সবারই এই রকম হয়, মানে undue heat (অবৈধ উত্তাপ) বাড়ায়। খেতে-খেতে শেষকালে সহ্য হ’য়ে যায়। মাংস আমি খেয়েছি কিনা আমার মনে নেই।
      কাজলদা—মাংসকে বলে first class (প্রথম শ্রেণীর) প্রোটিন।
      শ্রীশ্রীঠাকুর (ব্যঙ্গের স্বরে)—First class না last class (প্রথম শ্রেণীর না নিকৃষ্ট শ্রেণীর)?
      কাজলদা—Stomach-এ (পাকস্থলীতে) অন্য প্রোটিন যখন নিতে পারে না, তখনই ডাক্তাররা মাংস দেয়।
      শ্রীশ্রীঠাকুর—System- এ (শরীর-বিধানে) চায় না অথচ তুমি জোর ক’রে দিয়ে যাচ্ছ। এইভাব দিতে-দিতে পঞ্চাশ-ষাট বছরের মধ্যে stomach-এর (পাকস্থলীর) কাম একেবারে সারা হ’য়ে যাবে। যা’ হবার তা’ ওর মধ্যেই হ’য়ে যায়। সত্যি কথা যা’ তা’ এই। যার ইচ্ছা হয় মানবে, যার ইচ্ছা না হয় মানবে না। যেমন প্রতিলোমের কথা আছে। অনেকে এটা মানে, আবার অনেক পণ্ডিত লোকও মানে না। কিন্তু না মানলেও ফল যা’ হবার তা’ হবেই। ওর ফলে, issue-ও (সন্তানও) খারাপ হয়, প্রসূতিও খারাপ হ’য়ে যায়। সেইজন্য আমাদের পূর্ব্বপুরুষরা, বামুনের ঘরে যদি কায়েতের মেয়ে আসত, তার হাতে খেত। কিন্তু যে বামুনের মেয়ের সাথে কায়েতের বিয়ে হত, তার হাতে কোনদিন খেত না। আবার দেখ, আজকাল ডাইভোর্স করে লোক, কিন্তু Christ (খ্রীষ্ট) এটা vehemently oppose (কঠোরভাবে নিষেধ) ক’রে গেছেন। হজরত মহম্মদ support (সমর্থন) করেননি কোথাও। তিনি আরো বলেছেন, গোমাংস সর্ব্বরোগের আকর, গোদুগ্ধ অশেষ উপকারী। মহাপুরুষদের কথা সকলেরই এক।

(‘দীপরক্ষী’ পঞ্চম খণ্ড থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী)

।। কোনটা খাব, আমিষ না নিরামিষ ।।

সংকলক—তপন দাস

সর্বশ্রেষ্ঠ হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মহাভারতের অনুশাসনপর্ব ১১৪ অধ্যায়ে  বলা হয়েছে—
“যে ব্যক্তি মোহ প্রভাবে পুত্র-মাংস-তুল্য অন্যজীবের মাংস ভক্ষণ করে, সে অতি জঘন্য প্রকৃতির এবং তার সেই জীবহিংসা বহুবিধ পাপযোনিতে জন্মগ্রহণ করবার একমাত্র কারণ বলে নির্দিষ্ট হয়।“

শুধু হিন্দু মতেই নয়, কোন ধর্মীয় মতবাদে জীবহত্যা স্বীকৃত নয়।  

কোরানে, আর্য্য হিন্দু-শাস্ত্রে এবং পুরুষোত্তমদের বাণীতে কোথাও ‘বলিদান’ বা ‘কোরবাণী’-র নামে প্রাণী হত্যার অনুমোদন নেই।

       ‘কোরবাণী’ কথাটির উৎপত্তি  আরবীর ‘কুরবান’ থেকে। ‘কুরবান’ মানে উৎসর্গ, বলি। আবার বলি মানে দান। তন, মন, ধন কর কুরবানী অর্থাৎ কায়, মন, ধন পরমেশ্বরের জন্য উৎসর্গ কর। এই আত্মোৎসর্গ বা আত্ম-বলিদানই প্রকৃত বলি বা কোরবাণী।

মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ আল-কোরানে বলা হয়েছে, “এদের মাংস আর রক্ত আল্লাহর কাছে পৌছায় না, কিন্তু তোমার ভক্তি তার কাছে পৌছায়।”  (সুরা ২১/৩৭)

“আল্লার নিকট তাহার মাংস ও তাহার রক্ত কখন পৌঁছে না বা তিনি তাহা ইচ্ছা করেন না। বরং তোমরা অসৎকর্ম্ম হইতে নিজেকে রক্ষা কর ইহাই তিনি ইচ্ছা করেন। তিনি  আমাদের অধীনে থাকিয়া কার্য্যনির্বাহের জন্য পশু সৃষ্টি করিয়াছেন—সেজন্য তোমরা খোদার নিকট নম্র ও নিরীহ হইতে শিক্ষালাভ করিবে। এই সৎপথ-প্রাপ্তির অর্থাৎ সৎ-শিক্ষার জন্যই খোদা এই ব্যবস্থা করিয়াছেন। যাহারা অন্যের মঙ্গল সাধন করে, তাহাদের মঙ্গল করিয়া থাকেন  ……..”  (কোর-আণ—২২ হজ ৩৭ র, ৫) অথচ কোরবানীর নামে অবাধে নিরীহ পশুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়!

ভগবান বুদ্ধদেব বলেছেন, “আমি কখনই কাউকে মাংস খাওয়ার অনুমোদন করি নি, করি না এবং করব না।” (লঙ্কাবতার সূক্ত)

প্রভু যিশু বলেন, “তুমি হত্যা করিও না” । (এক্সোডাস – 20:13)
“যে একটি ষাড়কে হত্যা করলো, সে যেন একটি মানুষকে হত্যা করলো।”  (ইসা – 66:33)

উক্ত অনুশাসনবাদ আমাদের  স্মরণ করিয়ে দেয়, যে নিজেকে পরমেশ্বরের সন্তান  বা খোদাতাল্লার বান্দা মনে করবেন তিনি কখনই কোন প্রাণীকে ব্যথা দেবেন না, হত্যা করবেন না এবং প্রাণীর রক্ত-মাংসে ক্ষুধার নিবৃত্তি করবেন না।

