AAHARSHUDDHU

                        ।। রোগ-প্রতিরোধে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।

পংক্তি-ভোজন না করাই ভাল,
        যদি কোথাও করতে হয় —-
এতখানি দুরত্ব অবলম্বন করা উচিত
        যা’তে অন্যের হাঁচি,  কাশি,  থুতু
                নিঃশ্বাস বা বাতাসের সাথে
                  তোমাদের ভিতরও পরিবেষিত না হয়  ;

সব সময়ই
      সদাচারের সার্থক ব্যবহারে
              যতই দক্ষ হ’য়ে উঠবে —-
      দুষ্ট আক্রমণের হাতও
              ততই এড়িয়ে চলতে পারবে,
      ভাতই হো’ক,  লুচিই হো’ক,
      ডাল-তরকারী যা’ই হো’ক,
নাকে, মুখে,  গুহ্যদেশে (মলদ্বার)
              বা শরীরে হাত দিয়ে
       কাউকে পরিবেশন করতে যেও না,
       তা’তে হয়তো অন্যের ক্ষতি হ’তে পারে,
আর, সে-ক্ষতি
     তোমাতেও সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা
                                                    ঢের বেশী  ;
নিজের বিছানা,  কাপড়,  বালিশ ইত্যাদি
                নিজেই ব্যবহার ক’রো,
অন্য কেউ ব্যবহার করতে হ’লে
       তোমার অব্যবহৃত জিনিসই দিও,
এবং পরে তা’ উপযুক্তভাবে
               পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ক’রে রেখো,
অন্যের বাসন ব্যবহার না করাই ভাল—
     করলেও উপযুক্তভাবে পরিশুদ্ধ ক’রে,
ব্যাধিমুক্ত নিকট-গুরুজন ছাড়া
              কা’রও এঁঠো-পাতে খেতে নাই,
এগুলো ছোট্ট জিনিস হ’লেও
        অসতর্ক চলনে চললে
                   খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা ;
খাওয়ার সমময় এমনতর শব্দ, ভঙ্গী
       বা রকম ক’রো না —-
             যা’তে অন্যের বিরক্তি বা ঘৃণা
                     উৎপাদিত হ’তে পারে,
এক হাতে খাচ্ছ, অন্য হাতে শিকনি ফেলছ—-
                     তা’ কিন্তু ভাল নয়কো,
তা’তে অন্যের ঘৃণা তো হ’তেই পারে 
                       নিজেরও খারাপ হ’তে পারে,
শিকনি যদি ফেলতেই হয় —-
        কাছে এমনতর
ব্যবহারোপযোগী পরিষ্কার ন্যাকড়া বা কিছু রেখো,
       যা’তে শিকনি ঝেড়ে
               হাত ধুয়ে
                    তুমি খাদ্যবস্তু গ্রহণ করতে পার,—-
               এটা মন্দের ভাল,

আর অভ্যাস থাকলে
      নিজে-নিজে একলা-একলা খাওয়াই উচিত ;
ছোট্ট কথা হ’লেও
      মেনে যদি চলতে পার,
অনেক সোয়াস্তি লাভ করতে পারবে আশা করি,
      আবার সব সময়ই লক্ষ্য রেখো—-
             শরীরের প্রতিষেধী শক্তি
                     যা’তে সম্বর্দ্ধিত হ’য়ে ওঠে,
এবং তা’ বেশী হ’লে
        এক-আধটু গোলমাল হ’লেও
                      রেহাই পেতে পার । ৮৮ ।

(‘স্বাস্থ্য ও সদাচার-সূত্র’ গ্রন্থ থেকে)
                                             

।। হত্যা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কাতর আবেদন ।।
‘‘তুলিস্ না, তুলিস্ না, ঐ ফুলটাকে তুলিস না। ব্যথা লাগে রে বড্ড।….. দুর্বাগুলি তুলিস না। মা’র পূজা ওতে হয় না। মা’র হাড় ভেঙ্গে কি মা’র পূজা হয়?……. হায়রে রাজার শাসন! মানুষগুলির উপর রাজার শাসন এত, দরিদ্র পশুগুলির উপর রাজার দয়া নাই? রাজা! তুমি না রাজা! তুমি না নরনারায়ণ! ভগবানের কাছে কি দুই? লাথি মার, লাথি মার। আবার ওই দক্ষযজ্ঞের মত করে সব ভেঙ্গে ফেল্। যেখানে হিংসা সেখানে আবার ধর্ম্ম কোথায়? ……. যে তন্ত্রের মধ্যে মা হয়ে সন্তানের রক্ত কেড়ে খায়. সে তন্ত্র তন্ত্রই নয়। …..ওতে সিদ্ধি হবে না—বাড়বে পৈশাচিকত্ব!’’ (ভাববাণী, একাদশ দিবস, ৬ই শ্রাবণ, ১৩২১)

** সনাতনী কথা **
।। মাছ-মাংস খাসনে আর/পেঁয়াজ-রসুন মাদক ছাড় ।।

“According to the Bible, the first people were vegetarians. The first two chapters of Genesis tell a story of man and animal being companions,and trees being the source of food. In Genesis chapter 1, verse 29, God commands man to only eat fruits and vegetables…..
Genesis 1:29
Then God said, “I give you every seed-bearing plant on the face of the whole earth and every tree that has fruit with seed in it. They will be yours for food.”
Ref. [Genesis 1:29]

 ** সনাতনী কথা **

।। মাছ-মাংস খাসনে আর/পেঁয়াজ-রসুন মাদক ছাড় ।।

“I think that the biological component of fish and flesh have a horrible effect on the body cells. It causes an abnormal excitation in our body. It accelerates the process of cell division. As a result of this, the body may get a transient nutrition but it becomes harmful in the long run.”

—by Shree Shree Thakur Anukulchandra

(Alochana Prasange, vol. 5)

** সনাতনী কথা **

।। মাছ-মাংস খাসনে আর/পেঁয়াজ-রসুন মাদক ছাড় ।।

“Animal food is harmful to the bliss. It weakens the nervous system. At least I think so. Alcohol consumption causes stimulation, the alcohol acts as a stimulant. It aggravates the hankering to have stimulant. Fish and Flesh are of the same type as I know.”

—by Shree Shree Thakur Anukulchandra

(Alochana Prasange, vol. 11) t;font-family:Soumili-Bengali-Unicode;color:#333333;background:white’>প্রভু যিশু বলেন, “তুমি হত্যা করিও না” ।

BE VEGETERIAN

** আহারশুদ্ধৌ সত্তাশুদ্ধিঃ সত্তাশুদ্ধৌ ধ্রুবাস্মৃতি। **

।। আমিষাহার প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বিধান ।।

প্রশ্ন—আমাদের শরীরের পক্ষে যা’ প্রয়োজন তা’ যদি আমিষ-আহার থেকে নিই, তাতে দোষ কী?
শ্রীশ্রীঠাকুর—‘‘আমারও ছেলেবেলায় ঐ ধারণা ছিল। তাই, মাছ আমি নিজে খেয়ে দেখেছি। কিন্তু দেখতাম, যখনই মাছ খেতাম তারপর অন্ততঃ ১২-১৪ দিন পর্য্যন্ত finer vision (সূক্ষ্ম দর্শন)-গুলি কেমন যেন obscure (অস্পষ্ট) হ’য়ে যেত। মনের একাগ্রতাও ব্যহত হ’তো। ছেড়ে দিলে কিছুদিন পরে ঠিক হতো। পরে ভাবলাম, আমি আর কতটুকুই বা জানি। বহুদর্শন থেকে মহানরা যে নিরামিষ-আহারকে শ্রেয় বলেছেন, তাই মেনে চলা ভাল। আর-একটা জিনিস আমি নিজে বোধ করেছি। আমিষাহারী অবস্থায় কোন অসুখ বিসুখ হ’লে শরীর যত vitally affected (গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত) হ’তো, নিরামিষাহারী অবস্থায় তজ্জাতীয় অসুখ-বিসুখে শরীর কিন্তু অতখানি বিপন্ন হয় না। মনুষ্যেতর প্রাণীর দেহ এবং মনুষ্য দেহ সবই জীবদেহের মধ্যে পড়ে, ওরা-আমরা অনেকাংশে এক, অবশ্য বৈশিষ্ট্যানুপাতিক ব্যতিক্রম আছে। যা’ হোক, animal diet (আমিষ-আহার) যে সহজপাচ্য নয়, এটা খুব ঠিক। তার দরুণ শরীরে যে টক্সিনের সৃষ্টি হয়, তাতে মানুষের nerve (স্নায়ু) irritate (উত্তেজিত) ক’রে তোলে, ফলে, সওয়া-বওয়ার ক্ষমতা ক’মে যায়। যে কোন কারণেই হোক, স্নায়ু যার যত অপটু ও সাম্য-সঙ্গতিহারা, তার অহমিকা, ক্রোধ, হিংসা, অসহিষ্ণুতা তত বেড়ে ওঠে। অবশ্য জন্মের থেকে অনেকে হয়তো সুপটু, স্বস্থ স্নায়ু পায়, আমিষ-আহার সত্বেও তাদের স্নায়ুর সওয়া-বওয়ার ক্ষমতা অনেক নিরামিষাশীর থেকে বেশী দেখা যায়, তার মানে কিন্তু এ নয় যে, আমিষ-আহারে তাদের আদৌ কোন ক্ষতি হচ্ছে না এবং নিরামিষ-আহারে তাদের আদৌ কোন উপকার হ’চ্ছে না। প্রত্যেকটার সূক্ষ্ম প্রভাব হ’তেই থাকে।’’ 
(আলোচনা প্রসঙ্গে ৮ম খণ্ড, ১৪-৮-১৯৪৬)
 ★শচীনবাবু—তবে তো অনেক জীবের সংখ্যা অসাধারণ বেড়ে যাবে! সেও তো আর-একটা সমস্যা!
শ্রীশ্রীঠাকুর—পরমপিতার economy (অর্থনীতি)-তে excess (বাহুল্য) হয় না। যে-কোন সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে, তাকে দিয়ে আবার আমাদের বেঁচে থাকার ব্যাপারে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শূকরগুলি এমনি কোন কাজে লাগে না, কিন্তু ওগুলি normal (স্বাভাবিক) মেথর-মুদ্দফরাসের কাজ করে। এরও কি একটা দাম নেই? পাহাড়-পর্ব্বতে, বনে-জঙ্গলে কত গাছপালা আছে, যা’ হয়তো এমনি বিশেষ কাজে লাগে না, কিন্তু সেই গাছগুলি হয়তো বৃষ্টি টেনে আনার ব্যাপারে সাহায্য করে। ওর মধ্যে কত গাছের medicinal and other values (ভেষজ এবং অন্যান্য গুণ) আজও হয়তো আবিষ্কার হয়নি। মানুষ অনেক জেনেছে, তবু তার বিশেষ কিছুই জানা হয়নি। অজস্র জানার বাকী আছে, অজস্র করার বাকী আছে। আজ যে পশুটাকে খেয়ে ফেলেছি, একদিন হয়তো দেখতে পাব, তাকে বাঁচিয়ে রেখে তার সুষ্ঠু ব্যবহারে অভাবনীয় জীবনীয় রসদ পেতে পারি।
(সুত্র—আলোচনা প্রসঙ্গে ৮/৫.৬.১৯৪৬)


.
 ★আমিষ আহার প্রসঙ্গে—★

★একটি মা বললেন—বাবা! আমি বাপের বাড়ী গিয়েছিলাম ভাই-এর বিয়েতে, সেখানে আমার অগোচরে ছেলেকে কাকিমা মাছ খাইয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে ওর পেট খারাপ করেছে। তা’ আর সারছে না।
শ্রীশ্রীঠাকুর গভীর উদ্বেগের সাথে বললেন—কাম করিছ একখান। ছেলের পেট হয়তো ভাল হ’য়ে যাবে। কিন্তু মগজ ও স্নায়ুর মধ্যে একটা খুঁত ঢুকায়ে দিলে। জীবনে সম্পূর্ণ নিরামিষাশী থাকা ও একদিনের জন্যও মাছ খাওয়া এ দুইয়ের মধ্যে ঢের তফাৎ হ’য়ে যায়। শরীর-মনের মধ্যে একটা adverse factor (প্রতিকূল উপাদান) অনুপ্রবেশ লাভ করে, যার প্রভাব ক্ষীণ হ’তে ক্ষীণতর হতে হ’তেও সারা জীবন ব’য়ে চলে।
(সুত্র—আলোচনা প্রসঙ্গে ৮/২১.৫.১৯৪৬)

।। আমিষ আহার প্রসঙ্গে ।।
একটি মা বললেন—বাবা! আমি বাপের বাড়ী গিয়েছিলাম ভাই-এর বিয়েতে, সেখানে আমার অগোচরে ছেলেকে কাকিমা মাছ খাইয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে ওর পেট খারাপ করেছে। তা’ আর সারছে না।
শ্রীশ্রীঠাকুর গভীর উদ্বেগের সাথে বললেন—কাম করিছ একখান। ছেলের পেট হয়তো ভাল হ’য়ে যাবে। কিন্তু মগজ ও স্নায়ুর মধ্যে একটা খুঁত ঢুকায়ে দিলে। জীবনে সম্পূর্ণ নিরামিষাশী থাকা ও একদিনের জন্যও মাছ খাওয়া এ দুইয়ের মধ্যে ঢের তফাৎ হ’য়ে যায়। শরীর-মনের মধ্যে একটা adverse factor (প্রতিকূল উপাদান) অনুপ্রবেশ লাভ করে, যার প্রভাব ক্ষীণ হ’তে ক্ষীণতর হতে হ’তেও সারা জীবন ব’য়ে চলে।
(আলোচনা প্রসঙ্গে ৮ম খণ্ড, ২১. ৫. ১৯৪৬)

।। কোনটা খাব, আমিষ না নিরামিষ ।।

সংকলক—তপন দাস

জনার্দ্দনদা—ডাক্তাররা তো মানুষের ভাল চায়। তবুও তারা flesh diet-এর (আমিষ-আহারের) opinion (মত) দেয় কেন?
      শ্রীশ্রীঠাকুর—Opinion (মতামত) আসে understanding (বুঝ) থেকে।
যার যেমন বুঝ, তার তেমন Opinion (মত) হ’য়ে থাকে। তা’ছাড়া দেখ, তুমি হয়তো ডাক্তার আছ। লোভ ছাড়তে পার না। সেইজন্য ঠিক ক’রে নেছ, মুরগী খাওয়া ভাল। ভাল হওয়ার চাওয়াটা আছে। তাহলে যে-পথে ভাল হয় সেটা ধরা লাগবে তো। কিসে ভাল হয় তা’ যতদিন মানুষ না বুঝবে ততদিন এ-সব থাকবেই। সেইজন্য আমি অত ক’রে যাজনের কথা কই। Existence-কে (অস্তিত্বকে) যা’ energetic push (উদ্যমী প্রেরণা) দেয় তেমনতর চিন্তা-চলন-বলন সবার মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হয়।
      জনার্দ্দনদা—অনেক ডাক্তার vegetables (নিরামিষ) ভাল বলেন, কিন্তু meat (মাংস) খাওয়া খারাপ বলেন না। আমাদের তো প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে কেন meat diet (আমিষ আহার) খারাপ।
      শ্রীশ্রীঠাকুর–প্রমাণ দেব কেমন ক’রে? আমি যা’ দেব, তার against-এও (বিরুদ্ধেও) কত কথা আছে। আবার তুমি যদি নিরামিষ আহারের support-এ (সমর্থনে) বই লেখো, দেখো নে, তোমার support-এ (সমর্থনে) আবার কত volume (খণ্ড) বই বেরিয়ে যাবেনে। Vegetable diet (নিরামিষ আহার) আমাদের system-এর (শরীর-বিধানের) পক্ষে compatible (সঙ্গতিশীল)। Meat diet (আমিষ আহার) কিন্তু তা’ নয়।
      পূজনীয় কাজলদা—পেঁয়াজ খেলে কী হয়?
      শ্রীশ্রীঠাকুর—Undue heat (অবৈধ উত্তাপ) সৃষ্টি হয়। আমি একদিন পেঁয়াজ খেয়েছিলাম। খাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমার জ্বর এসে গেল। কী যন্ত্রণা! পায়খানা ক’ষে গেল। পরে, ভাল হওয়ার পর আমার মনে হ’ল, সবারই এই রকম হয়, মানে undue heat (অবৈধ উত্তাপ) বাড়ায়। খেতে-খেতে শেষকালে সহ্য হ’য়ে যায়। মাংস আমি খেয়েছি কিনা আমার মনে নেই।
      কাজলদা—মাংসকে বলে first class (প্রথম শ্রেণীর) প্রোটিন।
      শ্রীশ্রীঠাকুর (ব্যঙ্গের স্বরে)—First class না last class (প্রথম শ্রেণীর না নিকৃষ্ট শ্রেণীর)?
      কাজলদা—Stomach-এ (পাকস্থলীতে) অন্য প্রোটিন যখন নিতে পারে না, তখনই ডাক্তাররা মাংস দেয়।
      শ্রীশ্রীঠাকুর—System- এ (শরীর-বিধানে) চায় না অথচ তুমি জোর ক’রে দিয়ে যাচ্ছ। এইভাব দিতে-দিতে পঞ্চাশ-ষাট বছরের মধ্যে stomach-এর (পাকস্থলীর) কাম একেবারে সারা হ’য়ে যাবে। যা’ হবার তা’ ওর মধ্যেই হ’য়ে যায়। সত্যি কথা যা’ তা’ এই। যার ইচ্ছা হয় মানবে, যার ইচ্ছা না হয় মানবে না। যেমন প্রতিলোমের কথা আছে। অনেকে এটা মানে, আবার অনেক পণ্ডিত লোকও মানে না। কিন্তু না মানলেও ফল যা’ হবার তা’ হবেই। ওর ফলে, issue-ও (সন্তানও) খারাপ হয়, প্রসূতিও খারাপ হ’য়ে যায়। সেইজন্য আমাদের পূর্ব্বপুরুষরা, বামুনের ঘরে যদি কায়েতের মেয়ে আসত, তার হাতে খেত। কিন্তু যে বামুনের মেয়ের সাথে কায়েতের বিয়ে হত, তার হাতে কোনদিন খেত না। আবার দেখ, আজকাল ডাইভোর্স করে লোক, কিন্তু Christ (খ্রীষ্ট) এটা vehemently oppose (কঠোরভাবে নিষেধ) ক’রে গেছেন। হজরত মহম্মদ support (সমর্থন) করেননি কোথাও। তিনি আরো বলেছেন, গোমাংস সর্ব্বরোগের আকর, গোদুগ্ধ অশেষ উপকারী। মহাপুরুষদের কথা সকলেরই এক।