——

AALOCHANA 4TH

।। আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।

।। বন্ধুরূপী শত্রুকে জয় করার উপায় ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—‘‘কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ, মাৎসর্য্য এই ষড়রিপু যার যত হাতের  বাইরে, তার শরীর-মন তত বেহাল হবেই কি হবে। Sex life (যৌন-জীবন) যার যত unadjusted (অনিয়ন্ত্রিত), তার গোটা জীবনটাও তত বিশৃঙ্খল। অন্যান্য প্রবৃত্তিগুলি আমার মনে হয়, কামেরই রকমারি offshoot (ডালপালা)। মানুষের আদর্শনিষ্ঠা ও দাম্পত্যজীবন এই দুটো দিক যদি ঠিক থাকে, তাহলে অনেকখানি বাঁচোয়া। এর ভিতর-দিয়েই কামের সুনিয়ন্ত্রণ হয়। কাম নিয়ন্ত্রণ হলে অন্যান্য প্রবৃত্তিগুলিও পথে আসে। তাই দীক্ষা ও বিয়ে এই দুটো বিধিমাফিক হওয়া চাই। ……. ’’

(আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড,  পৃঃ ১২-১৩ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী)

       ।। অসতো মা সদ্গময় ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—সৎ যেখানেই মাথা তোলা দেয়, অসৎ সেখানেই তাকে নিকেশ করে দিতে চায়। অসৎ যা’তে সৎকে পরাভূত করতে না পারে, সেজন্য হয় তাকে নিয়ন্ত্রণ করা লাগে, না হয় তাকে হতবল করা লাগে। রোগের বল যদি বাড়তে দেন, জীবনের বলকে তা’ ক্ষুণ্ণ করবেই। তাই খারাপের সমর্থন কিছুতেই করতে নেই। খারাপকে অঙ্কুরেই নিকেশ না  করলে পরে তা’ হাতের বাইরে চলে যায়। খারাপ মানে খারাপ প্রবৃত্তি-পরায়ণতা। নিজের খারাপটাকেও রেহাই দেবেন না, অন্যের খারাপকেও না। এই খবরদারী যদি না করেন, হুঁশিয়ার যদি না থাকেন, অতর্কিতে আক্রান্ত ও বিধ্বস্ত হতে হবে। সৎ-এর পোষণ যেমন  সক্রিয়ভাবে করতে হবে, অসৎ-এর নিরসনও তেমনি বাস্তবে করতে হবে অস্খলিতভাবে। এই দুটোর কোন একটার প্রতি উদাসীন যদি থাকেন, এবং তার প্রস্তুতি যদি শিথিল হয়, তবে তার খেসারত দিতেই হবে। ……..

(আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড,  পৃঃ ৩ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী)

।। গো-পালনের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

‘‘……… গো-পালন গৃহস্থের একটা ধর্ম। বলতে বলে গো-মাতা। মা-ই তো, অমন হিতকারী জন্তু কমই দেখা যায়। বাড়ী-বাড়ী যদি ভাল গোরু পোষে, মানুষ নিয়মিতভাবে যদি ভাল দুধ খেতে পারে, তাহলে স্বাস্থ্য, মেধা ও  বুদ্ধি খুলে যায়, আয়ু বেড়ে যায়। আবার, চাষবাসের জন্যও ভাল বলদ  দরকার। আমাদের দেশে প্রথম অবস্থায় তাই কৃষি ও গো-রক্ষা ছিল একান্তভাবে জড়িত। গোময়ের মত সার ও disinfectant (সংক্রমণ-নিরোধী বস্তু) আবার কমই আছে। আমাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তাই কয় রাখালরাজ, তিনি গোষ্ঠে-গোষ্ঠে ধেনুচারণ করে বেড়িয়েছেন। বলরাম নিজে হাল চাষ করতেন। শ্রীকৃষ্ণের গোবর্দ্ধন-ধারণের কথা আমরা যা শুনি, তার মানেও মনে হয়, তিনি গোজাতির বর্দ্ধনের ব্যবস্থাই করেছিলেন। …… (আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড,  পৃঃ ৮)

।। ইষ্ট-সান্নিধ্যে থেকে কর্মী হবার যোগ্যতা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—আমার এ-কাজ করতে গেলে অন্য কোনদিক চাওয়া চলবে না। নিদারুণ কষ্টের  জন্য রাজী থাকতে হবে। তুমি সপরিবার অনাহারে আছ, তখনই হয়তো আমি তোমাকে বলব—যার প্রচুর আছে, তাকে বিলাসের উপকরণ জোগাতে। আর, তাই করেই যদি তুমি সুখ পাও, ক্ষুধার জ্বালা হেলায় সহ্য করতে পার, তাহলেই বোঝা যাবে, তোমার এখানে থাকার যোগ্যতা হয়েছে।

মানুষ কাকে  কতখানি ভালবাসে তার পরখ হচ্ছে, তার প্রীতি ও প্রতিষ্ঠার জন্য সে কতখানি কষ্ট সহ্য করতে পারে।

(আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড,  পৃঃ ১০, ইং ৭-৯-১৯৪২)    8504000″}],”name”:”SEARCH_ENGINE”,”source”:”1004″},{“invalidation-list”:[{“isUnknownVersion”:false,”objectId”:{“name”:”SESSION”,”source”:1004},”payload”:”W:ChezwtVg/OjfwRpQQTJtFjW6dPSpkKgZFxCm1cqK+5aPlkkYMyIqCgwI3K/59AUQgMmHuAEaDAjlr/n0BRCAnKWzASIMCOWv+fQFEMCwg8MB”,”version”:”1587435493376000″}],”name”:”SESSION”,”source”:”1004″},{“invalidation-list”:[],”name”:”THEME”,”source”:”1004″},{“invalidation-list”:[{“isUnknownVersion”:false,”objectId”:{“name”:”TYPED_URL”,”source”:1004},”payload”:”W:ChezwtVg/OjfwRpQQTJtFjW6dFT4WV8QFxCm1cqK+5aPlkkYMyIpCgsIy53h8wUQgKiXYxoMCNSd4fMFEMDGnaoBIgwI1J3h8wUQwPGsvAE=”,”version”:”1584942804357000″},{“isUnknownVersion”:false,”objectId”:{“name”:”TYPED_URL”,”source”:1004},”payload”:”W:ChezwtVg/OjfwRpQQTJtFjW6dBQXRqgZFxCm1cqK+5aPlkkYMyIqCgwIqq359AUQgOK0vAMaDAi0rfn0BRDA+9TzASIMCLSt+fQFEICQs4MC”,”version”:”1587435188511000″},{“isUnknownVersion”:false,”objectId”:{“name”:”TYPED_URL”,”source”:1004},”payload”:”W:ChezwtVg/OjfwRpwetu4sNWS+it/9UQdFxCm1cqK+5aPlkkYMyIqCgwIrcS09QUQwOqOqAIaDAizxLT1BRDA3fe7AyIMCLPEtPUFEID7z8wD”,”version”:”1588404787931000″}],”name”:”TYPED_URL”,”source”:”1004″}]},”media”:{“device_id_salt”:”wIMcqTjcK7uvU27228vj7g==”},”net”:{“http_server_properties”:{“servers”:[{“static.xx.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“scontent.fccu2-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“scontent.xx.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“facebook.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“video.fccu2-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“scontent.fccu11-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“mail.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“www.gmail.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“scontent.fccu13-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“ajax.googleapis.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“taskassist-pa.clients6.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“21.client-channel.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“3.client-channel.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“14.client-channel.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“27.client-channel.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“stats.g.doubleclick.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“myaccount.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“ssl.google-analytics.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“lh5.googleusercontent.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“in.search.yahoo.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“c.bing.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“s.yimg.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“www.bing.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“accounts.youtube.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“tools.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“chrome.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“clients2.googleusercontent.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“accounts.doubleclick.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“dl.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“2542116.fls.doubleclick.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“sonar6.fhyd6-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“accounts.google.co.in:443”:{“supports_spdy”:true}},{“sonar6.frdp1-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“video.xx.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“graph.facebook.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“upload.facebook.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“pixel.facebook.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“fbsbx.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“aa.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“drive-thirdparty.googleusercontent.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“contacts.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“clients6.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“people-pa.clients6.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“1.client-chan