(‘দীপরক্ষী’ পঞ্চম খণ্ড থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী)

।। কোনটা খাব, আমিষ না নিরামিষ ।।

সংকলক—তপন দাস

সর্বশ্রেষ্ঠ হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মহাভারতের অনুশাসনপর্ব ১১৪ অধ্যায়ে  বলা হয়েছে—
“যে ব্যক্তি মোহ প্রভাবে পুত্র-মাংস-তুল্য অন্যজীবের মাংস ভক্ষণ করে, সে অতি জঘন্য প্রকৃতির এবং তার সেই জীবহিংসা বহুবিধ পাপযোনিতে জন্মগ্রহণ করবার একমাত্র কারণ বলে নির্দিষ্ট হয়।“

শুধু হিন্দু মতেই নয়, কোন ধর্মীয় মতবাদে জীবহত্যা স্বীকৃত নয়।  

কোরানে, আর্য্য হিন্দু-শাস্ত্রে এবং পুরুষোত্তমদের বাণীতে কোথাও ‘বলিদান’ বা ‘কোরবাণী’-র নামে প্রাণী হত্যার অনুমোদন নেই।

       ‘কোরবাণী’ কথাটির উৎপত্তি  আরবীর ‘কুরবান’ থেকে। ‘কুরবান’ মানে উৎসর্গ, বলি। আবার বলি মানে দান। তন, মন, ধন কর কুরবানী অর্থাৎ কায়, মন, ধন পরমেশ্বরের জন্য উৎসর্গ কর। এই আত্মোৎসর্গ বা আত্ম-বলিদানই প্রকৃত বলি বা কোরবাণী।

মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ আল-কোরানে বলা হয়েছে, “এদের মাংস আর রক্ত আল্লাহর কাছে পৌছায় না, কিন্তু তোমার ভক্তি তার কাছে পৌছায়।”  (সুরা ২১/৩৭)

“আল্লার নিকট তাহার মাংস ও তাহার রক্ত কখন পৌঁছে না বা তিনি তাহা ইচ্ছা করেন না। বরং তোমরা অসৎকর্ম্ম হইতে নিজেকে রক্ষা কর ইহাই তিনি ইচ্ছা করেন। তিনি  আমাদের অধীনে থাকিয়া কার্য্যনির্বাহের জন্য পশু সৃষ্টি করিয়াছেন—সেজন্য তোমরা খোদার নিকট নম্র ও নিরীহ হইতে শিক্ষালাভ করিবে। এই সৎপথ-প্রাপ্তির অর্থাৎ সৎ-শিক্ষার জন্যই খোদা এই ব্যবস্থা করিয়াছেন। যাহারা অন্যের মঙ্গল সাধন করে, তাহাদের মঙ্গল করিয়া থাকেন  ……..”  (কোর-আণ—২২ হজ ৩৭ র, ৫) অথচ কোরবানীর নামে অবাধে নিরীহ পশুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়!

ভগবান বুদ্ধদেব বলেছেন, “আমি কখনই কাউকে মাংস খাওয়ার অনুমোদন করি নি, করি না এবং করব না।” (লঙ্কাবতার সূক্ত)

প্রভু যিশু বলেন, “তুমি হত্যা করিও না” । (এক্সোডাস – 20:13)
“যে একটি ষাড়কে হত্যা করলো, সে যেন একটি মানুষকে হত্যা করলো।”  (ইসা – 66:33)

উক্ত অনুশাসনবাদ আমাদের  স্মরণ করিয়ে দেয়, যে নিজেকে পরমেশ্বরের সন্তান  বা খোদাতাল্লার বান্দা মনে করবেন তিনি কখনই কোন প্রাণীকে ব্যথা দেবেন না, হত্যা করবেন না এবং প্রাণীর রক্ত-মাংসে ক্ষুধার নিবৃত্তি করবেন না।

——

AALOCHANA 4TH

।। আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।

।। বন্ধুরূপী শত্রুকে জয় করার উপায় ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—‘‘কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ, মাৎসর্য্য এই ষড়রিপু যার যত হাতের  বাইরে, তার শরীর-মন তত বেহাল হবেই কি হবে। Sex life (যৌন-জীবন) যার যত unadjusted (অনিয়ন্ত্রিত), তার গোটা জীবনটাও তত বিশৃঙ্খল। অন্যান্য প্রবৃত্তিগুলি আমার মনে হয়, কামেরই রকমারি offshoot (ডালপালা)। মানুষের আদর্শনিষ্ঠা ও দাম্পত্যজীবন এই দুটো দিক যদি ঠিক থাকে, তাহলে অনেকখানি বাঁচোয়া। এর ভিতর-দিয়েই কামের সুনিয়ন্ত্রণ হয়। কাম নিয়ন্ত্রণ হলে অন্যান্য প্রবৃত্তিগুলিও পথে আসে। তাই দীক্ষা ও বিয়ে এই দুটো বিধিমাফিক হওয়া চাই। ……. ’’

(আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড,  পৃঃ ১২-১৩ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী)

       ।। অসতো মা সদ্গময় ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—সৎ যেখানেই মাথা তোলা দেয়, অসৎ সেখানেই তাকে নিকেশ করে দিতে চায়। অসৎ যা’তে সৎকে পরাভূত করতে না পারে, সেজন্য হয় তাকে নিয়ন্ত্রণ করা লাগে, না হয় তাকে হতবল করা লাগে। রোগের বল যদি বাড়তে দেন, জীবনের বলকে তা’ ক্ষুণ্ণ করবেই। তাই খারাপের সমর্থন কিছুতেই করতে নেই। খারাপকে অঙ্কুরেই নিকেশ না  করলে পরে তা’ হাতের বাইরে চলে যায়। খারাপ মানে খারাপ প্রবৃত্তি-পরায়ণতা। নিজের খারাপটাকেও রেহাই দেবেন না, অন্যের খারাপকেও না। এই খবরদারী যদি না করেন, হুঁশিয়ার যদি না থাকেন, অতর্কিতে আক্রান্ত ও বিধ্বস্ত হতে হবে। সৎ-এর পোষণ যেমন  সক্রিয়ভাবে করতে হবে, অসৎ-এর নিরসনও তেমনি বাস্তবে করতে হবে অস্খলিতভাবে। এই দুটোর কোন একটার প্রতি উদাসীন যদি থাকেন, এবং তার প্রস্তুতি যদি শিথিল হয়, তবে তার খেসারত দিতেই হবে। ……..

(আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড,  পৃঃ ৩ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী)

।। গো-পালনের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

‘‘……… গো-পালন গৃহস্থের একটা ধর্ম। বলতে বলে গো-মাতা। মা-ই তো, অমন হিতকারী জন্তু কমই দেখা যায়। বাড়ী-বাড়ী যদি ভাল গোরু পোষে, মানুষ নিয়মিতভাবে যদি ভাল দুধ খেতে পারে, তাহলে স্বাস্থ্য, মেধা ও  বুদ্ধি খুলে যায়, আয়ু বেড়ে যায়। আবার, চাষবাসের জন্যও ভাল বলদ  দরকার। আমাদের দেশে প্রথম অবস্থায় তাই কৃষি ও গো-রক্ষা ছিল একান্তভাবে জড়িত। গোময়ের মত সার ও disinfectant (সংক্রমণ-নিরোধী বস্তু) আবার কমই আছে। আমাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তাই কয় রাখালরাজ, তিনি গোষ্ঠে-গোষ্ঠে ধেনুচারণ করে বেড়িয়েছেন। বলরাম নিজে হাল চাষ করতেন। শ্রীকৃষ্ণের গোবর্দ্ধন-ধারণের কথা আমরা যা শুনি, তার মানেও মনে হয়, তিনি গোজাতির বর্দ্ধনের ব্যবস্থাই করেছিলেন। …… (আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড,  পৃঃ ৮)

।। ইষ্ট-সান্নিধ্যে থেকে কর্মী হবার যোগ্যতা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—আমার এ-কাজ করতে গেলে অন্য কোনদিক চাওয়া চলবে না। নিদারুণ কষ্টের  জন্য রাজী থাকতে হবে। তুমি সপরিবার অনাহারে আছ, তখনই হয়তো আমি তোমাকে বলব—যার প্রচুর আছে, তাকে বিলাসের উপকরণ জোগাতে। আর, তাই করেই যদি তুমি সুখ পাও, ক্ষুধার জ্বালা হেলায় সহ্য করতে পার, তাহলেই বোঝা যাবে, তোমার এখানে থাকার যোগ্যতা হয়েছে।

মানুষ কাকে  কতখানি ভালবাসে তার পরখ হচ্ছে, তার প্রীতি ও প্রতিষ্ঠার জন্য সে কতখানি কষ্ট সহ্য করতে পারে।

(আলোচনা-প্রসঙ্গে ৪র্থ খণ্ড,  পৃঃ ১০, ইং ৭-৯-১৯৪২)    8504000″}],”name”:”SEARCH_ENGINE”,”source”:”1004″},{“invalidation-list”:[{“isUnknownVersion”:false,”objectId”:{“name”:”SESSION”,”source”:1004},”payload”:”W:ChezwtVg/OjfwRpQQTJtFjW6dPSpkKgZFxCm1cqK+5aPlkkYMyIqCgwI3K/59AUQgMmHuAEaDAjlr/n0BRCAnKWzASIMCOWv+fQFEMCwg8MB”,”version”:”1587435493376000″}],”name”:”SESSION”,”source”:”1004″},{“invalidation-list”:[],”name”:”THEME”,”source”:”1004″},{“invalidation-list”:[{“isUnknownVersion”:false,”objectId”:{“name”:”TYPED_URL”,”source”:1004},”payload”:”W:ChezwtVg/OjfwRpQQTJtFjW6dFT4WV8QFxCm1cqK+5aPlkkYMyIpCgsIy53h8wUQgKiXYxoMCNSd4fMFEMDGnaoBIgwI1J3h8wUQwPGsvAE=”,”version”:”1584942804357000″},{“isUnknownVersion”:false,”objectId”:{“name”:”TYPED_URL”,”source”:1004},”payload”:”W:ChezwtVg/OjfwRpQQTJtFjW6dBQXRqgZFxCm1cqK+5aPlkkYMyIqCgwIqq359AUQgOK0vAMaDAi0rfn0BRDA+9TzASIMCLSt+fQFEICQs4MC”,”version”:”1587435188511000″},{“isUnknownVersion”:false,”objectId”:{“name”:”TYPED_URL”,”source”:1004},”payload”:”W:ChezwtVg/OjfwRpwetu4sNWS+it/9UQdFxCm1cqK+5aPlkkYMyIqCgwIrcS09QUQwOqOqAIaDAizxLT1BRDA3fe7AyIMCLPEtPUFEID7z8wD”,”version”:”1588404787931000″}],”name”:”TYPED_URL”,”source”:”1004″}]},”media”:{“device_id_salt”:”wIMcqTjcK7uvU27228vj7g==”},”net”:{“http_server_properties”:{“servers”:[{“static.xx.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“scontent.fccu2-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“scontent.xx.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“facebook.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“video.fccu2-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“scontent.fccu11-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“mail.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“www.gmail.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“scontent.fccu13-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“ajax.googleapis.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“taskassist-pa.clients6.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“21.client-channel.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“3.client-channel.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“14.client-channel.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“27.client-channel.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“stats.g.doubleclick.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“myaccount.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“ssl.google-analytics.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“lh5.googleusercontent.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“in.search.yahoo.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“c.bing.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“s.yimg.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“www.bing.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“accounts.youtube.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“tools.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“chrome.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“clients2.googleusercontent.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“accounts.doubleclick.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“dl.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“2542116.fls.doubleclick.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“sonar6.fhyd6-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“accounts.google.co.in:443”:{“supports_spdy”:true}},{“sonar6.frdp1-1.fna.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“video.xx.fbcdn.net:443”:{“supports_spdy”:true}},{“graph.facebook.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“upload.facebook.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“pixel.facebook.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“fbsbx.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“aa.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“drive-thirdparty.googleusercontent.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“contacts.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“clients6.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“people-pa.clients6.google.com:443”:{“supports_spdy”:true}},{“1.client-chan

AALOCHANA P. 1ST PART

আলোচনা প্রসঙ্গে থেকে সংকলিত শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী

        বেদভ্যাস মানে ঋগ্বেদ-যজুর্ব্বেদ ইত্যাদি শুধু পড়া নয় ! বেদ মানে  recorded experience (লিপিবদ্ধ অভিজ্ঞতা), বেদাভ্যাস মানে সেই experience (অভিজ্ঞতা) জেনে নিয়ে কাজে লাগিয়ে তারপর মিলিয়ে দেখা। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৫৩)

       প্রফুল্ল—জাতিস্মরতার মধ্যে অদ্রোহের স্থান কোথায় ?

       শ্রীশ্রীঠাকুর—দ্রোহভাব থাকলে মন  obsessed (আবিষ্ট) হ’য়ে থাকে, নানারকম ভাবের উদয় হয়, সবটার expression (ভাব) দেওয়া যায় না, repression (নিরোধ) হয়—এতে জাতিস্মরতার ব্যাঘাত জন্মায়। ……. যারা অত্যাচারে-অত্যাচারে আমার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে, তুলছে, তাদের কথা মনে হলে ভাবি, ওদের উপর রাগ করলে যদি ওদের কোন ক্ষতি হয়, মারা যায়, তাই অমনি মনে আসে—Let them enjoy their little days, their lowly bliss receive, Oh do not take lightly away the life—thou canst not give. (তারা  তাদের স্বল্প দিনগুলি উপভোগ করুক। তাদের অকিঞ্চিৎকর আনন্দ উপভোগ করুক, যে-জীবন তুমি দিতে পার না—তা’ অতি তুচ্ছভাবে নষ্ট করো না।)

       ওদের প্রয়োজনের সময় ওরা কিছু চাইলে তখন ভাবি—Thy necessity is greater than mine. (তোমার  প্রয়োজন আমা-অপেক্ষা বড়), যা’ চায়, না দিয়ে পারি না ! (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৫৩)

।। সর্ব সার্থের সমাধান
জানিস ইষ্ট প্রতিষ্ঠান ।।
বাঙ্গলায় যে কয়টা Division (বিভাগ) আছে, সেই কয়টা University (বিশ্ববিদ্যালয়) হওয়া দরকার। এক-একটা ঋষির নামে এক-একটা University (বিশ্ববিদ্যালয়) হবে। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৪৪)


 “মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে” গীতার এই প্রসঙ্গে বললেন—স্মৃতিবাহী চেতনা থাকলে মৃত্যুও মৃত্যু নয়, পুনর্জন্মও পুনর্জন্ম নয়। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৪২)


 ঐ ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠাপন্নতা—সর্বত্র ঐ এক কথা, ও-ছাড়া আর কথা নেই। গীতায় যে এত কথা তারও সার এই। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৮৭)

বর্ণাশ্রমের মধ্যে un-employment (বেকার সমস্যা) বলে জিনিস ছিল না, তা’তে বৃত্তিহরণ ছিল মহাপাপ, প্রত্যেকে স্ব-স্ব বর্ণোচিত কর্ম করতো, প্রত্যেকে প্রত্যেকের সহযোগী ও পরিপূরণী হ’তো।
(আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ৭৯)

বিমলদা—Libido (সুরত)-টা কী ?

শ্রীশ্রীঠাকুর—যে cohesive  force–এর (সংযোজনী শক্তির) দরুন sperm ও ovum  (শুক্র ও ডিম্ব) fertilized (মিলিত) হ’য়ে zygote form (জীবনকোষ গঠন) ক’রে cell division (কোষ-বিভাজন) হ’তে-হ’তে মানুষ হয়ে ওঠে—তার underlying  magnetic current (অন্তর্নিহিত চৌম্বক তরঙ্গ)-ই হ’লো libido—একে বলা যায়  tendency towards unification (মিলনের ঝোঁক), এটা অভ্যাস,  ব্যবহার, ঝোঁকের ভিতর-দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে, আর এই libido  চায় integration (যোগ)। (আঃ প্রঃ ১ম খণ্ড, পৃঃ ১০৪)

                                  ———

       তপোবনের নিয়মকানুন, আইন-শৃঙ্খলা কেমন হবে, সেই সম্বন্ধে ক্ষিতীশদা প্রশ্ন করলেন।

       শ্রীশ্রীঠাকুর—আইন-কানুন যা’ করবেন, তা করবেন to fulfil the wishes of the Guru and not to  fulfil the advent of complexes  (গুরুর ইচ্ছাকে পূরণ করতে ; কিন্তু প্রবৃত্তির আবির্ভাবকে পূরণ করতে নয়কো)। আইন-কানুন প্রয়োজনবশে normally evolve করে (সহজভাবে বিবর্ত্তিত হ’য়ে ওঠে)—সেই-ই ভাল। জোর করে কতকগুলি উপর থেকে চাপাতে গেলে, মানুষ  পীড়িত বোধ করে, তা’তে প্রাণের উল্লাস কমে যায়। আর, এটা ঠিক জানবেন, আপনারা যদি true disciple (খাঁটি শিষ্য) হন, discipline (নিয়মানুবর্ত্তিতা) আপনাদের মধ্যে spontaneously (স্বতঃই) গজিয়ে উঠবে, আর সেটা হবে normal  discipline (সহজ  নিয়মানুবর্ত্তিতা), formal  discipline (বাহ্যিক নিয়মানুবর্ত্তিতা)-এর উপর বেশী  ঝোঁক দিলে অনেক সময় normal  discipline (সহজ নিয়মানুবর্ত্তিতা)-কে  হারাতে হয়। Formal  discipline (বাহ্যিক নিয়মানুবর্ত্তিতা) যদি enforce (কার্য্যকরী) করতে হয়, তবে তা’ এমনভাবেই করতে হবে, যা’তে তা’ normal  discipline (সহজ নিয়মানুবর্ত্তিতা)-কে উস্কে তুলতে সাহায্য করে। প্রধানরা যত  disciplined (নিয়মানুবর্ত্তী) হয়, অন্য সকলেও সেটা তেমনি imbibe (নিজেদের মধ্যে গ্রহণ) করে। আপনি যতখানি ordination–এর (ক্রম বা ধারার) মধ্যে আসবেন, আপনার সহকারী যারা ততখানি আপনার sub-ordination–এর (অধীনতার) মধ্যে আসবে,  এর ভিতর-দিয়েই আসবে co-ordination (সঙ্গতি)। নিয়মকানুন যা’ই করুন, চোখটা নেবেন আমার। আমি সব সময় ভাবি, কাউকে যদি উপযুক্ত করে তুলতে না পারি, তার মধ্যে আমার ত্রুটি  কতখানি ও কোথায়। তার জন্য আমার যতখানি করার ছিল, তা’ আমি করতে পেরেছি কিনা,  করেছি  কিনা। এই যখন ভাবি, তখন সে কি করেনি, তার জন্য মন খারাপ হয় না, মন খারাপ হয় এই ভেবে যে হয়তো আমার করায় কোথাও কোন খাঁকতি আছে। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়, আমার সাধ্যে যা’ কুলায়, তার ত্রুটি করিনি, তবু মনে আপসোস হয়, আরো বেশী কেন করতে পারিনি। আর, আমি যে এমন করি, এ আমার নিজের interest–এই (স্বার্থেই) করি। তার কারণ, আমি জানি, আপনাদের প্রত্যেককে  নিয়েই আমি, এমন-কি কুকুর-বিড়ালটাকেও পর্য্যন্ত এ-থেকে বাদ দিতে পারি না। মনে হয়—কেউ যদি down (অবনত) হ’য়ে থাকে, আমিই down (অবনত)  হয়ে রইলাম। এই interest (স্বার্থবোধ) ও sympathy (সহানুভূতি) নিয়ে করেন, চলেন ; দেখেন পরমপিতা আপনাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করেন।  (আঃ প্রঃ ২য় খণ্ড, পৃঃ ৬৫)

                                          ——- H3YFwwKQr7AYPQiCu6M3ZBWqrLA66IiH+ULN4gCVhJ8Ra+q2Lv0/Re9xROh4oNJUePzEhYyl8ONKdn4b3wxLfFFuu/gVmy8mODnZ2uIMjRcb8HRrPc3rz9LZYZgDQvNckNowB+aPDjWN0aNU+gDFNwVKxSUqqwnFFkTNR3LhcUbeFU0sGkRKt6XeS7ckhQLOC2eilX1UkpVFVWjWXYPXFfGekkR0LAgFnBuVjyV46t6KYcNiPwwRM2oM/vg+oQi66oi0Wx+GLUA4XajDSF2kpn0+0LhScbgtG+cGgelpfd//jEP+t9wOCZoVpViBV2cxzeIeCHSF+8jta9h9/7VPWepzFYIU6cqWBXLWNZp1nvvPWcpzosGQr7Jg2PAQNw/DsYHSkuv+Ncvem6iUO7Jox9FA8GoJWMHgb957AuEwM29EaC8724mQHnvIy83wPVJPMtXJZ3OG5VhJg+O9beozK8o6I3NzoqS2Z5xXsPCUV4vlES5GKHimy1VSatKOaEIOPN86LVezZRUpVospUUsCTOqyEu0wPrgAb6OLKfiW6pY07XcrKLmhGq5vJib5QtY11BN4dir4L6KqlT4Iq/jXIXXtAVFFXKFEi8XsZbTldwCziNbY12q2pfZChv5o/u4Z6GBgH/y4OiGQHSSmWSDUXaSGesfA2PUWF9NAJ7xAdLFtsckHasyr+OEUq4oMpb1E6pkKnWg3VdayHvbfeOuRINBQpeZZEY3hHymkrKmko4BRxN4xgdOvuJzD37sEnSGgnSsXInzhbmiSvrpDJ+P9MWb3mUug0OxcmVKxSqWBazSfXmE6ERixg013oyNFvIINkFytKmFowMhv6HqAzdR6BVPFTOoxgxrdQzCzlMpG2IARgdCAaPnEGZeTUEUkwVVEYXY4Vga13qJ3SUz43CTpZC5I3xVLpRowbByTYWcVq7PsHJNINxONBCMEEUOEXXyM+GIrUbjAycff+Q1X9+M7m/LkdX7V5UjAmJblXZM72jFdP/4wMl/fujt960n7TkUk6S4osyVeXVOc41gO50cbHIDko/2sNX8cZfDLAj5Tcj1lduOBoIsacug0ZaWKRgg7bkhqSzIksIL2gnRKbbROjUqv9EFRr7VTHB+I3J92wM3WOU4rOl0vrGswy73Gf0vaPAVMnUMZVzQ3vd/6ONfJYN8zfw52BIaUHObkFk/S0PQmym4zWqgQ6KmK+riUV7mi1h11vMyJ8IdbQoQqHrD7EBtoFx124M2BCPE/kajUcMUmuoQ9U0yBnd3P6XcjXXgzjA9F7D0iJ788yC8zEJzWJ5SFaFa0A9hqZLkdX6an8fqlIrnictABrLfUHU2R9itcIif50WJz4uSqC+ifl5eZP8IbsTzWNZzuioWi1hFh2S+jK8ReJ3PaQRfrmIizImVkg10bUEpV3iV1xX1muuvZ65dEGVBWbgmylxLKsYX8TX+EMM+D0ITdVXDAkq0w6tUsIwFJ8rrrve1QYngkIY1zfAweB0jcJ0vvx0OH546lGsUQOYJCg7OqHxhTpSLF2vtmba1v7SueiP57ag10GUO49kWivtZPxoy1dDnYyeDRi/mBnI5XOYAjznAz3KAJ/9XOMCrHOBPcyAvcCA/y4F8iQN5kQP5mzmQlzmQVziQVzmQ1zmQX+BAQeBAYZYDhSIHCiIHChIHCmUOFBQOFFQOFKocKMxzQLiZA4LCAeE0B3CBA7jIAaxyAOscKPIcKGIOFEscKJY5UJQ5ULyFA0XybYEDxUUOlGQOiAIHRPL3Fg6IKgduVjgwhzkwV+TAXIkDc2UOzC1wYO40BySeA1KeA9IcBySVA5LGAWmRA2WeA+UiB8oSB8plDpRlDpRVDpSrHCjPc6C8wIHyKQ6UCexpDsg8B2TMAbnIAVnkgFzhgFLmQIXnQAVzoFLiQGWOAxWVAxWNA5VFDtzCc0CtckBd4IDGc0ArcEATOKBJHNBkDmgKBzSVA5rOAW2eA9oiB7TTHNAFDuhFDuglDug3c0CXOKCXOaDLHNBVDuinOVAtcqC6yIHqaQ7MYw7MyxxYxBw4zXPgdJkDpxdKS/d98Mse9Ll1y7AzB+AllrLdwNJsW3X7HQUvscwRgWvuks++3ncuuyTn6pLJFXVJnz+4UovE/byxIxkDzlpXusi70r9essIhm7o4B632Q/YV9YWs6uwsVulL2toS1+h+kQqq/eh+EG6yK99VUpc6Jy3tgK6AGy2grvicTkO6d6ehf83SXfSW7iuXwLGWls6arB5Sytiwch8GzonJcEPnHXj29b4A+xy43uxiPnSd2b8sLDnSnSSsuzvWs9t2rJlGM5BwoyspZbx8C3DEZQGe3QJlc+dvj62VlUSQNrqWQ3iZjwDXpGZNci3NZivJ7XVOiBBqBhhzTYZaQKxNhJ6JNu1X63q0aXudu1etFOwjDqPXZvJzqN5zr19ez22cl5ybrnvU1XX/YLldt5fJU4u+uzZxemZ2vc/CFbgT1Nqg2Ls7caB5wtXGcjknW2sC7tnruLzFRK2VhPc6J2mtAA40T9C6OTHp3pyYtYnZxW9JH+syMZvii6Yl/chKJmZVDau5Eq/lNIzlnCDKyup09ApfXG0fxUCp6byqr6IpJdLL/M2KZmbPMNE1GUlDdJ2mZgZAx6kZgVibmj0Trdqvu0zNalat09TM7rzLnpr13HWXOzVbWd895uq7f7jsvruCuZnR89bmZs/Ivvf5LnOzlh7FvrVhcRkeRffJWbPjsSbh5TgePczOGh2UptmZ3VRdZmdNfkzT7Ky1H7M2O7v4bemnBuBIrKors6IkPRcv5hVeFWKFAtY0RV30Lt1z9xc97oO9NW305Hei9kUJpG16PfmdHYh.

AALOCHANA 21

।। প্রেরিত প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।
প্রেরিত মানে প্রেরণাপ্রবুদ্ধ যিনি। তাঁকে গ্রহণ করতে হয়। বোঁটা না থাকলে পাপড়িগুলি সেজে ওঠে না। গুরুগ্রহণ মানেই দ্বিজ হওয়া।
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ২৫৮)

।। আত্মশোধনের পন্থা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।
আত্মশোধনের পরম পন্থা আচার্য্যে সুনিষ্ঠ অনুরাগ-উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠা, ইষ্টতপা হয়ে ওঠা—এইটুকুই সব এনে দিতে পারে, তুমি বেকুবই হও আর মূর্খই হও। আচার্য্যই বেত্তাপুরুষ, বেত্তাপুরুষই ঈশ্বরের জীবন্ত বেদী। কেউ কেউ প্রেরিতপুরুষ কয়।
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ২৫৮)

।। কৃপা মানে করে পাওয়া ।।
শ্রীশ্রীঠাকুর—কৃপা মানে আমি বুঝি করে পাওয়া। ছোটবেলায় আমি শুনেছিলাম টুণ্ডো জগন্নাথ। কর্ত্তামাকে জিজ্ঞাসা করলাম, পা আছে? তিনি বললেন আছে। তখন বুঝলাম হাত নাই কিন্তু পা আছে। তাঁকে ধরলে নিয়ে চলতে পারেন। বাপ-মারও ছেলেপেলের ওপর হাত নেই‌। বাপ-মাকে যদি ছেলেপেলে ধরে, তবে টেনে নিতে পারেন। নচেৎ ‘ওরে বাবা আয়, আয়’—এই করা ছাড়া তাদের আর পথ নেই। 
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ৬১-৬২)

।। সামাজিক শোষণ প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।
তুমি জন্ম নিলে যখন তখন তুমি কিছুই কর না, মাকে শোষণ করতেই হয়। কিন্তু মাতৃমুখী সন্তান ক্রমিক যোগ্যতায় মাকে পোষণ দেবার জন্যই প্রস্তুত হয়। যখন পোষণ না দিয়ে শোষণ কর, তখন সেইটেই দোষের। পরিস্থিতির সত্তাপোষণ ও সংরক্ষণ না করে নেওয়াটাই শোষণ। 
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ৫৬)

।। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী ।।
বৈশিষ্ট্য মানে বিশেষ স্থিতি। যখন যে-অবস্থায় যে-অবস্থিতিতে যেমন করে চলতে থাকে। যে-উপাদানিক সংহতিতে যা যেমন হয়ে আছে, সেইটিই তার বৈশিষ্ট্য। বৈশিষ্ট্য মানে বিশেষ শাসিত সংস্থিতি। (আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ৪৫)

“…… আমরা আমাদের নিজেদের কৃষ্টির ধার না ধেরে পরের পরাক্রমে অভিভূত হয়ে চলছি। তাই, আমরা যত আন্দোলনই করি, একটা bastard thinking (জারজ) চিন্তা নিয়ে চলি।”
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ৮১ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী)

“…… Mass (ভর) আর energy (শক্তি) একই জিনিস। Energy-রই (শক্তিরই) একটা transformed (পরিবর্তিত) emanation (নির্গমন) হ’ল mass (ভর)। …. “
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ৭২)

মানুষ যেমন ভাল হতে পারে, তেমনি খারাপও হতে পারে—এটা দুইই তার বুদ্ধির উপর নির্ভর করে। নিকৃষ্ট জীব শুধু সংস্কারে চলে। উন্নততর জীবের ভিতর বুদ্ধি ও ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ বেশী দেখা দেয়। তাই, তার প্রয়োগ-অনুযায়ী তারা ভাল ও মন্দ দুই-ই হতে পারে। (আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ৭৭)

যার ভিতর বিবর্ত্তনী আকূতি যত বেশী, সে তত সুকেন্দ্রিক হয়। ইন্দ্রিয়-উপভোগের আকূতি যার বেশী সে তত বিকেন্দ্রিক বা বহুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং বাস্তবে ভোগবঞ্চিত হয়।
(আলোচনা-প্রসঙ্গে ২১ খণ্ড, পৃঃ ৭৭)

।। বিশ্বাসঘাতকতা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।
“…….. মানুষ যত insincere (কপট) হয়, ততই ইষ্টকে betray (বিশ্বাসঘাতকতা) করে। আর, ইষ্টকে betray (বিশ্বাসঘাতকতা) করে যে যত, সে নিজেকেও তার ভিতর-দিয়ে ততখানি betray (বিশ্বাসঘাতকতা) করে।”
(আঃ প্রঃ খণ্ড ২১, পৃঃ ১০)

প্রসঙ্গক্রমে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—দুইরকম লোক আছে, এক তৃপ্ত গম্ভীর, আর হ’ল অতৃপ্ত গম্ভীর। তৃপ্ত গম্ভীর যা’রা, তাদের খুব ভাল লাগে। তাদের নাক, চোখ, মুখ সবটাতেই যেন একটা তৃপ্তি মাখান ভাব থাকে। অতৃপ্ত গম্ভীর যারা, তাদের তেমন ভাল লাগে না। (আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ১৭৬)

Go-between (দ্বন্দ্বীবৃত্তি) বড় বিশ্রী জিনিস। শরীরের যেমন যক্ষ্মা, ও তেমনি মনের যক্ষ্মা।
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, ২০১ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণী।)

২রা শ্রাবণ, ১৩৫৯, শুক্রবার (ইং ১৮-৭-১৯৫২)
শ্রীশ্রীঠাকুর প্রাতে যতি আশ্রমে। যতিবৃন্দ আছেন।
শরৎদা (হালদার)—সবার প্রত্যেক শুক্রবার পালন করা ভাল, না শিশু-প্রাজাপত্য করা ভাল?
শ্রীশ্রীঠাকুর—শিশু-প্রাজাপত্যটা একটা (অবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা)। ওটা খুব ভাল। ওতে সারা মাসের গ্লানিটা (নির্গত) হয়ে যায়, ও না পারলে শুক্রবার করা ভাল।
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ১২৪)

।। মানুষ আপন টাকা পর ।।
“টাকা দিয়ে মানুষকে জয় করলে, সে এক কথা। কিন্তু তোমার ব্যবহার দিয়ে জয় করতে না পারলে তোমার দাম হ’ল না। যে-কোন পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় আচার, আচরণ ও সেবা দিয়ে। ভালবাসা আদায় করে নিতে হবে নিজের ব্যবহার দিয়ে। প্রীতিপ্রত্যাশা নিয়ে যেই চললে অমনি তুমি pauper (দরিদ্র) হয়ে গেলে। আর, প্রত্যাশা না থাকলেই তুমি richman (ধনী লোক)। 
(আঃ প্রঃ ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৩৪)

।। ভ্রষ্টচরিত্রা নারীদের অমরত্ব লাভ প্রসঙ্গে ।।
কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—একটা মেয়ে যদি ভ্রষ্টচরিত্রাও হয়, আর সে যদি পরে শ্রেয়পরায়ণা হয়ে ওঠে, তাহলে তার বরং নিস্তার আছে। কিন্তু কোন মেয়ে যদি দৈহিক পবিত্রতা বজায় রেখেও মানসিক অপবিত্রতা নিয়ে চলে, অথচ উদ্ধত দাম্ভিকতায় নিজের চাইতে শ্রেয় বলে কাউকে ভাবতে না পারে, নিজের হামবড়াই প্রতিষ্ঠার খেয়ালই তার যথাসর্বস্ব হয়, তার ইহকাল-পরকালে গতি নেই। কতজনের বেলায় দেখা গেছে, শ্রেয়নিষ্ঠার ফলে তারা অমর হয়ে আছে। মেরী ম্যাগডালিন, আম্রপালী, পিঙ্গলা বেশ্যা। এদের জীবনের দিকে চেয়ে দেখ না ?
(আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৩১, ইং ২৬-০৭-১৯৫২) 

?

২৩শে চৈত্র, ১৩৫৮, শনিবার (ইং ৫। ৪। ১৯৫২)। স্থান ঠাকুরবাংলোর গোলতাবু, দেওঘর।

ইছাপুরের একটি  দাদা জিজ্ঞাসা করছিলেন—মন্দিরগাত্রে যৌনচিত্র কেন দেখা যায় ?