AALOCHANA P. 1ST PART

আলোচনা প্রসঙ্গে থেকে সংকলিত শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী

        বেদভ্যাস মানে ঋগ্বেদ-যজুর্ব্বেদ ইত্যাদি শুধু পড়া নয় ! বেদ মানে  recorded experience (লিপিবদ্ধ অভিজ্ঞতা), বেদাভ্যাস মানে সেই experience (অভিজ্ঞতা) জেনে নিয়ে কাজে লাগিয়ে তারপর মিলিয়ে দেখা। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৫৩)

       প্রফুল্ল—জাতিস্মরতার মধ্যে অদ্রোহের স্থান কোথায় ?

       শ্রীশ্রীঠাকুর—দ্রোহভাব থাকলে মন  obsessed (আবিষ্ট) হ’য়ে থাকে, নানারকম ভাবের উদয় হয়, সবটার expression (ভাব) দেওয়া যায় না, repression (নিরোধ) হয়—এতে জাতিস্মরতার ব্যাঘাত জন্মায়। ……. যারা অত্যাচারে-অত্যাচারে আমার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে, তুলছে, তাদের কথা মনে হলে ভাবি, ওদের উপর রাগ করলে যদি ওদের কোন ক্ষতি হয়, মারা যায়, তাই অমনি মনে আসে—Let them enjoy their little days, their lowly bliss receive, Oh do not take lightly away the life—thou canst not give. (তারা  তাদের স্বল্প দিনগুলি উপভোগ করুক। তাদের অকিঞ্চিৎকর আনন্দ উপভোগ করুক, যে-জীবন তুমি দিতে পার না—তা’ অতি তুচ্ছভাবে নষ্ট করো না।)

       ওদের প্রয়োজনের সময় ওরা কিছু চাইলে তখন ভাবি—Thy necessity is greater than mine. (তোমার  প্রয়োজন আমা-অপেক্ষা বড়), যা’ চায়, না দিয়ে পারি না ! (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৫৩)

।। সর্ব সার্থের সমাধান
জানিস ইষ্ট প্রতিষ্ঠান ।।
বাঙ্গলায় যে কয়টা Division (বিভাগ) আছে, সেই কয়টা University (বিশ্ববিদ্যালয়) হওয়া দরকার। এক-একটা ঋষির নামে এক-একটা University (বিশ্ববিদ্যালয়) হবে। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৪৪)


 “মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে” গীতার এই প্রসঙ্গে বললেন—স্মৃতিবাহী চেতনা থাকলে মৃত্যুও মৃত্যু নয়, পুনর্জন্মও পুনর্জন্ম নয়। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৪২)


 ঐ ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠাপন্নতা—সর্বত্র ঐ এক কথা, ও-ছাড়া আর কথা নেই। গীতায় যে এত কথা তারও সার এই। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৮৭)

বর্ণাশ্রমের মধ্যে un-employment (বেকার সমস্যা) বলে জিনিস ছিল না, তা’তে বৃত্তিহরণ ছিল মহাপাপ, প্রত্যেকে স্ব-স্ব বর্ণোচিত কর্ম করতো, প্রত্যেকে প্রত্যেকের সহযোগী ও পরিপূরণী হ’তো।
(আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৭৯)

বিমলদা—Libido (সুরত)-টা কী ?

শ্রীশ্রীঠাকুর—যে cohesive  force–এর (সংযোজনী শক্তির) দরুন sperm ও ovum  (শুক্র ও ডিম্ব) fertilized (মিলিত) হ’য়ে zygote form (জীবনকোষ গঠন) ক’রে cell division (কোষ-বিভাজন) হ’তে-হ’তে মানুষ হয়ে ওঠে—তার underlying  magnetic current (অন্তর্নিহিত চৌম্বক তরঙ্গ)-ই হ’লো libido—একে বলা যায়  tendency towards unification (মিলনের ঝোঁক), এটা অভ্যাস,  ব্যবহার, ঝোঁকের ভিতর-দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে, আর এই libido  চায় integration (যোগ)। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ১০৪)

                                  ———

       তপোবনের নিয়মকানুন, আইন-শৃঙ্খলা কেমন হবে, সেই সম্বন্ধে ক্ষিতীশদা প্রশ্ন করলেন।

       শ্রীশ্রীঠাকুর—আইন-কানুন যা’ করবেন, তা করবেন to fulfil the wishes of the Guru and not to  fulfil the advent of complexes  (গুরুর ইচ্ছাকে পূরণ করতে ; কিন্তু প্রবৃত্তির আবির্ভাবকে পূরণ করতে নয়কো)। আইন-কানুন প্রয়োজনবশে normally evolve করে (সহজভাবে বিবর্ত্তিত হ’য়ে ওঠে)—সেই-ই ভাল। জোর করে কতকগুলি উপর থেকে চাপাতে গেলে, মানুষ  পীড়িত বোধ করে, তা’তে প্রাণের উল্লাস কমে যায়। আর, এটা ঠিক জানবেন, আপনারা যদি true disciple (খাঁটি শিষ্য) হন, discipline (নিয়মানুবর্ত্তিতা) আপনাদের মধ্যে spontaneously (স্বতঃই) গজিয়ে উঠবে, আর সেটা হবে normal  discipline (সহজ  নিয়মানুবর্ত্তিতা), formal  discipline (বাহ্যিক নিয়মানুবর্ত্তিতা)-এর উপর বেশী  ঝোঁক দিলে অনেক সময় normal  discipline (সহজ নিয়মানুবর্ত্তিতা)-কে  হারাতে হয়। Formal  discipline (বাহ্যিক নিয়মানুবর্ত্তিতা) যদি enforce (কার্য্যকরী) করতে হয়, তবে তা’ এমনভাবেই করতে হবে, যা’তে তা’ normal  discipline (সহজ নিয়মানুবর্ত্তিতা)-কে উস্কে তুলতে সাহায্য করে। প্রধানরা যত  disciplined (নিয়মানুবর্ত্তী) হয়, অন্য সকলেও সেটা তেমনি imbibe (নিজেদের মধ্যে গ্রহণ) করে। আপনি যতখানি ordination–এর (ক্রম বা ধারার) মধ্যে আসবেন, আপনার সহকারী যারা ততখানি আপনার sub-ordination–এর (অধীনতার) মধ্যে আসবে,  এর ভিতর-দিয়েই আসবে co-ordination (সঙ্গতি)। নিয়মকানুন যা’ই করুন, চোখটা নেবেন আমার। আমি সব সময় ভাবি, কাউকে যদি উপযুক্ত করে তুলতে না পারি, তার মধ্যে আমার ত্রুটি  কতখানি ও কোথায়। তার জন্য আমার যতখানি করার ছিল, তা’ আমি করতে পেরেছি কিনা,  করেছি  কিনা। এই যখন ভাবি, তখন সে কি করেনি, তার জন্য মন খারাপ হয় না, মন খারাপ হয় এই ভেবে যে হয়তো আমার করায় কোথাও কোন খাঁকতি আছে। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়, আমার সাধ্যে যা’ কুলায়, তার ত্রুটি করিনি, তবু মনে আপসোস হয়, আরো বেশী কেন করতে পারিনি। আর, আমি যে এমন করি, এ আমার নিজের interest–এই (স্বার্থেই) করি। তার কারণ, আমি জানি, আপনাদের প্রত্যেককে  নিয়েই আমি, এমন-কি কুকুর-বিড়ালটাকেও পর্য্যন্ত এ-থেকে বাদ দিতে পারি না। মনে হয়—কেউ যদি down (অবনত) হ’য়ে থাকে, আমিই down (অবনত)  হয়ে রইলাম। এই interest (স্বার্থবোধ) ও sympathy (সহানুভূতি) নিয়ে করেন, চলেন ; দেখেন পরমপিতা আপনাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করেন।  (আঃ প্রঃ ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৫)

                                          ——- H3YFwwKQr7AYPQiCu6M3ZBWqrLA66IiH+ULN4gCVhJ8Ra+q2Lv0/Re9xROh4oNJUePzEhYyl8ONKdn4b3wxLfFFuu/gVmy8mODnZ2uIMjRcb8HRrPc3rz9LZYZgDQvNckNowB+aPDjWN0aNU+gDFNwVKxSUqqwnFFkTNR3LhcUbeFU0sGkRKt6XeS7ckhQLOC2eilX1UkpVFVWjWXYPXFfGekkR0LAgFnBuVjyV46t6KYcNiPwwRM2oM/vg+oQi66oi0Wx+GLUA4XajDSF2kpn0+0LhScbgtG+cGgelpfd//jEP+t9wOCZoVpViBV2cxzeIeCHSF+8jta9h9/7VPWepzFYIU6cqWBXLWNZp1nvvPWcpzosGQr7Jg2PAQNw/DsYHSkuv+Ncvem6iUO7Jox9FA8GoJWMHgb957AuEwM29EaC8724mQHnvIy83wPVJPMtXJZ3OG5VhJg+O9beozK8o6I3NzoqS2Z5xXsPCUV4vlES5GKHimy1VSatKOaEIOPN86LVezZRUpVospUUsCTOqyEu0wPrgAb6OLKfiW6pY07XcrKLmhGq5vJib5QtY11BN4dir4L6KqlT4Iq/jXIXXtAVFFXKFEi8XsZbTldwCziNbY12q2pfZChv5o/u4Z6GBgH/y4OiGQHSSmWSDUXaSGesfA2PUWF9NAJ7xAdLFtsckHasyr+OEUq4oMpb1E6pkKnWg3VdayHvbfeOuRINBQpeZZEY3hHymkrKmko4BRxN4xgdOvuJzD37sEnSGgnSsXInzhbmiSvrpDJ+P9MWb3mUug0OxcmVKxSqWBazSfXmE6ERixg013oyNFvIINkFytKmFowMhv6HqAzdR6BVPFTOoxgxrdQzCzlMpG2IARgdCAaPnEGZeTUEUkwVVEYXY4Vga13qJ3SUz43CTpZC5I3xVLpRowbByTYWcVq7PsHJNINxONBCMEEUOEXXyM+GIrUbjAycff+Q1X9+M7m/LkdX7V5UjAmJblXZM72jFdP/4wMl/fujt960n7TkUk6S4osyVeXVOc41gO50cbHIDko/2sNX8cZfDLAj5Tcj1lduOBoIsacug0ZaWKRgg7bkhqSzIksIL2gnRKbbROjUqv9EFRr7VTHB+I3J92wM3WOU4rOl0vrGswy73Gf0vaPAVMnUMZVzQ3vd/6ONfJYN8zfw52BIaUHObkFk/S0PQmym4zWqgQ6KmK+riUV7mi1h11vMyJ8IdbQoQqHrD7EBtoFx124M2BCPE/kajUcMUmuoQ9U0yBnd3P6XcjXXgzjA9F7D0iJ788yC8zEJzWJ5SFaFa0A9hqZLkdX6an8fqlIrnictABrLfUHU2R9itcIif50WJz4uSqC+ifl5eZP8IbsTzWNZzuioWi1hFh2S+jK8ReJ3PaQRfrmIizImVkg10bUEpV3iV1xX1muuvZ65dEGVBWbgmylxLKsYX8TX+EMM+D0ITdVXDAkq0w6tUsIwFJ8rrrve1QYngkIY1zfAweB0jcJ0vvx0OH546lGsUQOYJCg7OqHxhTpSLF2vtmba1v7SueiP57ag10GUO49kWivtZPxoy1dDnYyeDRi/mBnI5XOYAjznAz3KAJ/9XOMCrHOBPcyAvcCA/y4F8iQN5kQP5mzmQlzmQVziQVzmQ1zmQX+BAQeBAYZYDhSIHCiIHChIHCmUOFBQOFFQOFKocKMxzQLiZA4LCAeE0B3CBA7jIAaxyAOscKPIcKGIOFEscKJY5UJQ5ULyFA0XybYEDxUUOlGQOiAIHRPL3Fg6IKgduVjgwhzkwV+TAXIkDc2UOzC1wYO40BySeA1KeA9IcBySVA5LGAWmRA2WeA+UiB8oSB8plDpRlDpRVDpSrHCjPc6C8wIHyKQ6UCexpDsg8B2TMAbnIAVnkgFzhgFLmQIXnQAVzoFLiQGWOAxWVAxWNA5VFDtzCc0CtckBd4IDGc0ArcEATOKBJHNBkDmgKBzSVA5rOAW2eA9oiB7TTHNAFDuhFDuglDug3c0CXOKCXOaDLHNBVDuinOVAtcqC6yIHqaQ7MYw7MyxxYxBw4zXPgdJkDpxdKS/d98Mse9Ll1y7AzB+AllrLdwNJsW3X7HQUvscwRgWvuks++3ncuuyTn6pLJFXVJnz+4UovE/byxIxkDzlpXusi70r9essIhm7o4B632Q/YV9YWs6uwsVulL2toS1+h+kQqq/eh+EG6yK99VUpc6Jy3tgK6AGy2grvicTkO6d6ehf83SXfSW7iuXwLGWls6arB5Sytiwch8GzonJcEPnHXj29b4A+xy43uxiPnSd2b8sLDnSnSSsuzvWs9t2rJlGM5BwoyspZbx8C3DEZQGe3QJlc+dvj62VlUSQNrqWQ3iZjwDXpGZNci3NZivJ7XVOiBBqBhhzTYZaQKxNhJ6JNu1X63q0aXudu1etFOwjDqPXZvJzqN5zr19ez22cl5ybrnvU1XX/YLldt5fJU4u+uzZxemZ2vc/CFbgT1Nqg2Ls7caB5wtXGcjknW2sC7tnruLzFRK2VhPc6J2mtAA40T9C6OTHp3pyYtYnZxW9JH+syMZvii6Yl/chKJmZVDau5Eq/lNIzlnCDKyup09ApfXG0fxUCp6byqr6IpJdLL/M2KZmbPMNE1GUlDdJ2mZgZAx6kZgVibmj0Trdqvu0zNalat09TM7rzLnpr13HWXOzVbWd895uq7f7jsvruCuZnR89bmZs/Ivvf5LnOzlh7FvrVhcRkeRffJWbPjsSbh5TgePczOGh2UptmZ3VRdZmdNfkzT7Ky1H7M2O7v4bemnBuBIrKors6IkPRcv5hVeFWKFAtY0RV30Lt1z9xc97oO9NW305Hei9kUJpG16PfmdHYh.