       শ্রীশ্রীঠাকুর—একটা zygote (জীবনকণিকা) থেকেই আমাদের জন্ম। আমাদের যা কিছু affair (ঘটনা), তার পিছনে থাকে ঐ রস। রস মানে আস্বাদন। ঐটাকে base (ভিত্তি) করে যা কিছু। সৃষ্টির prime operation (প্রাথমিক ক্রিয়া) অমনতর। তাই মন্দিরগাত্রে যে কামলেখা, তার মানে হচ্ছে ঐ কামলেখার মধ্য দিয়ে যেন তুমি তোমার ঠাকুরেই পৌঁছতে পার। তান্ত্রিক যুগে ঐ জিনিসটার প্রবর্তন হয়েছিল। আমি তোমাদের  কামলেখার অভ্যন্তরে আছি,  যদি তা’ সত্তাসংবর্দ্ধনার বিরোধী  না হয়। তাই কামকে পবিত্র করে নেওয়া লাগবে। (আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড)

।। মন্দির, শ্রীমন্দির ও সৎসঙ্গ বিহার-এর গঠনতন্ত্র প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—সব  মন্দিরই শ্রীমন্দির। জায়গায় জায়গায় মন্দির বা সৎসঙ্গ বিহার ঠিক করা ভাল, যাতে লোকে  meet (সাক্ষাৎ) করতে পারে। সেখান থেকে মানুষকে সবভাবে infuse (উদ্বুদ্ধ) করতে হবে। ধর্ম্ম কী, কৃষ্টি কী,  সদাচার কী, বিবাহের নীতি কী, যোগ্যতার অনুশীলন কিভাবে করতে হয়, সেবানুচর্য্যার ভিতর দিয়ে সবাই পারস্পরিকভাবে  সম্বন্ধান্বিত হয় কিভাবে ইত্যাদি কথা সেখান থেকে চারাতে  হবে। মানুষকে practically educated (বাস্তবভাবে শিক্ষিত) করে তুলতে হবে। তাছাড়া মানুষের জন্য যতখানি যা করা যায় তাও  বাস্তবভাবে করতে হবে মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে। মন্দির থাকলে, ঋত্বিক থাকবে, dispensary (চিকিৎসাকেন্দ্র),  হাসপাতাল, গবেষণাগার, তপোবনের শাখা ইত্যাদি থাকবে। হয়তো ঐ মন্দিরগুলিই এক একটা university (বিশ্ববিদ্যালয়) বা সর্ব্বতোমুখী শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

(আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ৩১, ৪ঠা বৈশাখ,  ১৩৫৯, বৃহস্পতিবার, ইং ১৭-০৪-১৯৫২)

।। নিত্য তর্পণ  করা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

কথায় কথায় শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, খাবার সময় পঞ্চদেবতাকে দিয়ে, তারপর বাবা, মা,  পিতৃপুরুষ, আবার সৎসঙ্গের যারা ছিল, সৎসঙ্গের বাইরে যারা ছিল,  সকলের কথা স্মরণ করে  নিবেদন করি। যেদিন কোন  কারণে ভুল হয়ে যায়, সেদিন বড়ই খারাপ লাগে। খেতেই পারি না। ভাতটাত বদলে দিতে হয়।

পিতৃতর্পণের ভিতর দিয়ে আমাদের latent possibility-(সুপ্ত সম্ভাব্যতা)-টা unfolded (বিকশিত) হতে থাকে। (আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ৪০)

।। জীবের আবির্ভাব প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—চিদ্অণু আছে। তার  মধ্যে আকুঞ্চন-প্রসারণ আছে, যোগাবেগ আছে, আকর্ষণ-বিকর্ষণ আছে, আকর্ষণের ভিতর দিয়ে combined (যুক্ত) হয়, এইভাবে জীবের আবির্ভাব হয়। একটা finer mass or atomic body (সূক্ষ্ম পিণ্ড অথবা পারমাণবিক দেহ) হয়তো হ’লো, intelligence (বুদ্ধি)-টা এইভাবে materialized (বাস্তবায়িত) হ’লো। যে পরিবেশের ভিতর থাকলো, তা থেকে life urge (জীবন-আকূতি) অনুপাতিক গ্রহণ করতে লাগলো, চিৎকণা সেইভাবে adjusted (নিয়ন্ত্রিত) হ’য়ে gene (জনি) সৃষ্টি করলো, mutation (পরিবর্তন)-ও হ’তে থাকে এইভাবে। অর্থাৎ বাঁচার চাহিদায় environment–এর (পরিবেশের) সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে,  পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সত্তাসঙ্গত যে acquisition (প্রাপ্তি) হয়, যা কিনা gene (জনি)-কে প্রভাবিত করে বা পরিবর্তিত করে, সেই পরিবর্তন বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। (আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১০৭, ইং ২৯-০৬-১৯৫২)

।। ভ্রষ্টচরিত্রা নারীদের অমরত্ব লাভ প্রসঙ্গে ।।

 কথাপ্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন—একটা মেয়ে যদি ভ্রষ্টচরিত্রাও হয়, আর সে যদি পরে শ্রেয়পরায়ণা হয়ে ওঠে,  তাহলে তার বরং নিস্তার আছে। কিন্তু কোন মেয়ে যদি দৈহিক পবিত্রতা বজায় রেখেও মানসিক অপবিত্রতা নিয়ে চলে, অথচ উদ্ধত দাম্ভিকতায় নিজের চাইতে শ্রেয় বলে কাউকে ভাবতে না পারে, নিজের হামবড়াই প্রতিষ্ঠার খেয়ালই তার যথাসর্বস্ব হয়, তার ইহকাল-পরকালে গতি নেই। কতজনের বেলায় দেখা গেছে,  শ্রেয়নিষ্ঠার ফলে তারা অমর হয়ে আছে। মেরী ম্যাগডালিন, আম্রপালী, পিঙ্গলা বেশ্যা। এদের  জীবনের দিকে চেয়ে দেখ না ?

(আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৩১, ইং ২৬-০৭-১৯৫২)

।। বর্ণাশ্রম অনুযায়ী জীবনবর্দ্ধনাকে রক্ষা করা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কাতর আবেদন ।।

বেনারস হিন্দু  বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজির অধ্যাপক শ্রীযুক্ত আর. সি. সিনহা গবেষণার জন্য বিলাতে যাচ্ছেন শুনে— ‘‘শ্রীশ্রীঠাকুর খুশি হয়ে বললেন—খুব ভাল, খুব ভাল। আর, ওখান থেকে সংগ্রহ করা লাগে আর্য্যকৃষ্টির সমর্থনে কী কী পাওয়া যায়. বিজ্ঞানের ভিতর দিয়ে, ইতিহাসের ভিতর দিয়ে, দর্শনশাস্ত্রের ভিতর দিয়ে, সবটার ভিতর দিয়ে সমর্থন বের করতে হয়। বর্ণাশ্রম ও অনুলোমের সমর্থনে যা’ পাওয়া যায়, তা’ বের করতে হয়। আর, ঐসব ভাল করে গুছিয়ে বই লেখা লাগে। সেটাই ভারতকে বাঁচাবে। আজকাল সবার মাথা বিভ্রান্ত। আজকের দিনেই ঐ জিনিসের প্রয়োজন সবচাইতে বেশী। সারা জগতের জন্য আজ ঐটা দরকার। তোমার পড়াশুনার মধ্য দিয়ে যদি ঐটে করে ফেলতে পার, খুব ভাল হয়। ‘Indian  genetics and Varnasram’ নাম দিয়ে বই লিখতে হয়, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে। আজকাল অনেকে মনে করে, যে  বামুনের মেয়েকে নিম্নবর্ণের পুরুষ অনায়াসেই বিয়ে করতে পারে। কিন্তু তা’তে যে কতখানি সর্বনাশ তা’ বোঝে না। আর, প্রাদেশিকতার বুদ্ধি ভাল না। একেবারে আত্মঘাতী। বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে বিধিমত বিয়ে-থাওয়া হওয়া  দরকার। কুল, বংশ, চরিত্র,  প্রকৃতি ইত্যাদির পারস্পরিক সঙ্গতি দেখে বিয়ে দিতে হবে, সে সবর্ণই হোক বা অনুলোমই হোক। Inter-Provincial Marriage (আন্তঃপ্রাদেশিক বিবাহ) যদি ঠিকমতো না হয়, তবে কালে-কালে প্রায়  same blood (একই রক্ত) হয়ে যাবে।“ (আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৭৪-১৭৫, ইং ১০-০৯-১৯৫২)

 ।। রকমারি বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ।।

মানুষ developed (উন্নত) হয়, উন্নত বোধিপরায়ণ হয়, কিন্তু conflict (দ্বন্দ্ব) ও শ্রদ্ধা যদি  না থাকে, তাহলে হয় না। একটা জাতি যদি থাকে, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও তার রকমারি বৈশিষ্ট্য যদি না থাকে, তবে conflict (দ্বন্দ্ব) হবে না। তাই dull (মূর্খ) হয়ে যাবে সব জাতটা। Becoming (বিবর্দ্ধন) আছে বলেই দুনিয়ায় কখনও এক pattern (ধরন) দেখবেন না। Variety is the father of development, intelligence and adjustment (বৈচিত্র উন্নতি, বুদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণের জনক)। সব একরকম হলে মিসমার হয়ে যাবে।

(আলোচনা-প্রসঙ্গে, ২১ খণ্ড, পৃঃ ১৫, ইং ৪-৪-১৯৫২) FcNBvRYkGUsvNaVA8Pe6+XA6ugX1eDAF2gwqf+/7/7t28/D1C9X1eKIJBdMT+BfPnPKkUtvt30u2VpRAZdbw9BWWF5OssDqixOSEtgboKY/d/OXrm3GzX/aqTsHPjLsmfSvpWow4HKVSy3BAOXCQMVlhZ4xrFwXkwBq0boGBMGRAsZYmzmiPzm8wImMrN2viTgvvJlaDkoqDs21uxWPvRk0GhBTSKRBfLuRRhP/7Ti4MNg5RK4tLHZ8AT+8hQLM6ERyWJoXBYnLklDUCSRyBbvTvjWMXmxPzdxRvWpFhtWqgM7QWbRlE8R3xA//CnSMTiRHOEU9itLJjCwJAl6ajIoKUhVm8R13fbpqAjOnCyXxmtSisodsbfFacD7Gj9dBCTQnzaIpaRaJyqSMksmJwwqSFWbxTf/4AYfh7TGiGI8YSdUmSqqtRrl3SIWTUiSmq38SbBudSI4lDidFrqjkJW2GZRbf+MEvLsuTpc/0ZPkmBRrHUUGSF46ibA7p+Qw8rj6mLfG9oNHytQzTLexWAOZxvZTCX4mgLxwLOWHYShg2VAYTcYEpxxOthImEQhWKimreXH74Rl/9Yvnje5xi+VnaQcrLhpwgbCVItAwkUgnSUwYSrQTpKxM7RvsrVFyuvh4XGLYMptcFJloG0+cC01MG0+8C0+doBi33a9TMHfGGZTQEVd4Q1NINUQFS2RAVIJUNUQFS2RBUHQ1RCVPZEJUwlQ1RCVPZEJUwfaH4ZqshvrfR7BB45BgDTaMTSeJJPsdnJFFhFm/877vqTebYZI0ZpFUvXxU2677dD9+0GTRrqEj8UG0X9cV33+1YOtzrBY0JTkVTeV4ZKBbpdrYVbMxIhQInZmGjzKlIzfMKVyyye4EPiVm4IxLqHCjlSorayYbCPZ1sZH+sf3+sv3MyOcVuBg2YZ9ggSDmJbQGNBe6EGZ3VHw71hUJssxYXfo5H8wr0hkPs+aCxgFSZz2jelLSNHcI42ww2FfE/UnwW2wbLBgHQPqjohArPHx1OpgYmJ1OJganRQwdTk4mJ8YlUciqB/xidSLI7TfCFIoJNmbwsFVBKF5LdDbbrHKYUXsyglJ5cAvrDfaEQZs9P3DBha3/nOLegSR3aH8L/YaHj1/pA67g0h6akYSkzq7niD2TwTp1ur0trnbrWGKy1o7yaT0glMYuyCZRROTEnIHa7U5MbekJRrMoLQLvtcxn7BlCFvruc+t7hzrur6iNsyKH6vVj14xNHDqSmJlLDE0OvTI0MJKcOJFIDQ0MHkkmi/a0O7ftKsrCkStlegOFgKK+qRWX/ZZcppWJRklXDyTYjFS7TWvGyvyi+nC/mJRGlslJmNv4HL2ix5BmT5tAQgTs3W2KvsyW2OTl3bYEo2+1ogc6KFhjDfwxdnpgYP3Dm9f8LL9hiSTHFF89Nxe9xKh46WHbVe4y9yKF3pkLvU6OTZ17ftuXBK+3zfTtxwI/oLtq/b1yfCdZngvWZYH0mWJ8JXsIzgXXEagz+nvXBf33wXx/81wf/9cH/T2/wpwJ++K1NFYO/fdj/uRc4hR5IS3OIHmH3aY21i2U7h1EGFdJIxuz2vuiaa4ejubYU7FXc2miP0UYMy3bGSyLSxF6TVvps2SQLqk6yezT1d4R7bX3FyYVzji3XMxvrZ9dmkt3pUGATVywmOJUXcxp47Tm1s9qcurG3r4eNEkPQ1d0RjlYTtdJKB5EgzdNg3UpPh5Xana0TtBnVQ3M69E9//ONv+2gjPAp2HJqaTKCCpKJkKZdDCvGfHOQys0jMEu+IFiNzdDY4MpSks8wfbzpFJVr10B3Go1J/fvGap7/pn77+l7d/sOk4BSfAVm28smEl6Drtr4W3uUAlWoyoIAH/MS9S8os3fuIJP1TqQMi6IsQQ1rX5NuhC0pCGHN3biCZBy+hEcqKIxBFZKgwJfDEtcXKWWXz0u7fXfZvYpEUCMW8GJqoh1cPu1P063kiF/c8UudElgRcOTU0OcvK4lOWEwZKqknuH9173kRopUvdXurl1XaS7sfKSEiQmFRTVYjDNycECxhxMa6jjf+7i79Z1seE3u1Rt50V1k+U0RNT0fm9dUhmuO0dYp1jQdOo5EqY9zH/ecIrC33RDIN9+W/aNpT3M7/C3c0MlDhlYOsv85gY9tpoRFuEdXnLJpKkIzR+ammQWP/f6d5U/ObYp4rmNzKeur9TEp/VvFjUPc/v1ldq5A3+7FNBO7WAUXdtt+hHRPJFvLuwCzFYDZuMBN91ts+tOB67sDBGjMzxJVeqk0lTKNHv7uSlXky6X0SWeWYlsL5wrsm21y8a8YBhzRJ+QbvnVZx5ohHkioW05wyxe9S5nSv99xoREJmGaZbc5PmgRVpwX7lCLJdJhD1Ays2xK/iUppfBEa6OEDXIINGI6SPNUrdOzpqnDHo/MD6cJs0k+J/IioV0lfCVbEfDM4RZLZn+vpgDdLfFYnZgrY11ZPsCt5asLHfdUnbhrxQDEK5ewA6tK5oWkKhXHJC47IQ4Ui9bTEmbxquf+3tGIHaDViGlA4qmNyJKoFiRFLUtqWKat8r5XXCuqfgdVf8U7e3Mk+2sA

AALOCHANA PRASANGE PART 1

সমস্যা সমাধানে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দিব্যবাণীর সংকলন                                                           সংকলক–তপন দাস

।। হস্তরেখা, জ্যোতিষ ও আধ্যাত্মিক তত্ত্ব প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর— Urge-এর (আগ্রহের) দরুন আমাদের brain–এ (মস্তিষ্কে) tension (চাপ) আসে, আর তার থেকে আমাদের হাতের রেখা ফুটে ওঠে, কপালেও রেখা পড়ে। আমরাই আমাদের ভবিষ্যত সৃষ্টি করি। আমরা হয়তো বুঝতে পারি না কী গড়ছি, কিন্তু হাত দেখলে তার পরিচয় পাওয়া যায়। জন্মলগ্ন দেখে যে একজনের সারাজীবনের কথা predict (ভবিষ্যদ্বাণী) করা যায় তার কারণ, কোন্-কোন্ বৃত্তি যে তাকে rule (নিয়ন্ত্রণ) করছে, জন্ম-লগ্নের গ্রহসমাবেশ দেখে এইটে জানলে সব বৃত্তির দ্বারা চালিত হ’য়ে তার জীবনটা কেমন দাঁড়াতে পারে বোঝা যায়। একটা গাড়ীর চাকার পরিধি যদি জানা থাকে তাহ’লে কতবার ঘুরে কতদূর যাবে বলতে পারি। যাঁরা বৃত্তির অধীশ, তাঁদের সম্বন্ধে কিন্তু ঠিক করে বলা যায় না। তাঁরা একটা অবস্থায় প’ড়ে কিভাবে react (প্রতিক্রিয়া) করবেন, সে তাঁদের নিজেদের উপর নির্ভর করে। আমার সম্বন্ধে ভৃগু লিখেছেন যে, কত কী হ’তে পারে তা’ বলা যায় না। মানুষ ইষ্টদ্বারা চালিত হ’লে তার সম্বন্ধে     ও-কথা খাটে। ইষ্টের উপর একান্ত অনুরক্তি থাকলে মানুষ কর্ম্মফল এড়াতেও পারে। যতীনদা (যতীন্দ্রনাথ আচার্য্য-চৌধুরী) যদি আমার কথা শুনত—সেদিন না যেত, তাহ’লে অমনভাবে মৃত্যু হ’ত না। (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ১লা আষাঢ়, শুক্রবার, ১৩৪৬, ইং ১৬। ৬। ১৯৩৯)

 ।। প্রতিলোমজ সন্তানের পরিণতি প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—প্রতিলোমজ সন্তান কখনও ভাল হ’তে পারে না। তাদের মধ্যে treachery (বিশ্বাসঘাতকতা) থাকবেই। উচ্চবর্ণের মেয়ে নিম্নবর্ণের ছেলের সঙ্গে বিয়ে হ’লে সেখানে husband–এর (স্বামীর) উপর regard (শ্রদ্ধা) থাকতেই পারে না—বহু গণ্ডগোলের সৃষ্টি হয়। অমনতর ক্ষেত্রে শোনা যায় যে, স্বামীর প্রতি বিরক্তিবশতঃ সন্তানকে মা ‘কুত্তাকা বাচ্চা’ পর্য্যন্ত ব’লে থাকে। Acquisition (অর্জ্জন) আর instinct–এর (সংস্কারের) ঢের তফাত। নিউটন ছিলেন Mathematician by instinct (সংস্কারসিদ্ধ গণিতজ্ঞ)। Mathematics (গণিত) তাঁর চাইতে কেউ হয়তো ভাল জানতেও পারে—কিন্তু তাদের মধ্যে Mathematics (গণিত) হয়তো instinct (সহজাত সংস্কার)-এর স্থান নেয়নি। Instinct (সহজাত সংস্কার) কেমন—যেমন করে heart beat (হৃদপিণ্ড স্পন্দিত হয়), কান শোনে, নাক প্রশ্বাস নেয়, পা চলে। একটা বড় বংশের ছেলে হয়তো অনুশীলনের অভাবে একটা বনবৃষ হ’তে পারে, কিন্তু তার মধ্যে instinct  (সহজাত সংস্কার) সবই ঠিক থাকে। Instinct (সহজাত সংস্কার)-এর যেখানে গণ্ডগোল হয়েছে, বুঝতে হবে সেখানে বংশে প্রতিলোমের সংশ্রব ঢুকেছে বা বিবাহ-বিধির ব্যত্যয় হয়েছে। Corruption (কলুষ)-এর দরুন অনেক সময় ভদ্রঘরেও প্রতিলোমজ সন্তানের জন্ম হয় এমনও অসম্ভব নয় যে, ব্রাহ্মণীর গর্ভে শূদ্রের ঔরস জাত সন্তান ব্রাহ্মণ-সন্তান  ব’লে সমাজে পরিচিত হচ্ছে।

(আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ১লা আষাঢ়, শুক্রবার, ১৩৪৬, ইং ১৬। ৬। ১৯৩৯)

   ।। সার্থক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—আমাদের এই  body-র (শরীরের) দিকে চেয়ে দেখুন, প্রত্যেকটা organ (শরীর-যন্ত্র) প্রত্যেকটা organ–কে (শরীর-যন্ত্রকে) help করছে, কোন organ–এ (শরীর-যন্ত্রে) deficiency (খাঁকতি) হ’লেও, অন্য organ (শরীর-যন্ত্র)-গুলি লেগে যাচ্ছে তা’ make up (পরিপূরণ) করতে, প্রত্যেকের থাকা অন্য সবগুলির উপর নির্ভর করছে, আর, brain (মস্তিষ্ক)-টা যেন whole (সমগ্র), তাই তাকে বলে উত্তমাঙ্গ, সব organ (শরীর-যন্ত্র)-গুলি separately (পৃথকভাবে) ও jointly (সমবেতভাবে) constantly (সর্বক্ষণ) brain (মস্তিষ্ক)-কে nourish (পুষ্ট) করতে চেষ্টা করছে, brain (মস্তিষ্ক) করছে গুরুর কাজ, brain (মস্তিষ্ক) দিচ্ছে impulse (প্রেরণা),  সবাইকে guide (পরিচালনা) করছে। সত্যিকার সঙ্ঘ, সমাজ বা রাষ্ট্র গড়তে গেলেও এমনতর দরকার। এ-ছাড়া কোন system (বিধান) গ’ড়ে ওঠে না, ধ’সে যায়। তাই বুঝুন, ‘vox populi vox dei’ (জনগণের কথা ভগবানের কথা) না ‘vox expletory vox dei’ (পূরক-পুরুষের কথাই ভগবানের কথা)। Sufferings -এর (দুঃখের) ক্রন্দন একটা atmosphere (আবহাওয়া) সৃষ্টি করে, একটা good pair–এর (সু-দম্পতির) brain (মস্তিষ্ক)-কে সেই আকুলতা ঠেসে ধরে, সেখানে পরিত্রাতার soul (আত্মা) নেমে আসে, একটা zygote (জীবনেকাষ) cord (নাড়ী) placenta (ফুল)-এর মধ্যে শুয়ে-শুয়ে বাড়ে, নারায়ণ যেন ক্ষীরোদ-সমুদ্রে শুয়ে আছেন, লক্ষী তাঁর পদসেবা অর্থাত চলনসেবা করছেন। পরে একদিন জন্ম হয়—জেগে ওঠেন তিনি মানুষের মধ্যে। জন্মের থেকেই তাঁর বিরাটত্বের tingling (ঝঙ্কার) টের পাওয়া যায়। সকলের দুঃখ, বেদনা বক্ষে ধারণ করে তারই নিরাকরণী প্রতিভা ও প্রচেষ্টা-প্রদীপ্ত হয়ে যিনি আসেন—এমনতর মানুষই মানুষজাতির প্রাণ ও মস্তিষ্কস্বরূপ—তা’ ব্যষ্টিগতভাবে ও সমষ্টিগতভাবে। তাই সঙ্ঘ, সমাজ ও রাষ্ট্র যদি তাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত করে তোল—প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্যকে পোষণ দিয়ে, প্রত্যেকে প্রত্যকের সহায়ক করে—পারস্পরিকতার ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত প্রচেষ্টার ভিতর-দিয়ে ঐ জীয়ন্ত কেন্দ্রকেই পরিপূরিত করে পরিপুষ্ট করে,—তাহলেই মানুষের দুঃখ ঘুচে যায়। আর, ভেবে দেখ—এমনতর বিধান তোমরা চাও কিনা। এই আমাদের শ্বাশ্বত আর্য্য-বিধান। একে যে-তন্ত্রই বল না কেন, তাতে কোন আপত্তি নেই, তবে দরকার এই জিনিসটা।

(আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ২১শে অগ্রহায়ণ, শনিবার, ১৩৪৮, ইং ৬।১২।১৯৪১)

      ।। যৌন-বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

       শ্রীশ্রীঠাকুর—যৌন-বিজ্ঞান ও প্রজনন-বিজ্ঞান সম্বন্ধে ভাল বই লিখতে হয়, আর শেখাতে গেলে খুব সুরুচি-সঙ্গত পন্থায় শেখাতে হয়। অযথা গোপনতা ভাল নয়, সহজ ও পবিত্রভাবে জীবনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব উদ্ঘাটিত ক’রে স্বচ্ছ ক’রে বুঝিয়ে দিতে হয়। Distortion (বিকৃতি) ও abnormality (অস্বাভাবিকতা)-র প্রতি যা’তে একটা বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয়, সে-পথ দিয়ে যা’তে কেউ না মাড়ায়, তেমন মনোভাব পাকা ক’রে দিতে হয়। আবার, স্বাভাবিক যৌন-বোধের উন্মেষ ও অভিব্যক্তিতে তারা যা’তে নিজেদিগকে অপরাধী মনে করে দুর্ব্বল, অবসন্ন ও দিশেহারা হয়ে না পড়ে, বরং ঐ সম্বেগকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে জীবনকে উদ্বর্দ্ধন-মুখর করে তুলতে পারে, সেইভাবে তাদের শিক্ষিত করে তুলতে হয়. স্বাস্থ্য ও সদাচার-সম্বন্ধে কখন কোন্ অবস্থায় কী করণীয়, সেই সম্বন্ধেও ছেলে-মেয়েদের ওয়াকিবহাল ও অভ্যস্ত করে তুলতে হয়। আবার, শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সদাচারের পরিপোষণী আবহাওয়া সৃষ্টি করতে হয়—পরিবার, পরিবেশ, বিদ্যালয়—সর্বত্র। (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ৩। ১২। ১৯৪১)

     ।। বংশগতি ও পারিপার্শ্বিক বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

       শরত্দা (হালদার)—Heredity (বংশগতি) ও environment (পারিপার্শ্বিক)-এর মধ্যে কোন্ টি prominent (প্রধান)?

শ্রীশ্রীঠাকুর—মানুষ heredity (বংশগতি) থেকে পায় instinct (সহজাত-সংস্কার), environment (পারিপার্শ্বিক) দেয় তাকে nurture (পোষণ)। ছেলে জন্মাতে যেমন বাপ-মা   দুই-ই লাগে, মানুষের জীবনে তেমনি heredity (বংশগতি),  environment (পারিপার্শ্বিক) দুটো factor (জিনিস)-ই লাগে। পরিবেশের মধ্যে অনেক কিছুই থাকে, কিন্তু মানুষ সাধারণতঃ তার instinct (সহজাত-সংস্কার) অনুযায়ীই Pick up (গ্রহণ) করে। প্রত্যকের specific instinct (বিশিষ্ট সংস্কার) পোষণ পায় যা’তে তেমনতর পারিবেশিক বিন্যাস যত হয় ততই ভাল।

                                             (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ৩। ১২। ১৯৪১)

।। সৃষ্টি-প্রকরণ বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

আলোচনা প্রসঙ্গের সংকলক প্রাতঃ-স্মরণীয় প্রফুল্ল দাসদা জানতে চাইলেন —ভগবান গোড়ায় তো একা ছিলেন, সৃষ্টি করলেন কেমন ক’রে ?

শ্রীশ্রীঠাকুর—তাঁর মধ্যে বৃত্তি ছিল। তিনি এবং তাঁর বৃত্তি যেন positive (ঋজী সম্বেগ) ও negative (রিচী সম্বেগ), পুরুষ ও নারী। এই দুইয়ের আকর্ষণ-বিকর্ষণ ও আবেগদীপ্ত সহযোগ ও সম্মেলনের ভিতর-দিয়ে সৃষ্টি গুণিত হ’য়ে চললো তাঁর বুকে। আকর্ষণ, বিকর্ষণ দুই আছে ব’লেই positive (ঋজী সম্বেগ) ও negative (রিচী সম্বেগ) দুই-ই র’য়ে যাচ্ছে, একটা আর একটাকে আকৃষ্ট করলেও তার সত্তা ও স্বাতন্ত্র্যকে বিলুপ্ত ক’রে দিতে পারছে না। তাই, সৃষ্টির সম্ভাব্যতা চিরস্রোতা হ’য়েই ব’য়ে চলেছে। Positive (ঋজী সম্বেগ)  যেখানে যেমনতরভাবে বিদ্যমান তার counter part (বিপরীত অংশ) হিসাবে র’য়ে গেছে তদনুপাতিক (রিচী সম্বেগ)। এই দুয়ের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ভিতর-দিয়ে সুষ্ঠু সৃষ্টি লীলায়িত হ’য়ে ওঠে। আমাদের শাস্ত্রেও তাই মনোবৃত্ত্যানুসারিণী স্ত্রীর কথা বলেছে, স্ত্রী যেন স্বামীর বৃত্তি অর্থাৎ ঐ পুরুষের প্রকৃতি অংশ এবং স্বামী যেন স্ত্রীর স্ব অর্থাৎ অস্তিত্ব। এমনতর সাত্ত্বিক মিলন যেখানে, সেখানেই উদ্বর্দ্ধন ও সুপ্রজনন দুই-ই সার্থক হ’য়ে ওঠে। (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ৩। ১২। ১৯৪১)

।। বর্ণধর্ম পালন বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ।।

শরত্দা (হালদার)—বর্ণধর্ম্ম ঠিকভাবে পালন করতে গেলে তো মানুষ বর্ণোচিত কর্ম্ম ছাড়া অন্য কাজ করতে পারবে না। কিন্তু কোন মানুষের অন্য বর্ণের কর্ম্মের যদি বিশেষ প্রতিভা থাকে এবং তা’ যদি সে করতে না পারে, তাহ’লে তো সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শ্রীশ্রীঠাকুর—মানুষ জীবিকার জন্য বর্ণোচিত কর্ম্ম ছাড়া করতে পারবে না—এক আপদ্ধর্ম্ম ছাড়া। তা’ ছাড়া, কোন কর্ম্মানুশীলনে মানুষের কোন বাধা নেই। বর্ণাতীত কর্ম্মে যার বিশেষ প্রতিভা থাকে, বর্ণোচিত কর্ম্মেও সে অপটু হয় না। সেই কর্ম্ম দিয়ে জীবিকা আহরণ ক’রে বাদবাকী সময় সে তার প্রতিভার স্ফূরণ এবং তদনুযায়ী লোকসেবায় ব্যয় করতে পারে। তার বিনিময়ে সে কিছু চাইবে না, কিন্তু তার সেবায় প্রীত হ’য়ে স্বতঃস্বেচ্ছ আগ্রহে প্রীতি-অবদান-স্বরূপ কেউ যদি কিছু তাকে দেয়, তা’ গ্রহণ করতে তার কোন বাধা নেই। কিংবা রাষ্ট্রের তরফ থেকেও যদি তাকে কোন পুরস্কার দেয়, তা’ও সে গ্রহণ করতে পারে। প্রত্যেকে যদি বর্ণোচিত কর্মনিরত থাকে, কেউ কারও বৃত্তিহরণ না করে, তা’হলে বেকার-সমস্যা জিনিসটাই আসতে পারে না। অযথা প্রতিযোগিতা জিনিষটাও বন্ধ হ’য়ে যায়। পারস্পরিক সহযোগিতা ও নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়। বংশপরম্পরায় একই কর্ম করার ফলে প্রত্যেকের দক্ষতা ও যোগ্যতাও বেড়ে যায়। প্রত্যেকে স্ব স্ব কর্ম করায় সর্ব্বতোমুখী সুষম উত্পাদন ও সেবা-পরিবেষণের একটা স্বাভাবিক ব্যবস্থা স্বতঃই গজিয়ে ওঠে। কোন বর্ণের বিশিষ্ট সেবার অভাবে, তারা এবং অন্যান্য বর্ণ অপুষ্ট থাকে না। সামাজিক শৃঙ্খলা অব্যাহতভাবেই এগিয়ে চলে। তাই আমাদের বাপ, বড় বাপ, ঋষি, মহাপুরুষরা যে বিধান করে গেছেন, তা একটু তলিয়ে বুঝতে চেষ্টা করবেন। অদূরদর্শিতা ও হীনত্ববুদ্ধি থেকে দুনিয়ার অনেক আন্দোলনই হয়েছে, কিন্তু তা’তে সমস্যার সমাধান কিছু হয়নি, সব ব্যাপার মানুষের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং বার বার বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য্য হয়ে উঠছে। এর প্রতিকার আছে সুসঙ্গত ব্যক্তিবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানকে আশ্রয় করার মধ্যে। এই বিজ্ঞানের নামই বর্ণাশ্রম, এবং আমাদের ঋষি-মহাপুরুষরাই এই প্রাকৃতিক বেদবিজ্ঞানের দ্রষ্টা, আবিষ্কর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা।       (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ৬। ১২। ১৯৪১)

        ।। বিশ্বাসঘাতকতা প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

       প্রশ্ন—Treacherous (বিশ্বাসঘাতক) কিনা তা’ বুঝবো কী ক’রে ?

       শ্রীশ্রীঠাকুর— Treacherous (বিশ্বাসঘাতক)-এর একটা লক্ষণ—সবটার মধ্যে সে directly (মুখ্যভাবে), indirectly (গৌণভাবে) নিজেকে establish (প্রতিষ্ঠা) করতে চায়, তার জন্য কে যে কত করছে সে-কথা মুক্ত কণ্ঠে ব’লে কৃতজ্ঞতা জানায় না, সে যে একটা অসাধারণ কৃতী-মানুষ এবং তার গুণের জন্যই যে সর্ব্বত্র তার সমাদর—এই কথাটাই সে কায়দা-করণে, হাবেভাবে, প্রকারান্তরে প্রতিনিয়ত জাহির করতে চায়। ফলকথা, কারও মমতায় সে কিছু করে না, নিজের হীনম্মন্যতার মমতায় যা’-কিছু করে। (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ২। ১২। ১৯৪১)

  ।। আন্তঃ-সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—হজরত যীশু, হজরত মহম্মদ আামাদেরও prophet (প্রেরিতপুরুষ)। আার্য্যধারা যদি জীবন্ত থাকত, তা’হলে হজরত যীশু, হজরত মহম্মদ হয়তো একাদশ অবতার, দ্বাদশ অবতার ব’লে পরিগণিত হ’তেন। Anti-Bibelism (বাইবেল-বিরোধী),  Anti-Quranism (কোরাণ-বিরোধী), Anti-Vedism (বেদ-বিরোধী)-এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তার নিরাকরণ করতে হবে। শাক্ত বিপ্র এবং বৈষ্ণব বিপ্র-পরিবারে যেমন বিয়ে-সাদির কোন নিষেধ নেই—সৌর বিপ্র ও গাণপত্য বিপ্রে যেমন বিয়ে চলতে পারে, ইষ্ট, কৃষ্টি ও পিতৃপুরুষের ঐতিহ্যবাহী রসুল-ভক্ত বিপ্র, বুদ্ধভক্ত বিপ্র, খ্রীষ্টভক্ত বিপ্রের সঙ্গেও তেমনি বিধিমাফিক বিয়ে-থাওয়া হ’তে পারে—এতে কোন বাধা নেই। কারণ, স্বধর্ম্ম ও কৃষ্টি-নিষ্ঠ থেকে যে-কোন পূরয়মাণ মহাপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধানতি নিয়ে চলা ধর্ম্মের পরিপন্থী তো নয়ই বরং পরিপোষক। তবে প্রত্যেকটি বিয়ের ব্যাপারে খুব হিসাব ক’রে চলতে হবে, যাতে কোন রকমের ব্যত্যয়ী কিছু বা প্রতিলোম-সংস্রব না ঘটে।

                                            (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ২। ৭। ১৯৪০)

।। জাতিস্মর প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

আলোচনা-প্রসঙ্গের সংকলক প্রাতঃ-স্মরণীয় প্রফুল্লদা প্রশ্ন করছেন—জাতিস্মরতার মধ্যে অদ্রোহের স্থান কোথায়?