AALOCHANA 21

।। প্রেরিত প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।
প্রেরিত মানে প্রেরণাপ্রবুদ্ধ যিনি। তাঁকে গ্রহণ করতে হয়। বোঁটা না থাকলে পাপড়িগুলি সেজে ওঠে না। গুরুগ্রহণ মানেই দ্বিজ হওয়া।
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ২৫৮)

।। আত্মশোধনের পন্থা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।
আত্মশোধনের পরম পন্থা আচার্য্যে সুনিষ্ঠ অনুরাগ-উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠা, ইষ্টতপা হয়ে ওঠা—এইটুকুই সব এনে দিতে পারে, তুমি বেকুবই হও আর মূর্খই হও। আচার্য্যই বেত্তাপুরুষ, বেত্তাপুরুষই ঈশ্বরের জীবন্ত বেদী। কেউ কেউ প্রেরিতপুরুষ কয়।
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ২৫৮)

।। কৃপা মানে করে পাওয়া ।।
শ্রীশ্রীঠাকুর—কৃপা মানে আমি বুঝি করে পাওয়া। ছোটবেলায় আমি শুনেছিলাম টুণ্ডো জগন্নাথ। কর্ত্তামাকে জিজ্ঞাসা করলাম, পা আছে? তিনি বললেন আছে। তখন বুঝলাম হাত নাই কিন্তু পা আছে। তাঁকে ধরলে নিয়ে চলতে পারেন। বাপ-মারও ছেলেপেলের ওপর হাত নেই‌। বাপ-মাকে যদি ছেলেপেলে ধরে, তবে টেনে নিতে পারেন। নচেৎ ‘ওরে বাবা আয়, আয়’—এই করা ছাড়া তাদের আর পথ নেই। 
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ৬১-৬২)

।। সামাজিক শোষণ প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।
তুমি জন্ম নিলে যখন তখন তুমি কিছুই কর না, মাকে শোষণ করতেই হয়। কিন্তু মাতৃমুখী সন্তান ক্রমিক যোগ্যতায় মাকে পোষণ দেবার জন্যই প্রস্তুত হয়। যখন পোষণ না দিয়ে শোষণ কর, তখন সেইটেই দোষের। পরিস্থিতির সত্তাপোষণ ও সংরক্ষণ না করে নেওয়াটাই শোষণ। 
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ৫৬)

।। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।
বৈশিষ্ট্য মানে বিশেষ স্থিতি। যখন যে-অবস্থায় যে-অবস্থিতিতে যেমন করে চলতে থাকে। যে-উপাদানিক সংহতিতে যা যেমন হয়ে আছে, সেইটিই তার বৈশিষ্ট্য। বৈশিষ্ট্য মানে বিশেষ শাসিত সংস্থিতি। (আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ৪৫)

“…… আমরা আমাদের নিজেদের কৃষ্টির ধার না ধেরে পরের পরাক্রমে অভিভূত হয়ে চলছি। তাই, আমরা যত আন্দোলনই করি, একটা bastard thinking (জারজ) চিন্তা নিয়ে চলি।”
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ৮১ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী)

“…… Mass (ভর) আর energy (শক্তি) একই জিনিস। Energy-রই (শক্তিরই) একটা transformed (পরিবর্তিত) emanation (নির্গমন) হ’ল mass (ভর)। …. “
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ৭২)

মানুষ যেমন ভাল হতে পারে, তেমনি খারাপও হতে পারে—এটা দুইই তার বুদ্ধির উপর নির্ভর করে। নিকৃষ্ট জীব শুধু সংস্কারে চলে। উন্নততর জীবের ভিতর বুদ্ধি ও ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ বেশী দেখা দেয়। তাই, তার প্রয়োগ-অনুযায়ী তারা ভাল ও মন্দ দুই-ই হতে পারে। (আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ৭৭)

যার ভিতর বিবর্ত্তনী আকূতি যত বেশী, সে তত সুকেন্দ্রিক হয়। ইন্দ্রিয়-উপভোগের আকূতি যার বেশী সে তত বিকেন্দ্রিক বা বহুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং বাস্তবে ভোগবঞ্চিত হয়।
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ৭৭)

।। বিশ্বাসঘাতকতা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।
“…….. মানুষ যত insincere (কপট) হয়, ততই ইষ্টকে betray (বিশ্বাসঘাতকতা) করে। আর, ইষ্টকে betray (বিশ্বাসঘাতকতা) করে যে যত, সে নিজেকেও তার ভিতর-দিয়ে ততখানি betray (বিশ্বাসঘাতকতা) করে।”
(আঃ প্রঃ খণ্ড ২১, পৃঃ ১০)

প্রসঙ্গক্রমে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—দুইরকম লোক আছে, এক তৃপ্ত গম্ভীর, আর হ’ল অতৃপ্ত গম্ভীর। তৃপ্ত গম্ভীর যা’রা, তাদের খুব ভাল লাগে। তাদের নাক, চোখ, মুখ সবটাতেই যেন একটা তৃপ্তি মাখান ভাব থাকে। অতৃপ্ত গম্ভীর যারা, তাদের তেমন ভাল লাগে না। (আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ১৭৬)

Go-between (দ্বন্দ্বীবৃত্তি) বড় বিশ্রী জিনিস। শরীরের যেমন যক্ষ্মা, ও তেমনি মনের যক্ষ্মা।
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, ২০১ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী।)

২রা শ্রাবণ, ১৩৫৯, শুক্রবার (ইং ১৮-৭-১৯৫২)
শ্রীশ্রীঠাকুর প্রাতে যতি আশ্রমে। যতিবৃন্দ আছেন।
শরৎদা (হালদার)—সবার প্রত্যেক শুক্রবার পালন করা ভাল, না শিশু-প্রাজাপত্য করা ভাল?
শ্রীশ্রীঠাকুর—শিশু-প্রাজাপত্যটা একটা (অবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা)। ওটা খুব ভাল। ওতে সারা মাসের গ্লানিটা (নির্গত) হয়ে যায়, ও না পারলে শুক্রবার করা ভাল।
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ১২৪)

।। মানুষ আপন টাকা পর ।।
“টাকা দিয়ে মানুষকে জয় করলে, সে এক কথা। কিন্তু তোমার ব্যবহার দিয়ে জয় করতে না পারলে তোমার দাম হ’ল না। যে-কোন পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় আচার, আচরণ ও সেবা দিয়ে। ভালবাসা আদায় করে নিতে হবে নিজের ব্যবহার দিয়ে। প্রীতিপ্রত্যাশা নিয়ে যেই চললে অমনি তুমি pauper (দরিদ্র) হয়ে গেলে। আর, প্রত্যাশা না থাকলেই তুমি richman (ধনী লোক)। 
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৩৪)

।। ভ্রষ্টচরিত্রা নারীদের অমরত্ব লাভ প্রসঙ্গে ।।
কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—একটা মেয়ে যদি ভ্রষ্টচরিত্রাও হয়, আর সে যদি পরে শ্রেয়পরায়ণা হয়ে ওঠে, তাহলে তার বরং নিস্তার আছে। কিন্তু কোন মেয়ে যদি দৈহিক পবিত্রতা বজায় রেখেও মানসিক অপবিত্রতা নিয়ে চলে, অথচ উদ্ধত দাম্ভিকতায় নিজের চাইতে শ্রেয় বলে কাউকে ভাবতে না পারে, নিজের হামবড়াই প্রতিষ্ঠার খেয়ালই তার যথাসর্বস্ব হয়, তার ইহকাল-পরকালে গতি নেই। কতজনের বেলায় দেখা গেছে, শ্রেয়নিষ্ঠার ফলে তারা অমর হয়ে আছে। মেরী ম্যাগডালিন, আম্রপালী, পিঙ্গলা বেশ্যা। এদের জীবনের দিকে চেয়ে দেখ না ?
(আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৩১, ইং ২৬-০৭-১৯৫২) 

?

২৩শে চৈত্র, ১৩৫৮, শনিবার (ইং ৫। ৪। ১৯৫২)। স্থান ঠাকুরবাংলোর গোলতাবু, দেওঘর।

ইছাপুরের একটি  দাদা জিজ্ঞাসা করছিলেন—মন্দিরগাত্রে যৌনচিত্র কেন দেখা যায় ?

       শ্রীশ্রীঠাকুর—একটা zygote (জীবনকণিকা) থেকেই আমাদের জন্ম। আমাদের যা কিছু affair (ঘটনা), তার পিছনে থাকে ঐ রস। রস মানে আস্বাদন। ঐটাকে base (ভিত্তি) করে যা কিছু। সৃষ্টির prime operation (প্রাথমিক ক্রিয়া) অমনতর। তাই মন্দিরগাত্রে যে কামলেখা, তার মানে হচ্ছে ঐ কামলেখার মধ্য দিয়ে যেন তুমি তোমার ঠাকুরেই পৌঁছতে পার। তান্ত্রিক যুগে ঐ জিনিসটার প্রবর্তন হয়েছিল। আমি তোমাদের  কামলেখার অভ্যন্তরে আছি,  যদি তা’ সত্তাসংবর্দ্ধনার বিরোধী  না হয়। তাই কামকে পবিত্র করে নেওয়া লাগবে। (আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড)

।। মন্দির, শ্রীমন্দির ও সৎসঙ্গ বিহার-এর গঠনতন্ত্র প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—সব  মন্দিরই শ্রীমন্দির। জায়গায় জায়গায় মন্দির বা সৎসঙ্গ বিহার ঠিক করা ভাল, যাতে লোকে  meet (সাক্ষাৎ) করতে পারে। সেখান থেকে মানুষকে সবভাবে infuse (উদ্বুদ্ধ) করতে হবে। ধর্ম্ম কী, কৃষ্টি কী,  সদাচার কী, বিবাহের নীতি কী, যোগ্যতার অনুশীলন কিভাবে করতে হয়, সেবানুচর্য্যার ভিতর দিয়ে সবাই পারস্পরিকভাবে  সম্বন্ধান্বিত হয় কিভাবে ইত্যাদি কথা সেখান থেকে চারাতে  হবে। মানুষকে practically educated (বাস্তবভাবে শিক্ষিত) করে তুলতে হবে। তাছাড়া মানুষের জন্য যতখানি যা করা যায় তাও  বাস্তবভাবে করতে হবে মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে। মন্দির থাকলে, ঋত্বিক থাকবে, dispensary (চিকিৎসাকেন্দ্র),  হাসপাতাল, গবেষণাগার, তপোবনের শাখা ইত্যাদি থাকবে। হয়তো ঐ মন্দিরগুলিই এক একটা university (বিশ্ববিদ্যালয়) বা সর্ব্বতোমুখী শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

(আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ৩১, ৪ঠা বৈশাখ,  ১৩৫৯, বৃহস্পতিবার, ইং ১৭-০৪-১৯৫২)

।। নিত্য তর্পণ  করা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

কথায় কথায় শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, খাবার সময় পঞ্চদেবতাকে দিয়ে, তারপর বাবা, মা,  পিতৃপুরুষ, আবার সৎসঙ্গের যারা ছিল, সৎসঙ্গের বাইরে যারা ছিল,  সকলের কথা স্মরণ করে  নিবেদন করি। যেদিন কোন  কারণে ভুল হয়ে যায়, সেদিন বড়ই খারাপ লাগে। খেতেই পারি না। ভাতটাত বদলে দিতে হয়।

পিতৃতর্পণের ভিতর দিয়ে আমাদের latent possibility-(সুপ্ত সম্ভাব্যতা)-টা unfolded (বিকশিত) হতে থাকে। (আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ৪০)

।। জীবের আবির্ভাব প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—চিদ্অণু আছে। তার  মধ্যে আকুঞ্চন-প্রসারণ আছে, যোগাবেগ আছে, আকর্ষণ-বিকর্ষণ আছে, আকর্ষণের ভিতর দিয়ে combined (যুক্ত) হয়, এইভাবে জীবের আবির্ভাব হয়। একটা finer mass or atomic body (সূক্ষ্ম পিণ্ড অথবা পারমাণবিক দেহ) হয়তো হ’লো, intelligence (বুদ্ধি)-টা এইভাবে materialized (বাস্তবায়িত) হ’লো। যে পরিবেশের ভিতর থাকলো, তা থেকে life urge (জীবন-আকূতি) অনুপাতিক গ্রহণ করতে লাগলো, চিৎকণা সেইভাবে adjusted (নিয়ন্ত্রিত) হ’য়ে gene (জনি) সৃষ্টি করলো, mutation (পরিবর্তন)-ও হ’তে থাকে এইভাবে। অর্থাৎ বাঁচার চাহিদায় environment–এর (পরিবেশের) সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে,  পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সত্তাসঙ্গত যে acquisition (প্রাপ্তি) হয়, যা কিনা gene (জনি)-কে প্রভাবিত করে বা পরিবর্তিত করে, সেই পরিবর্তন বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। (আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১০৭, ইং ২৯-০৬-১৯৫২)

।। ভ্রষ্টচরিত্রা নারীদের অমরত্ব লাভ প্রসঙ্গে ।।

 কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—একটা মেয়ে যদি ভ্রষ্টচরিত্রাও হয়, আর সে যদি পরে শ্রেয়পরায়ণা হয়ে ওঠে,  তাহলে তার বরং নিস্তার আছে। কিন্তু কোন মেয়ে যদি দৈহিক পবিত্রতা বজায় রেখেও মানসিক অপবিত্রতা নিয়ে চলে, অথচ উদ্ধত দাম্ভিকতায় নিজের চাইতে শ্রেয় বলে কাউকে ভাবতে না পারে, নিজের হামবড়াই প্রতিষ্ঠার খেয়ালই তার যথাসর্বস্ব হয়, তার ইহকাল-পরকালে গতি নেই। কতজনের বেলায় দেখা গেছে,  শ্রেয়নিষ্ঠার ফলে তারা অমর হয়ে আছে। মেরী ম্যাগডালিন, আম্রপালী, পিঙ্গলা বেশ্যা। এদের  জীবনের দিকে চেয়ে দেখ না ?

(আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৩১, ইং ২৬-০৭-১৯৫২)

।। বর্ণাশ্রম অনুযায়ী জীবনবর্দ্ধনাকে রক্ষা করা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কাতর আবেদন ।।

বেনারস হিন্দু  বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজির অধ্যাপক শ্রীযুক্ত আর. সি. সিনহা গবেষণার জন্য বিলাতে যাচ্ছেন শুনে— ‘‘শ্রীশ্রীঠাকুর খুশি হয়ে বললেন—খুব ভাল, খুব ভাল। আর, ওখান থেকে সংগ্রহ করা লাগে আর্য্যকৃষ্টির সমর্থনে কী কী পাওয়া যায়. বিজ্ঞানের ভিতর দিয়ে, ইতিহাসের ভিতর দিয়ে, দর্শনশাস্ত্রের ভিতর দিয়ে, সবটার ভিতর দিয়ে সমর্থন বের করতে হয়। বর্ণাশ্রম ও অনুলোমের সমর্থনে যা’ পাওয়া যায়, তা’ বের করতে হয়। আর, ঐসব ভাল করে গুছিয়ে বই লেখা লাগে। সেটাই ভারতকে বাঁচাবে। আজকাল সবার মাথা বিভ্রান্ত। আজকের দিনেই ঐ জিনিসের প্রয়োজন সবচাইতে বেশী। সারা জগতের জন্য আজ ঐটা দরকার। তোমার পড়াশুনার মধ্য দিয়ে যদি ঐটে করে ফেলতে পার, খুব ভাল হয়। ‘Indian  genetics and Varnasram’ নাম দিয়ে বই লিখতে হয়, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে। আজকাল অনেকে মনে করে, যে  বামুনের মেয়েকে নিম্নবর্ণের পুরুষ অনায়াসেই বিয়ে করতে পারে। কিন্তু তা’তে যে কতখানি সর্বনাশ তা’ বোঝে না। আর, প্রাদেশিকতার বুদ্ধি ভাল না। একেবারে আত্মঘাতী। বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে বিধিমত বিয়ে-থাওয়া হওয়া  দরকার। কুল, বংশ, চরিত্র,  প্রকৃতি ইত্যাদির পারস্পরিক সঙ্গতি দেখে বিয়ে দিতে হবে, সে সবর্ণই হোক বা অনুলোমই হোক। Inter-Provincial Marriage (আন্তঃপ্রাদেশিক বিবাহ) যদি ঠিকমতো না হয়, তবে কালে-কালে প্রায়  same blood (একই রক্ত) হয়ে যাবে।“ (আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৭৪-১৭৫, ইং ১০-০৯-১৯৫২)