শ্রীশ্রীঠাকুর—দ্রোহভাব থাকলে মন Obsessed (আবিষ্ট) হ’য়ে থাকে, নানারকম ভাবের উদয় হয়, সবটার expression (ভাব) দেওয়া যায় না, repression (নিরোধ) হয়—এতে জতিস্মরতার ব্যাঘাত জন্মায়। …….যারা অত্যাচারে-অত্যাচারে আমার জীবন অতিষ্ঠ ক’রে তুলেছে, তুলছে, তাদের কথা মনে হ’লে ভাবি, ওদের উপর রাগ করলে যদি ওদের কোন ক্ষতি হয়, মারা যায়, তাই অমনি মনে আসে— Let them enjoy their little days, their lowly bliss receive, Oh do not take lightly away the life—thou canst not give. (তারা তাদের স্বল্প দিনগুলি উপভোগ করুক। তাদের অকিঞ্চিতকর আনন্দ উপভোগ করুক, যে-জীবন তুমি দিতে পার না—তা’ অতি তুচ্ছভাবে তুমি নষ্ট ক’রো না।) ওদের প্রয়োজনের সময়ে ওরা কিছু চাইলে তখন ভাবি —Thy necessity is greater than mine. (তোমার প্রয়োজন আমা-অপেক্ষা বড়), যা’ চায়, না দিয়ে পারি না! (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ২২। ৭। ১৯৪০)

  ।। ‘সর্ব্বজ্ঞত্ত্ববীজ’ প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতবাদ ।।

শ্রীশ্রীঠাকুর—সর্ব্বজ্ঞত্ত্ববীজ মানে এ নয় যে Materia Medica (মেটিরিয়া মেডিকা)-খানা তার মুখস্থ। সর্ব্বজ্ঞত্ত্ববীজের তাত্পর্য্য হ’লো—তা’ থাকলে মানুষ যে-কোন situation (অবস্থা) বা affair (ব্যাপার)-এ পড়ুক না কেন, সেখানে বিহিত সমাধান বা বৈধী করণীয় কী তা’ সে বুঝতে পারে, বলতে পারে। একটি সত্যই নানারূপে লীলায়িত হয়ে উঠেছে নানা বৈশিষ্ট্যে, এর মূল mechanism (মরকোচ) যে উপলব্ধি করে, তার মধ্যেই সর্ব্বজ্ঞত্ত্বের সম্ভাবনা ফুটে ওঠে। তাই সর্ব্বজ্ঞত্ত্ব বলেনি, সর্ব্বজ্ঞত্ত্ববীজ বলেছে। বীজ কথাটার একটা বিশেষ সার্থকতা আছে।

              (আলোচনা প্রসঙ্গে ১ম খণ্ড, ৮ই চৈত্র, শনিবার, ১৩৪৭, ইং ২২। ৩। ১৯৪১)  

                                  ——–

মাতৃ দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্য

।। মাতৃ রূপেণ সংস্থিতা :  আন্তর্জাতিক মাতৃদিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্য ।।
––ডাঃ তপন দাস
                         “বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”

“Mother is
the cradle of
life, peace, happiness
and sweet slumber of the child
with the initiative
flowing good
of paternal existential wealth,
discerning intelligence
and also a measure of personality.”
(Shree Shree Thakur Anukulchandra
The Message Vol.-9/136)

‘সুজলাং সুফলাং মলয়জ শীতলাম্’ বসুন্ধরার রত্নগর্ভা মাতৃক্রোড়ে আশ্রয়
পাওয়া সন্তানদের আদর্শ-স্বরূপা লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্তিকেয়-গণপতিদের মা,
জগন্মাতা দুর্গা, শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের মা, শ্রীশ্রীকৃষ্ণের মা,
শ্রীশ্রীবুদ্ধদেবের মা, শ্রীশ্রীযীশুখ্রীস্টের মা, শ্রীশ্রীহজরত রসুলের মা, শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবের মা, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের মা, শ্রীশ্রীঠাকুর
অনুকূলচন্দ্রের মাতৃদেবী সহ জগতের কল্যাণে নিবেদিত-প্রাণ দেদীপ্যমান
চরিত্রের শিশুর জন্মদাত্রী, পালয়িত্রী মায়েদের উদ্দেশ্য জানাই সশ্রদ্ধ
প্রণতি––মাতৃদিবসের স্মরণে ।


।। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দৃষ্টিতে ‘মা’-এর স্বরূপ ।।
      এক বেগুনের বীজ বিভিন্ন মাটিতে বুনে বিভিন্ন রকম ফল হয়। উপযুক্ত
সারও দিতে হয়। মা হ’লো মাটির মত। মা যদি স্বামীগতপ্রাণা হয়, নিজের
প্রবৃত্তির উপর তার যে নেশা, তা’ থেকে যদি তার স্বামীনেশা প্রবলতর হয়,
স্বামীকে খুশি করার জন্য নিজের যে কোন খেয়াল যদি সে উপেক্ষা করতে পারে,
তাহ’লে তা’র ব্যক্তিত্বের একটা এককেন্দ্রিক রূপান্তর হয়। একে বলে সতীত্ব।
তা’ থেকে তা’র শরীরের ভিতরকার অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলির ক্ষরণ ঠিকমত হয়
এবং সেগুলি আবার সত্তাপোষণী হয়। এইগুলি গর্ভস্থ সন্তানের শরীর-মনের ভাবী
সুসঙ্গত বিকাশের পক্ষে যে-সব সারী উপাদান প্রয়োজন, সেগুলি সরবরাহ করে।
এইসব ছেলেমেয়ে মাতৃভক্ত হয়, পিতৃভক্ত হয়, গুরুভক্ত হয়, সংযত হয়, দক্ষ হয়,
লোকস্বার্থী হয়, চৌকস হয়, এরা সাধারনতঃ মোটামুটি সুস্থ, সবল ও দীর্ঘায়ুও
হয়। (আলোচনা প্রসঙ্গে পঞ্চদশ খণ্ড/৭৩)
      শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বলেছেন, “মা-কেন্দ্রিক শিশুরা
নম্র,শান্ত ও উদার প্রকৃতির হয়”। শিশুকাল থেকেই ভালবাসার চর্চা করতে হবে।
পিতার খেয়াল রাখতে হবে মায়ের প্রতি সন্তানের ঝোঁক যেন বাড়ে। মা-ও চেষ্টা
করবেন পিতার সাথে সম্পর্ক যেন নিরবচ্ছিন্ন হয়। সন্তানের সামনে মা, পিতার
ও পিতা, মা’র প্রশংসা করবেন। পিতা-মাতা উভয়েই একে অন্যের স্থান যেন
সন্তানের অন্তরে স্থান করে নেই সেই চেষ্টায় করবেন। পিতা-মাতার চেষ্টা করা
উচিত যাতে শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের শ্রদ্ধা বাড়ে। (সূত্রঃ আলোচনা
প্রসঙ্গে, ৭ম খন্ড, ৯/৫/১৯৪৬)
* মায়ের শাসন *
মায়ের শাসন এমনতর
শাস্তি দিলেও রাখে কোলে
লালন-পালন ক’রেই চলে
কখনও তা’ যায় কি ভুলে?
ভুলত যদি মা লালন-পালন
ক’টা ছেলে থাকত বেঁচে
নিপাত যেত সব যা’-কিছু,
বুঝ-বিবেকে দেখ্ না এঁচে।
পরিবেশের পরম কেন্দ্র
মা-টাকে তুই ঠিক জানিস্
পরিবেশটাকে তেমনি ক’রে
শ্রদ্ধা ভরে তুই পালিস্। ৮।
(অনুশ্রুতি গ্রন্থ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের বাণী)
                                   *   *   *
      মা মানে মেপে দেওয়া। শিশুর ভালোমন্দ, সুখদুঃখ, একজন মা-ই পরিমাপিত
করতে পারেন, তাই তো মা-কে রত্নগর্ভা সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। পিতাকে
কিন্তু রত্ন-ঔরস বলা হয় না। ওই মায়ের কৃতিত্বের জন্যই আজো আমরা কথায় কথায়
বলি দৈত্যকুলে প্রহ্লাদ।
      ভক্ত প্রহ্লাদের পিতা হিরণ্যকশিপু ছিলেন হরি-বিদ্বেষী। হরি-র নাম
পর্যন্ত শুনতে পারতেন না। একদিন বাড়ী থেকে বেরিয়ে রাস্তায় কোন এক ভক্তের
মুখে হরি গুণগান শুনে কাজকর্ম না সেরেই বাড়ি ফিরে আসেন। স্ত্রী কয়াধুকে
বলেন সে-কথা। কয়াধু বলেন, আপনি ঠিক শুনেছেন, যে, লোকটি আপনার শত্রু ভগবান
শ্রীহরির নাম করছিল ? এইভাবে নানা অছিলায় স্বামীর মুখ থেকে বার বার হরি
নাম বের করে স্বামীতে দেবভাব স্থাপনা করে, স্বামীকে দেবজ্ঞানে ভজনা করে
ওই দৈত্য (ইষ্ট-বিমুখ) স্বামীর ঔরস থেকেই জন্ম দিয়েছিলেন প্রহ্লাদকে।
মাতৃভক্ত প্রহ্লাদ হরি গুণগান করতেন দেখে নিজের ছেলেকে মেরে ফেলার জন্য
পাহা়ড় থেকে ফেলে দেওয়া, পাগলা-হাতী দিয়ে পিষে মারা—এমন অনেক চেষ্টা
করেও মারতে পারছেন না দেখে অবশেষে অগ্নি-প্রতিরোধী ক্ষমতাসম্পন্না বোন
হোরিকা-র যুক্তিতে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন। সরল শিশু প্রহ্লাদকে
কোলে নিয়ে দাঁড়াতেই হিরণ্যকশিপু চারিদিকে আগুন লাগিয়ে দেয়। অগ্নি বলয়ের
তাপে বরপ্রাপ্তা হোরিকা মরে যায়, হরির শরণ নিয়ে বেঁচে যান প্রহ্লাদ। রাখে
হরি, মারে কে ? অর্থাত্ হরি-কে যে শরণে রাখে তাকে কি কেউ মারতে পারে ? এত
কিছু করেও প্রহ্লাদকে মারতে পারছে না দেখে স্ফটিক স্তম্ভে আছাড় দিয়ে
মারতে গেলে প্রহ্লাদকে রক্ষা করতে অবতীর্ণ হন নৃসিংহরূপী হরি। বধ করেন
ইষ্টদ্রোহী হিরণ্যকশিপুকে। মারে হরি রাখে কে ? অর্থাত্ হরির আদর্শকে যে
মারে তাকে কেউ বাঁচাতে পারে না। অথচ প্রহ্লাদকে দেখুন—নৃসিংহ অবতার
প্রহ্লাদকে বর দিতে চাইলে প্রহ্লাদ বলেছিলেন, প্রভু আমার পিতার সব অপরাধ
ক্ষমা করে দিন, আমার পিতা যেন আপনার শরণে থাকে—জন্ম-জন্মান্তর ধরে।
                               *   *   *

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শ অনুযায়ী, ‘‘নারী হতে জন্মে জাতি,
নারী সমাজ ও রাষ্ট্রের ধাত্রী ও পালয়িত্রী।’’ এই নারীরাই মা হন। এই
নারীরাই সুসন্তান জন্ম দিয়ে বসুন্ধরার শ্রীবৃদ্ধি যেমন করতে পারেন, তেমনি
কুসন্তানের জননী হয়ে নারকীয় উন্মাদনার উপহারও দিতে পারেন।—এই শাশ্বত
সত্যকে বুঝতে পেরেছিলেন, তৎকালিন বৃহত্তর বাংলার নবাব সিরাজদৌল্লা।
 পলাশী যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর পবিত্র কোরান হাতে শপথ নিয়েছিলেন
বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হতেই
বিপক্ষ ইংরেজ শিবিরে যোগদান করেন। ফলে আত্মরক্ষার জন্য নবাবকে পালাতে হয়।
        পলাশীর প্রান্তর থেকে লুকিয়ে পালিয়ে যাবার মুহূর্তে আলেয়াকে
বলছেন, “জানো আলেয়া, যৌবনের উন্মাদনায় নারীকে চেয়েছি, পেয়েছি, দেখেছি
তাকে ভোগের সামগ্রী হিসেবে, কিন্তু আজ, এই মুহূর্তে, আমার নারীর কাছে
অনেক প্রত্যাশা– ঐশ্বর্য্য যা দিতে পারে না, সাম্রাজ্য যা দিতে পারে না,
তা দিতে পারে একমাত্র নারী ; এই নারীই মীরমদন, মোহনলাল, গোলাম হুসেন,
সিনফ্রেঁর মতো বিশ্বাসী দেশপ্রেমির জন্ম দিয়েছে,– যাঁরা বিধর্মী হয়েও
আমার এই দুর্দিনের সাথী, আমার জন্য প্রাণ দিতেও প্রস্তুত;–আবার ওই নারীই
বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের জন্ম দিয়েছে ! যে আমার সমধর্মী, অথচ তারই
বিশ্বাসঘাতকতার  জন্য আজ বাংলার স্বাধীনতার সূর্য্য অস্তমিত হতে চলেছে,
বাংলার নবাবকে  লুকিয়ে পালিয়ে যেতে হচ্ছে বাংলা ছেড়ে !
        তখন নবাবের বিশ্বস্ত গোলাম, গোলাম হুসেন সান্ত্বনা দিয়ে
বলেছিলেন, দুঃখ করবেন না নবাব, এ জন্মে না পারি, আগামী জন্মে আমরা আবার
সৈন্য সংগ্রহ করব, আবার ফিরিয়ে আনব বাংলার স্বাধীনতা ।
        ওই প্রাণসঙ্কট মুহূর্তেও নবাব মুচকি হেসে বলেছিলেন, সেদিন কি আর
মীরজাফরেরা জন্মাবে না গোলাম হুশেন?
*   *   *

 আমরা যে মা-কালীর পূজা করি, তিনি তো দিগম্বরী! বাস্তবে আমরা সকলেই
আমাদের দিগম্বরী মায়েদের অপত্য পথ বেয়ে একদা ভূমিষ্ট হয়েছিলাম। ভারতীয়
আর্য্য মনীষা যে পথকে যজ্ঞকুণ্ড, যজ্ঞবেদী বলে বর্ণনা করেছেন, কাম ভোগের
যন্ত্রস্বরূপ নয়! অতএব যে যোনী আমার জন্মস্থান, যে স্তনযুগলের অমৃতধারা
পান করে আমি শক্তিশালী হয়েছি, সেই যোনী এবং সেই স্তনযুগল তো আমার শক্তির
আরাধনার প্রতীকস্বরূপ!—এই ভাবে ভাবিত না হতে পারলে মা নাম উচ্চারণ করার
অধিকারও আমাদের থাকা উচিত নয়!
      আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় পুরুষোত্তম শ্রীরামকৃষ্ণ, সাধক রামপ্রসাদ
প্রমুখগণ প্রচলিত তন্ত্রমতের পঞ্চ ম-কারের পূজা-পদ্ধতিকে অগ্রাহ্য করেই
শুধু শুদ্ধাভক্তি দিয়েই মা-কালীকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। আর
শ্রীরামকৃষ্ণদেব তো ফলহারিণী কালী পূজার পুণ্য লগ্নে সারদা দেবীকে
সাত্তিক শুদ্ধাভক্তির উপাচারে সারদাদেবীকে পূজা করে চিন্ময়ী নারী শক্তিকে
আদ্যাশক্তি রূপে প্রতিষ্ঠিত করলেন! মাতৃ-সাধনাকে ধরে রাখতে ঠাকুর
কামিনী-কাঞ্চন থেকে তফাৎ—তফাৎ—খুব তফাৎ থাকতে বলেছেন।
       শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সত্যানুসরণ গ্রন্থে বললেন,
“প্রত্যেকের মা-ই জগজ্জননী । প্রত্যেক মেয়েই নিজের মায়ের বিভিন্নরূপ,
এমনতর ভাবতে হয় ।” এবং পুণ্যপুঁথি গ্রন্থে বললেন, “স্ত্রীতে কামিনীবুদ্ধি
করে যে-জন, তাহার হয় না ভবের বন্ধন মোচন । স্ত্রী চিন্ময়ী মা ।”
       শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র পুরুষদের শিক্ষা দিতে নারী-সাধারণকে
মাতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে শিখিয়েই ক্ষান্ত হন নি, স্ত্রীকেও চিন্ময়ী মা
জ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে শেখালেন । কারণ, স্ত্রীর মাধ্যমে স্বামী নিজেকে
জন্মান, তাই স্ত্রীকে জায়া বলা হয়েছে । আর্য্য বিধির গর্ভাধান কালে
স্ত্রীর নাভিমূল স্পর্শ করে “প্রসীদ মা জগজ্জননী” মন্ত্রে অভিষিক্ত করে
স্ত্রীর গর্ভে নিজেকে প্রবেশ করাতে হয় । আর্য্য ভারতের প্রজা-সৃষ্টি
প্রকরণের কি অপূর্ব ব্যঞ্জনা । যৌন জীবনে পুরুষদের শিব, আর নারীদের শক্তি
জ্ঞানে অভিষিক্ত করে কাম (lust) কে আসুরিক প্রবৃত্তির কবল থেকে মুক্ত করে
দৈবীপ্রেমে (love) রূপান্তরিত করলেন। ব্যবহারিক ক্ষেত্রের বাস্তব জীবনে
শুদ্ধভাবের কালী পূজা করতে শেখালেন। তাই, পুরুষ এবং নারী সাধারনকে
প্রবৃত্তি-প্ররোচিত শিক্ষার অঙ্গন থেকে মুক্ত করে, এই সত্তাধর্মী
ব্যবহারিক মাতৃপূজার তুক না শেখাতে পারলে কিছুতেই ট্রিট্ করা যাবে না
কুতসিত যৌবন-উন্মত্ততার ফলস্বরূপ নারী নির্যাতন, ডিভোর্স, ধর্ষণ নামের
সামাজিক ব্যাধিদের ! যে নারীশক্তি একদিন  শুম্ভ-নিশুম্ভকে দমন করেছিলেন,
সেই নারীরা যদি অসুর-পুরুষদের কামনার বলি হয় এর চাইতে সভ্যতার সংকটের আর
কিছু হতে পারে না !
 *   *   *
নারীরা যা’তে ভালো সন্তানের মা হতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে আমাদের ভারতীয়
ঋষিগণ ‘বর্ণাশ্রম ধর্ম্ম’, ‘বিবাহাদি দশবিধ সংস্কার’ নামে কতগুলো জীবনীয়
সংস্কার প্রবর্তন করেছিলেন। বর্তমানের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী প্রগতিবাদীরা
ওইসব সংস্কারের কথা শুনে, যারা মনে মনে ‘বিজ্ঞানের যুগে কুসংস্কার’
শীর্ষক সমালোচনার জন্য তৈরি হচ্ছেন, তাদের জন্য গুটি কয়েক বিজ্ঞানের তথ্য
নিবেদন করছি Davidson’s Practice of Medicine, 16th edition, Genetic
Factor of Disease Chapter থেকে।
“In survey carried out in Edinburgh a few years ago, no less than 50%
of childhood deaths could be attributed to  genetic disease. The
contribution of genetic factors to mortality and morbidity in adults
is mere difficult to assess but is also increasing.”…..
“…..Several extensive studies have shown that  among the offspring of
consanguineous matings there is an increase of perinatal mortality
rate together with an increased frequency of both congenital
abnormalities and mental retardation………”
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওই তথ্য অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে শতকরা ৫০টি শিশু
মৃত্যুর কারণ পোলিও নয়, উত্তরাধিকারে প্রাপ্ত জেনেটিক ডিজিজ। বিসদৃশ
যৌনমিলনজাত ওই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র উপায় হিসেবে বলা হয়েছে,
বিশ্বস্ত বংশে সদৃশ বিবাহ এবং সুপ্রজনন নীতির পরিপালন।––যা’  ভারতীয়
বর্ণাশ্রমধর্ম ও দশবিধ সংস্কার পালনের মধ্যে নিহিত রয়েছে। বর্ণাশ্রমধর্ম
ও দশবিধ সংস্কার পালনের মাধ্যমে প্রতিটি বংশের কুলপঞ্জীর মর্যাদা রক্ষা
করে যারা নির্মল, নিষ্কলুষ উত্তরাধিকারীদের সৃষ্টি করতে পারবেন, তাদের
বংশধরগণ দুরারোগ্য ব্যাধি এবং অকাল মৃত্যুর কবল থেকে সুরক্ষিত থাকবেই।
নচেৎ যে-হারে ঘরে-ঘরে রোগ-শোক-দাম্পত্য অশান্তি, ডিভোর্স বেড়ে চলেছে,
সন্তান মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেই পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে
শুধুমাত্র ঘটা করে বছর বছর ‘মাতৃদিবস’ পালন করে কি আন্তরিকভাবে
সন্তান-সুখে সুখী হতে পারবেন মায়েরা ? একটু ভেবে দেখতেই হবে।

       তাই, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ভাবী মায়েদের সচেতন করে দিয়ে বললেনঃ-
“নারী হতেই জন্মে জাতি
থাকলে জাত তবেই জাতি ।
নারী হতে জন্মে জাতি
বৃদ্ধি লভে সমষ্টিতে
নারী আনে বৃদ্ধি ধারা
নারী হতেই বাঁচাবাড়া
পুরুষেতে টানটী যেমন
মূর্ত্তি পায় তা সন্ততিতে ।
অভ্যাস ব্যবহার যেমনতর
সন্তানও পাবি তেমনতর।
স্বামীতে যার যেমনি রতি
সন্তানও পায় তেমনি মতি ।
স্বামীর প্রতি যেমনি টান
ছেলেও জীবন তেমনি পান ।
যে ভাবেতে স্বামীকে স্ত্রী
করবে উদ্দীপিত
সেই রকমই ছেলে পাবে
তেমনি সঞ্জীবিত ।”
      শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের একমাত্র চাহিদা ছিল, শুদ্ধাত্মার।
আমাদের ঘরের মেয়েরা যা’তে আদর্শ মা হয়ে শুদ্ধাত্মাকে উপহার দিতে পারেন
তারজন্য তিনি নারীর নীতি, নারীর পথে, দেবীসূক্ত, বিবাহ-বিধায়না প্রভৃতি
গ্রন্থ আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন। ওইসব গ্রন্থের সঞ্জীবনী মন্ত্রের বাস্তব
প্রয়োগে আমাদের ঘরের মেয়েরা যদি উপযুক্ত বরণীয় বর-কে বরণ করে আদর্শ বধূ,
মনোবৃত্ত্যানুসারিনী স্ত্রী, আদর্শ জায়া হয়ে তাদের ভাবী সন্তানদের
ভালোমন্দ পরিমাপিত করে গর্ভে ধারণ করতে পারেন, তা হলেই জন্ম নেবে সুস্থ
দাম্পত্যের সুস্থ শিশু। এবং সেই সন্তানদের সদাচারের প্রলেপনে আধো কথার
সময় থেকেই করে করিয়ে সদগুণের শিক্ষা ধরিয়ে দিতে পারেন, সার্থক হবে
নারী-জীবন, সার্থক হবে মাতৃত্ব, সার্থক হবে দাম্পত্য জীবন, স্বার্থক হবে
“আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস পালন”।
                                        ––––––––

SARASWATI POOJA

।। প্রসঙ্গ : দেবী সরস্বতী, বিদ্যা, পূজা ও আমরা ।।

                                                নিবেদনে—তপন দাস

      অবক্ষয় আমাদের দরজায় যতই কড়া নাড়াক না কেন লর্ড মেকলে সাহেবের দাক্ষিণ্যের দৌলতে  আমাদের সমাজে শিক্ষিত হবার প্রবণতার হার কিন্তু ক্রমশঃ বর্দ্ধমান। মুখে বুলি ফুটতে না ফুটতেই সন্তান-সন্ততিদের লেখাপড়া শেখাতে এতটুকু কার্পণ্য করি না আমরা। এ বিষয়ে বাবাদের চাইতে মায়েদের আগ্রহ একটু বেশীই।  লেখাপড়া শেখাতে স্কুলে ভর্তি করে, একাধিক প্রাইভেট টিউটর রাখে,  পাশাপাশি হোম-ওয়ার্ক না করতে পারলে  ‘মাথা ফাটিয়ে ঘিলু বার করে দেব, মেরে ফেলব, কেটে ফেলব’ ইত্যাদি বিশেষণের শাসনবাক্যে যুগধর্মের শিক্ষায় সন্তানদের শিক্ষিত করতে মায়েরা যেভাবে পরিশ্রম করে চলেছেন তার তুলনা হয় না! লেখাপড়া মানেই বিদ্যার্জন করা। বিদ্যার্জন করতে স্কুল, টিচার, বই-খাতা-কলম ইত্যাদি আনুসঙ্গিকের পাশাপাশি বিদ্যাদেবীর আরাধনাটাও আবশ্যিক! তাই উত্তরায়ন-সংক্রান্তি পরবর্তী শুক্লা-পঞ্চমী বা শ্রীপঞ্চমী তিথিকে কেন্দ্র করে ঘরে-ঘরে, বিদ্যালয়ে-বিদ্যালয়ে, পাড়ার ক্লাবে, রাস্তাঘাটে সরস্বতী পুজোর সাড়া পড়ে যায়। এমনিতে একটু বেলা পর্যন্ত শুয়ে থাকা পড়ুয়ারাও সেদিন সকাল-সকাল উঠে নিম-হলুদ মেখে স্নান সেরে নেয়।  (নিম-হলুদ মাখলে শরীরের রোগ-প্রতিরোধী শক্তি বৃদ্ধি পায়।) তারপর সেজেগুজে যে-যেখানে সুবিধা পায় আগেভাগে অঞ্জলি দেবার কাজটা সেরে নিতে বিদ্যাদাত্রী সরস্বতীর প্রতিকৃতির সামনে কঠিন বিষয়ের বইপত্রগুলো জমা দিয়ে অপেক্ষায় থাকে কতক্ষণে পুরুতঠাকুর অঞ্জলি দেবার জন্য ডাকবেন। অঞ্জলি দেওয়া শেষ করে সরস্বতী-ঠাকুরের কাছে পাশ করার আর্জিটা জানিয়ে, প্রসাদ খেয়ে পুজোর মুখ্যপর্বটা শেষ করে গৌণপর্বে প্রবেশ করে। কচিকাচারা পরিজনদের হাতধরা হয়ে, কিশোর-কিশোরীরা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বিদ্যালয়ে  যায়, খাওয়া-দাওয়া হয়। খাওয়া-দাওয়া সেরে  ঘুড়ি ওড়ানো,  দল বেঁধে ঘুরে ঘুরে  প্রতিমা দেখে বেড়ানো।   বড় হয়ে ওঠার সোপানে পা-রাখা হেটেরো-সেক্সুয়াল কমপ্লেক্সের অবদানের টেস্টোটেরন হরমোন-প্রপীড়িত ওভারস্মার্ট ছাত্ররা, ফলিকল-স্টিমুল্যাটিং হরমোন-প্রপীড়িত ওভারস্মার্ট ছাত্রীরা পছন্দের জনকে প্রপোজ করার সুযোগ খোঁজে, কেউ আবার একটু ঘনিষ্ট সান্নিধ্য পেতে চায় ভ্যালেনটাইন-উইক কালচারে সমৃদ্ধ হতে। পাড়ায় রাতে হবে মাংস-ভাতের পিকনিক। শুধু পাড়াতেই  নয় সরকার পরিপোষিত অনেক প্রাথমিক বিদ্যোলয়েও (যেখানে হিন্দু শাস্ত্রমতে বিদ্যালাভের পরিপন্থী, অভক্ষ্য ডিম সহযোগে ছাত্রদের মিড-ডে মিল খাওয়ান হয়।)  পুজোর দিনটির পবিত্রতা বজায় রেখে পরেরদিন মাংস-ভাতের পিকনিক করা হয়েছে। আসছে বছর আবার হবে!—কি হবে ?

      ‘‘ওঁ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।

      বেদ-বেদান্ত-বেদাঙ্গ-বিদ্যাস্থান্যেভ্যঃ এব চ।। ……’’ পুরোহিতের বলা ইত্যাদি মন্ত্র অনুসরণ করে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হবে।

      ‘‘জয় জয় দেবী চরাচর সারে কুচযুগ শোভিত  মুক্তাহারে।

      বীণা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে ভগবতী ভারতি দেবী নমোহস্তুতে।।

(কোন পণ্ডিত উক্ত মন্ত্র রচনা করেছিলেন আমি জানি না । তবে এটুকু বুঝি, যে স্তনযুগল মাতৃত্বকে সমৃদ্ধ করার জন্য সৃষ্ট, বৃত্তিতন্ত্রীদের সুড়সুড়ি দিতে তাকে মুক্তার হারের আভরণে সজ্জিত না করলেই ভাল করতেন। কারণ বিদ্যালাভ  মস্তিকের মেধানাড়ীতে সুপ্ত মানবিক-সাত্ত্বিক গুণের অনুশীলনে সম্পাদিত হয়, বক্ষ-সৌন্দর্যের সজ্জিত বিজ্ঞাপনে নয়।) 

ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।

বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্বি বিদ্যাং দেহী নমোহস্তুতে।।’’— পুরোহিতের বলা ইত্যাদি মন্ত্র অনুসরণ করে প্রণাম জানাতে হবে। …….তারপর সেই,—খাওয়া-দাওয়া, হৈ-হুল্লোর— ছোটদের বড় হবার রিহার্সাল, বড়দের নস্টালজিয়ার স্মৃতিচারণ ……. আসছে বছর আবার হবে!  

      ওইসব  উচ্চারিত মন্ত্র অনুযায়ী দেবী সরস্বতীই বিদ্যাদাত্রী, তাকে সাধনা করতে পারলেই বিদ্যার সিলেবাস বেদ-বেদান্ত-বেদাঙ্গ জ্ঞাত হওয়া যাবে। খুব ভালো কথা। সাধনা দিয়েই তো সিদ্ধি পেতে হবে।

*    *    *

      মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী আমরা যা বলি বা সংকল্প করি বাস্তবে তা যদি না করি স্নায়ুমন্ডলীতে জটিলতার সৃষ্টি হয়, আধ্যাত্মিক জগতে যাকে অনাগত প্রারব্ধ কর্মফল বলে।  অথচ আমাদের শিক্ষকেরা এই পূজার দিনটিতে অঞ্জলিমন্ত্র, প্রণামমন্ত্র আওড়ানো ব্যতীত বেদ-বেদান্ত-বেদাঙ্গ শিক্ষা বিষয়ে ছাত্রদের  উৎসাহ না দিয়ে প্রচলিত সিলেবাসের বিষয়ভিত্তিক খাতাবই কেনা, নোট কেনা, কোচিং-করানোর দিকে উৎসাহ দেয়। বেদ-বেদান্ত-বেদাঙ্গ জিনিসটা যে কি বেশিরভাগ পড়ুয়ারা জানেই না, অথচ শিক্ষার আবশ্যিক বিষয় জ্ঞানে বাধ্যতামূলকভাবে বছর-বছর আবৃত্তি করে চলে, সরস্বতী পূজার দিনটিতে। এর নাম দ্বন্দ্বীবৃত্তি, অর্থাৎ মুখে যা বলছি, কাজে তা করছি না। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মতে যা মহাপাপের কারণ।

*    *    *

      সংস্কৃত বিদ্ִ ধাতু থেকে বেদ এবং বিদ্যা শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ জ্ঞান, বিচরণা, অস্তিত্ব, প্রাপ্তি।  বিদ্যা লাভ যার হয়, অস্তিত্ব বজায় রাখার জ্ঞান তার হয়। তার বিচারশক্তি হয়, জীবনচলনায় ভালটাকে বেছে নিয়ে সে এগিয়ে চলে মূল প্রাপ্তি বা গন্তব্যের দিকে। যার চরম ঈশ্বরপ্রাপ্তি। ভাষাবিদ জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস মহোদয় কৃত অভিধানানুসারে, ‘‘যদ্দারা ব্রহ্ম হতে ব্রহ্মান্ড পর্য্যন্ত যাবতীয় পদার্থের সত্যবিজ্ঞান লাভ হইয়া যথাযোগ্য উপকার প্রাপ্ত হওয়া যায় তাহাই বিদ্যা ; যদ্দারা অক্ষর পুরুষকে জানা যায়।’’ ওই বিদ্যায় বিদ্বান হয়ে ছাত্রদের জানাবার কাজটি যিনি করেন তিনি শিক্ষক বা আচার্য্য।

বেদ বা জ্ঞান-এর দুটো দিক, আধ্যাত্মিক ও জাগতিক। যা জানলে মানুষের জীবনের পূর্ণতা লাভ হয়, বিদ্যা লাভ হয়।  বেদের বিদ্যা দু প্রকার পরা ও অপরা।  শিক্ষা (phonetics), কল্প, ব্যাকরণ, ছন্দ, জ্যোতির্বিদ্যা (astronomy)  ও নিরুক্ত (শব্দতত্ত্ব) ইত্যাদি নামের বেদের ৬টি শাখার নাম বেদাঙ্গ। সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ্  নামে বেদকে চারভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যার অন্ত ভাগের নাম বেদান্ত বা উপনিষদ।  ‘আত্মানং বিদ্ধি’  (Know Thyself,— who am ‘I’ ?) অর্থাৎ নিজেকে জানার  চেষ্টার পাঠক্রমকে বলা হয়েছে পরাবিদ্যা। পরাবিদ্যার পাঠক্রমে আমাদের শিক্ষক আর্য-ঋষিগণ বলেছেন, ‘‘যস্তু সর্বাণি ভূতান্যাত্মন্যেবানুপশ্যতি।/সর্বভূতেষু চাত্মানং ততো ন বিজুগুপ্সতে।।’’  (ঈশোপনিষদ) অর্থাৎ,  যিনি নিজের আত্মাকেই সর্বাত্মারূপে উপলব্ধি করেন, তিনি কাহাকেও ঘৃণা করেন না। সর্বভূতে নিজেকে, নিজের মধ্যে সর্বভূতকে উপলব্ধি করেন। কেন‍না, আর্য্য হিন্দু শাস্ত্রমতে আমরা মানুষেরা ঐহিক জগতে দ্বৈত ভাবে অসম্পৃক্ত হয়েও সেই এক পরমাত্মার সাথে সম্পৃক্ত।

      আবার তৈত্তরীয় উপনিষদের বিদ্যা দানের শান্তি পাঠে রয়েছে, ‘‘ওঁ সহ নাববতু। সহ নৌ ভুনক্তু। সহ বীর্য করবাবহৈ। তেজস্বি নাবধীতমস্তু মা বিদ্বিষাবহৈ। ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।।’’ যার মর্মার্থ হলো, আমরা (আচার্য্য ও বিদ্যার্থী উভয়ে) সহমত হয়ে চলব, প্রকৃতির উপাদান সকলে স-মান (Equitable) ভাবে ভাগ করে জীবন ধারণ করব। কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করব না। আর অপরাবিদ্যার বিষয় ছিল জাগতিক শিক্ষা, যা ৬৪ কলা বিদ্যার মধ্যে নিহিত ছিল। (অন্তরাসীজন ৬৪ কলাবিদ্যার সিলেবাস জানতে আগ্রহী হলে জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস মহোদয়ের অভিধানে ‘কলা’ সবিশেষ পাঠ করে দেখতে পারেন। তা হলেই বুঝতে পারবেন বিদ্যা কাকে বলে।)   পরাবিদ্যার শিক্ষকদের বলা হতো আচার্য্য আর অপরাবিদ্যার শিক্ষকদের উপাচার্য্য (তৈত্তিরীয় উপনিষদ)।  বর্তমানের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরস্বতী আরাধনা মন্ত্রক্তো বেদ-বেদান্ত-বেদান্তের সাথে বাস্তব সখ্যতা না থাকলেও বিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত আচার্য্য এবং উপাচার্য্য শব্দদ্বয়কে এখনো বিদায় দেওয়া যায় নি।

*    *    *

      আমাদের বর্তমান যুগ যে যুক্তিবাদী সে কথা কোন চিন্তাশীল ব্যক্তি অস্বীকার করবেন না আশাকরি। যেমন, সন্তানের হয়ে মা খেলে সন্তানের পেট ভরবে না। ছাত্রের হয়ে শিক্ষক লেখাপড়া করলে ছাত্র পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে না। তেমনি বিদ্যালাভের জন্য বিহিত সাধনা না করে পুরোহিতের বলে দেওয়া দেবী সরস্বতীর অঞ্জলিমন্ত্র আওড়ালে বিদ্যার্থীদের  বিদ্যা বা ঈপ্সিত ফললাভ হবে কি ?