 ।। রকমারি বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

মানুষ developed (উন্নত) হয়, উন্নত বোধিপরায়ণ হয়, কিন্তু conflict (দ্বন্দ্ব) ও শ্রদ্ধা যদি  না থাকে, তাহলে হয় না। একটা জাতি যদি থাকে, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও তার রকমারি বৈশিষ্ট্য যদি না থাকে, তবে conflict (দ্বন্দ্ব) হবে না। তাই dull (মূর্খ) হয়ে যাবে সব জাতটা। Becoming (বিবর্দ্ধন) আছে বলেই দুনিয়ায় কখনও এক pattern (ধরন) দেখবেন না। Variety is the father of development, intelligence and adjustment (বৈচিত্র উন্নতি, বুদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণের জনক)। সব একরকম হলে মিসমার হয়ে যাবে।

(আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৫, ইং ৪-৪-১৯৫২) FcNBvRYkGUsvNaVA8Pe6+XA6ugX1eDAF2gwqf+/7/7t28/D1C9X1eKIJBdMT+BfPnPKkUtvt30u2VpRAZdbw9BWWF5OssDqixOSEtgboKY/d/OXrm3GzX/aqTsHPjLsmfSvpWow4HKVSy3BAOXCQMVlhZ4xrFwXkwBq0boGBMGRAsZYmzmiPzm8wImMrN2viTgvvJlaDkoqDs21uxWPvRk0GhBTSKRBfLuRRhP/7Ti4MNg5RK4tLHZ8AT+8hQLM6ERyWJoXBYnLklDUCSRyBbvTvjWMXmxPzdxRvWpFhtWqgM7QWbRlE8R3xA//CnSMTiRHOEU9itLJjCwJAl6ajIoKUhVm8R13fbpqAjOnCyXxmtSisodsbfFacD7Gj9dBCTQnzaIpaRaJyqSMksmJwwqSFWbxTf/4AYfh7TGiGI8YSdUmSqqtRrl3SIWTUiSmq38SbBudSI4lDidFrqjkJW2GZRbf+MEvLsuTpc/0ZPkmBRrHUUGSF46ibA7p+Qw8rj6mLfG9oNHytQzTLexWAOZxvZTCX4mgLxwLOWHYShg2VAYTcYEpxxOthImEQhWKimreXH74Rl/9Yvnje5xi+VnaQcrLhpwgbCVItAwkUgnSUwYSrQTpKxM7RvsrVFyuvh4XGLYMptcFJloG0+cC01MG0+8C0+doBi33a9TMHfGGZTQEVd4Q1NINUQFS2RAVIJUNUQFS2RBUHQ1RCVPZEJUwlQ1RCVPZEJUwfaH4ZqshvrfR7BB45BgDTaMTSeJJPsdnJFFhFm/877vqTebYZI0ZpFUvXxU2677dD9+0GTRrqEj8UG0X9cV33+1YOtzrBY0JTkVTeV4ZKBbpdrYVbMxIhQInZmGjzKlIzfMKVyyye4EPiVm4IxLqHCjlSorayYbCPZ1sZH+sf3+sv3MyOcVuBg2YZ9ggSDmJbQGNBe6EGZ3VHw71hUJssxYXfo5H8wr0hkPs+aCxgFSZz2jelLSNHcI42ww2FfE/UnwW2wbLBgHQPqjohArPHx1OpgYmJ1OJganRQwdTk4mJ8YlUciqB/xidSLI7TfCFIoJNmbwsFVBKF5LdDbbrHKYUXsyglJ5cAvrDfaEQZs9P3DBha3/nOLegSR3aH8L/YaHj1/pA67g0h6akYSkzq7niD2TwTp1ur0trnbrWGKy1o7yaT0glMYuyCZRROTEnIHa7U5MbekJRrMoLQLvtcxn7BlCFvruc+t7hzrur6iNsyKH6vVj14xNHDqSmJlLDE0OvTI0MJKcOJFIDQ0MHkkmi/a0O7ftKsrCkStlegOFgKK+qRWX/ZZcppWJRklXDyTYjFS7TWvGyvyi+nC/mJRGlslJmNv4HL2ix5BmT5tAQgTs3W2KvsyW2OTl3bYEo2+1ogc6KFhjDfwxdnpgYP3Dm9f8LL9hiSTHFF89Nxe9xKh46WHbVe4y9yKF3pkLvU6OTZ17ftuXBK+3zfTtxwI/oLtq/b1yfCdZngvWZYH0mWJ8JXsIzgXXEagz+nvXBf33wXx/81wf/9cH/T2/wpwJ++K1NFYO/fdj/uRc4hR5IS3OIHmH3aY21i2U7h1EGFdJIxuz2vuiaa4ejubYU7FXc2miP0UYMy3bGSyLSxF6TVvps2SQLqk6yezT1d4R7bX3FyYVzji3XMxvrZ9dmkt3pUGATVywmOJUXcxp47Tm1s9qcurG3r4eNEkPQ1d0RjlYTtdJKB5EgzdNg3UpPh5Xana0TtBnVQ3M69E9//ONv+2gjPAp2HJqaTKCCpKJkKZdDCvGfHOQys0jMEu+IFiNzdDY4MpSks8wfbzpFJVr10B3Go1J/fvGap7/pn77+l7d/sOk4BSfAVm28smEl6Drtr4W3uUAlWoyoIAH/MS9S8os3fuIJP1TqQMi6IsQQ1rX5NuhC0pCGHN3biCZBy+hEcqKIxBFZKgwJfDEtcXKWWXz0u7fXfZvYpEUCMW8GJqoh1cPu1P063kiF/c8UudElgRcOTU0OcvK4lOWEwZKqknuH9173kRopUvdXurl1XaS7sfKSEiQmFRTVYjDNycECxhxMa6jjf+7i79Z1seE3u1Rt50V1k+U0RNT0fm9dUhmuO0dYp1jQdOo5EqY9zH/ecIrC33RDIN9+W/aNpT3M7/C3c0MlDhlYOsv85gY9tpoRFuEdXnLJpKkIzR+ammQWP/f6d5U/ObYp4rmNzKeur9TEp/VvFjUPc/v1ldq5A3+7FNBO7WAUXdtt+hHRPJFvLuwCzFYDZuMBN91ts+tOB67sDBGjMzxJVeqk0lTKNHv7uSlXky6X0SWeWYlsL5wrsm21y8a8YBhzRJ+QbvnVZx5ohHkioW05wyxe9S5nSv99xoREJmGaZbc5PmgRVpwX7lCLJdJhD1Ays2xK/iUppfBEa6OEDXIINGI6SPNUrdOzpqnDHo/MD6cJs0k+J/IioV0lfCVbEfDM4RZLZn+vpgDdLfFYnZgrY11ZPsCt5asLHfdUnbhrxQDEK5ewA6tK5oWkKhXHJC47IQ4Ui9bTEmbxquf+3tGIHaDViGlA4qmNyJKoFiRFLUtqWKat8r5XXCuqfgdVf8U7e3Mk+2sA