      অবশ্য পুরোহিতও  জানেন না ফললাভের বিষয় সম্পর্কে। যদি জানতেন প্রতিমা-বিসর্জন মন্ত্রে বলতেন না—ওঁ আবাহনং ন জানামি, নৈব জানামি পূজনম্। বিসর্জনং ন জানামি ক্ষমস্ব পরমেশ্বরি ।–অর্থাৎ আমি আবাহনও জানিনা, বিসর্জনও জানিনা, আমাকে ক্ষমা করুন। (দ্রঃ বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা)

      বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকার মত অনুযায়ী পূজ্য-প্রতিমা চঞ্চল চিত্তের ধারণের জন্য একটি অবলম্বন। প্রতিমাকে ব্রহ্মের রূপ কল্পনা করে উপাসনা, সংযম, সাত্তিক আহার, সাত্তিক বিহার ইত্যাদি ক্রিয়াকাণ্ডের মাধ্যমে পূজা করা হয়।–যাতে পূজক বা উপাসক মনসংযোগ দ্বারা প্রতিমাকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রতিমার গুণে গুণান্বিত হতে পারে। এই হলো প্রতিমা পূজার মূল কথা।   

*    *    *

      আমাদের আলোচ্য দেবী সরস্বতী প্রতিমার চরণ পদ্মের উপর ন্যস্ত, এর দ্বারা সৃষ্টির বিবর্ত্তনের কথা রূপকে বর্ণিত হয়েছে। মা সরস্বতী হংসের উপর উপবিষ্ট। হংস পরমাত্মার প্রতীক। বীণা থেকে  নাদ বা ধ্বনি উৎপন্ন হয়, তাই বীণা সুরত-শব্দযোগের প্রতীক । পুস্তক বা গ্রন্থ বিদ্যা অর্জনের মাধ্যমের প্রতীক। দেবীর শুক্লবর্ণ সাত্তিকতার প্রতীক। পদ্ম, হংস, বীনা, পুস্তকাদি সজ্জিত শ্বেতবসনা দেবী সরস্বতীর উপাসনার বিষয় তাহলে  বিদ্যা, ব্রহ্ম, পরব্রহ্ম, সৃষ্টিতত্ত্ব ইত্যাদি হওয়া উচিত।   প্রতিমার অলঙ্কারের ওই গুণগুলোর সিলেবাস জানার পরে তো উপাসনার দ্বারা গুণান্বিত হবার প্রশ্ন! সেই সিলেবাসগুলো দেবী সরস্বতী কোন্ পুস্তকে, কোন্ সংহিতায় লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, সে বিষয়ে বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা কোথাও কিছু বলে গেছে কিনা আমি জানি না। যদি কেউ জানেন দয়া করে জানালে বাধিত হব। তবে এটুকু জেনেছি, পরব্রহ্মের ব্যক্ত-প্রতীক ‘‘শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রা’’ —‘‘তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভূত’’ হয়েছেন যিনি, তিনি ওই সব বিষয়ের খুঁটিনাটি জানেন এবং সবাইকে জানিয়েও দিয়েছেন বিবিধ স্মৃতি এবং শ্রুতি বাণীর মাধ্যমে।  যিনি মানুষের জীবনের বেঁচে থাকা ও বৃদ্ধি পাওয়ার জীবন্ত আদর্শ স্বরূপ। যিনি পঞ্চবর্হি ও সপ্তার্চ্চি মাধ্যমে সব দেবতার, সব আরাধনার, সব পূজার, সব বিদ্যার সূত্র সন্নিবেশিত করেছেন। যাঁর উপাসনা বাদ দিয়ে কোন  পুতুল পূজা করে কোন কিছুই জ্ঞাত হওয়া সম্ভব নয়। তাঁর নাম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র।  যারজন্য সদদীক্ষার শুভ মুহূর্তে ‘‘ওঁ ব্রহ্ম পরব্রহ্ম ও কুলমালিক ……’’ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে বাহ্যপূজার বিষয়ে উল্লেখ্য পরব্রহ্ম-এর প্রকৃত তত্ত্বকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

*    *    *

          বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকার মত অনুযায়ী   সততা, সংযম, ন্যায়নীতি ইত্যাদি মানবিক গুণগুলোর প্রবহমানতাকে বৎসারান্তিক নবীকরণ করার জন্যই বাহ্যপূজা বা মূর্তিপূজা উদযাপনের উদ্দেশ্য। বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ  করলে দেখা যাবে, সরস্বতী পূজাই শুধু নয়, সব পূজার নামে হুজুগে মেতে আহার-বিহারে একটু বেশী করে অসংযমী হয়ে পড়ি আমরা।  নাহলে সরস্বতী পূজা উপলক্ষ্যেও মাংসের দোকানে লাইন পড়ে যায়, যা হিন্দু শাস্ত্রে অভক্ষ্য, নিষিদ্ধ খাবার। যা খেলে আয়ুক্ষয় হয়। হিন্দুদের প্রামাণ্য গ্রন্থ মনু সংহিতা অনুযায়ী ‘মাং’ মানে আমাকে ‘স’ মানে সে,  অর্থাৎ আমাকে সে খেলে আমিও তাকে খাব।  আর আমরা ধর্ম পালনের অজুহাতে, পূজার অজুহাতে শাস্ত্রবিরোধী আচরণ করে হিন্দুত্বের বড়াই করতে চাইছি। এরফলে অহিন্দুরা আমাদের ওপর আঙুল তুলতে সাহস পাচ্ছে।

*    *    *

ভাষা-বিজ্ঞান অনুযায়ী পূজা মানে পূরণ করা, সম্বর্দ্ধিত করা। যে আচার-আচরণ  সাত্তিক জীবন-বর্দ্ধনার অভাবকে পূরণ করে, পরিবেশের জৈবাজৈব সবকিছুকে সম্যকরূপে বর্দ্ধিত করে, তার নাম পূজা।  ‘শ্রেয়-সৃজনী সংহতি ও সমাবেশ’  যা, তার নাম উৎসব। আর যে আচার-আচরণ জীবনবৃদ্ধিকে নন্দিত করে তার নাম আনন্দ। এখন প্রশ্ন,  আমাদের প্রচলিত পূজা, উৎসবের উদযাপন বৃহত্তর পরিবেশকে কতখানি নন্দিত করে  ‘পূজা’ শব্দের যথার্থতাকে উপহার দিতে পেরেছে ? –এইসব বিষয়ে সত্তাপিয়াসী চিন্তাশীলদের চিন্তা করে দেখা উচিত। বিশেষ করে যাঁরা কুসংস্কার বিরোধী রূপে নিজেদের বোধ ও বোধিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।

*    *    *

      পূজা বিষয়ে হিন্দুদের প্রামাণ্য গ্রন্থগুলো কি বিধান রেখে গেছে, বাহ্য-পূজাবাদীদের তা একবার জেনে নেওয়া দরকার।

       ‘মহানির্ব্বাণতন্ত্র’ নামক তন্ত্রশাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছেঃ  
      ‘‘উত্তমো ব্রহ্মসদ্ভাবো ধ্যানভাবশ্চ মধ্যমঃ।
      অধমস্তপোজপশ্চ বাহ্যপূজাহধমাধমঃ।।’’
      ওই মহানির্ব্বাণতন্ত্রকে সমর্থন করে ‘ভারতে বিবেকানন্দ’ গ্রন্থের  ৩৩৬  পৃষ্ঠায় বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘‘সকলস্থলে ব্রহ্মদর্শন সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট। ধ্যান মধ্যম, স্তুতি ও জপ অধম, বাহ্যপূজা অধমেরও অধম।’’

      ‘‘যে-ব্যক্তি সর্ব্বভূতব্যাপী ঈশ্বরকে ত্যাগ করিয়া মূর্খতাবশতঃ প্রতিমার পূজা করে, সে ভস্মে হোম করে।’’ –শ্রীমদ্ভাগবত। ৩-২৯-২২

      “ঈশ্বরঃ সর্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জ্জুন তিষ্ঠতি।
      ভ্রাময়ন্ সর্ব্বভূতানি যন্ত্ররূঢ়ানি মায়য়া।।“
                                    –গীতা, ১৮। ৬৫
      “যিনি এই সমস্ত জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন তাঁহার নিজের স্বধর্মানুরূপ নিষ্কাম কর্মাচরণ দ্বারা (বাক্য বা ফুলজল দ্বারা নহে) পূজা করিয়া মানুষ সিদ্ধি লাভ করে । স্বধর্মানুরূপ (বর্ণানুগ সত্তাধর্ম পালন) নিষ্কাম কর্মই পরমেশ্বরের পূজার ডালি ।”  (গীতা ১৮।৪৬)
       “যে ব্যক্তি সর্বভূতব্যাপী ঈশ্বরকে ত্যাগ করিয়া মূর্খতাবশতঃ প্রতিমার পূজা করে, সে ভস্মে হোম করে ।“ (শ্রীমদ্ভাগবত ৩।২৯।২২)

*    *    *

      তাই একটা  প্রশ্ন স্বভাবতঃই জাগে, বিদ্যার্জনের জন্য আমরা যদি বাহ্যপূজার ডালি সাজিয়ে দেবী সরস্বতীর উপর সত্যিসত্যিই নির্ভরশীল হতে পারতাম, তাঁকে বিশ্বাস করতাম, তাঁর প্রতি নিষ্ঠা থাকত, তাহলে বিদ্যা লাভের জন্য তাঁকে নিয়েই পড়ে থাকতাম। প্রভূত অর্থ ব্যয় করে, একে-ওকে ধরাধরি করে স্কুল-কলেজে ভর্তি হয়ে, বিষয় ভিত্তিক প্রাইভেট টিউটরের কাছে টুইশন নিতে যেতাম না, পরীক্ষার হলে অসদুপায়ের আশ্রয় নিতাম না। কারণ, এ-তো দ্বন্দ্বীবৃত্তি, বিশ্বাসকে অপমান করা। অবশ্য না করে উপায়ও তো নাই!  বর্তমানের মোবাইল প্রীতির যুগে, প্রতিমা-পূজায় বিশ্বাসী এমন কি কাউকে পাওয়া যাবে,— যিনি পুরোহিতকে কিছু দক্ষিণা দিয়ে তার সাধের মোবাইলের প্রতিকৃতি বা প্রতিমার পুজো করিয়ে মোবাইলের সব ফিচার উপভোগ করতে পারবে, ডাউনলোড-আপলোড করতে পারবে, হোয়াটস্ অ্যাপে ছবি পাঠাতে পারবে?   প্রতিমা-পূজায় বিশ্বাসী  এমন কোন মেয়ে পাওয়া যাবে, যে তার পছন্দের বর-এর ছবি বা কাট্-আউট পুজো করিয়ে মা হতে পারবে, সুখের দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করতে পারবে?  যদি পারে তাহলে পুরোহিতকে দক্ষিণা দিয়ে সরস্বতী প্রতিমার পূজা করিয়ে বিদ্যা লাভ সম্ভব! নচেৎ কোন পুতুল পুজো করার আগে একটু বোধ-বিবেককে কাজে লাগাতে হবে।

*    *    *  

      বাস্তব বোধের দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে বিচার-বিবেচনা করলে দেখা যাবে, সরস্বতী পূজার ওই মন্ত্রগুলোই শুধু নয়, আমাদের সব কথাই বাক্ হয়ে স্ফূরিত হয় বলে সরস্বতী  বাগ্দেবী রূপে কল্পিত হয়েছেন। অতএব যুক্তি বা বিজ্ঞান অনুযায়ী দেবী সরস্বতী মেধানাড়ীতে সুপ্ত, কণ্ঠে এবং কলমে ব্যক্ত। একাগ্রতার অনুশীলনে মেধানাড়ী জাগ্রত না  করতে পারলে, অর্থাৎ স্মৃতি যদি কাজ না করে মুখস্থ বলা যাবে না, লেখাও যাবে না। মেধানাড়ী ধ্রুবাস্মৃতির কাজ করে। উপনিষদে বর্ণিত আছে, আহার শুদ্ধৌ সত্ত্বাশুদ্ধিঃ, সত্ত্বাশুদ্ধৌ ধ্রুবাস্মৃতি …… । তাই, বিদ্যা লাভ করতে হলে মেধানাড়ীকে জাগ্রত রাখতে হবে। আর, মেধানাড়ীকে জাগ্রত রাখতে  হলে সদাচার এবং বর্ণাশ্রমানুগ জীবন-যাপন—আহার-বিহার, জৈবিক তাগিদ পূরণ, জীবিকার্জন ইত্যাদি ইত্যাদি আহরণসমূহকে শুদ্ধ রাখতে হবে খেয়ালখুশীর প্রবৃত্তি-পরায়ণতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে।    

      বেদবিৎ আচার্য্যের বিধানকে উপেক্ষা করে শিক্ষার নামে, বিদ্যার নামে প্রবৃত্তি-পরায়ণতার বিধি-ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থায় বা  সরস্বতীর মূর্তি পূজা করে যদি  প্রকৃত বিদ্যা লাভ হতে পারতো, তাহলে তথাকথিত বিদ্যালয়গুলো থেকে অনেক অসৎ-নিরোধী আদর্শবান, বিদ্বান, শ্রদ্ধাবান, চরিত্রবান মানুষের সৃষ্টি হতে পারতো।   বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে ঘেরাও করে  ‘হোক কলরব’ সংগঠিত হতো না। ‘মা বিদ্বিষাবহৈ’-এর দেশের বিদ্যালয়ে ছাত্র-রাজনীতির নামে মানুষের প্রতি মানুষের বিদ্বেষ দেখতে হতো না। এসব উল্লেখ করার কারণ, বর্তমানে দুর্নিতীপরায়ণ মানুষদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাঁরা একসময় বিদ্যাদেবীর আরাধনা করে সমাবর্তন মাধ্যমে আচার্য্য বা উপাচার্য্য স্বাক্ষরিত বিদ্বান আখ্যা বা শংসাপত্র বা ডিগ্রী নিয়েছেন! তাঁদের কি বিদ্বান বলা যাবে ?    

      অথচ এই ভারতবর্ষের রত্নাকর দস্যু সরস্বতীর কোন মূর্তি-পূজা না করেই, আহত-নাদ মর্যাদা-পুরুষোত্তম ‘রাম’-নামের (ম-রা, ম-রা, ম-রা ……..=রাম) সাধন করে দেবী সরস্বতীকে মেধানাড়ীতে জাগ্রত করে হয়েছিলেন বাল্মীকি।

*    *    *

      একদা তমসা নদী থেকে স্নান সেরে ফিরছিলেন। এক তরুশাখে ক্রৌঞ্চ-জুটি পরস্পর খেলছিল। এক ব্যাধ পুরুষ পাখিটিকে তীর মেরে হত্যা করলে স্ত্রী পাখিটি করুণ বিলাপ করতে থাকে। বাল্মীকি বিচলিত হয়ে ‘কোনদিন প্রতিষ্ঠা পাবে না’ বলে ব্যাধকে অভিসম্পাত করেন। সেই অভিশাপ বাণী স্বতঃস্ফূর্ত শ্লোকবদ্ধ হয়ে নির্গত হয়েছিল :–‘‘মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতী সমাঃ/যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকম্ অবধী কামমোহিতম্।’’ এই শ্লোকটিকে পৃথিবীর সারস্বত সাধকেরা আদি শ্লোক বলে মান্য করেন। অতএব, সারস্বত সাধনার মূল বিষয় মস্তিষ্কে সুপ্ত থাকা মেধানাড়ী বা স্মৃতিবাহী চেতনার জাগরণ।

*    *    *

      মেধানাড়ীকে জাগ্রত করতে হলে লাগে অনাহত-নাদ বা সৎমন্ত্র সাধন। বর্তমান পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আমাদের বিদ্বান করার জন্য দীক্ষার মাধ্যমে আজ্ঞাচক্রে অনাহত-নাদের সৎমন্ত্র সাধন, স্বতঃ-অনুজ্ঞার অনুশাসন এবং সদাচার মাধ্যমে আমাদের মেধানাড়ীকে জাগ্রত করার সহজ উপায় দান  করেই ক্ষান্ত হন নি, ‘নিয়তং স্মৃতিচিদযুতে’-বাণীতে স্বস্ত্যয়নী ব্রতের মন্ত্রের মাধ্যমে স্মৃতিবাহী চেতনাকে জাগ্রত করার বিধান দিয়ে দেবী সরস্বতীর আরাধনার নিমিত্ত স্থায়ী একটা আসন পেতে দিলেন।   যা’তে আমরা প্রতিনিয়ত সরস্বতী পূজায় ব্যাপৃত থাকতে পারি। আমরা একটু চেষ্টা করলেই সেই বিধিগুলোকে অনুশীলন মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে দেবী সরস্বতীকে সম্বর্দ্ধিত করে, প্রকৃত অর্থে পূজা করে নিত্য, শুদ্ধ, বুদ্ধ,পবিত্র হতে পারব, বিদ্বান হতে পারব।

      এবার আমরা একটু দেখে নেব বর্তমান বেদবিৎ আচার্য্য শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সরস্বতী বিষয়ে কি নিদান রেখে গেছেন।

‘‘বিকাশ-ব্যাকুল গতিই যাঁর সংস্থিতি—

            তিনিই সরস্বতী,

আর, বাক্ বা শব্দই

      যাঁর সত্তা—

                  তিনিই বাগ্দেবী‍;

তাই, যিনিই বাগ্দেবী

                  তিনিই সরস্বতী। ২ ।

বাস্তব উপলব্ধিসম্ভূত

      সার্থক অন্বিত-সঙ্গতিশীল জ্ঞানকেই

                              বিদ্যা বলে। ৩ ।

      সার্থক সর্ব্বসঙ্গতিশীল জ্ঞানই

                              বিজ্ঞান,

                  আর, তা’ই বেদ,

                                    প্রজ্ঞাও তা’ই। ১০ ।’’

                                                              (সংজ্ঞা সমীক্ষা)

       শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রদত্ত উপরোক্ত বাণীতে এটুকু বোঝা গেল যে সরস্বতী আরাধনার মাধ্যম বাক্ বা শব্দ সাধন। শ্রীশ্রীঠাকুর ভাব-সমাধিতে বাক্ বা শব্দের সন্ধান দিতে গিয়ে  ব্যক্ত করলেন,—‘‘নাম-নামী অভেদ, ….. স্থূলে আমার প্রকাশ, সূক্ষ্মে আমার বাস।’’ মহাগ্রন্থ পুণ্যপুঁথির উক্ত বাণীকে স্বীকার করলে বাক্ বা শব্দের অস্তিত্বের আধারও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। এবং সব দেবতার সমাহারে সৃষ্ট একমাত্র তিনিই ভগবানের অখন্ড সাকার মূর্তি। তিনি ইষ্ট, তিনি ধ্যেয়, তিনি জ্ঞেয় এবং তিনিই পূজ্য। তাঁর আদর্শ মেনে চলে ইষ্টপূজা করতে পারলে সব দেবতার পূজা করা হয়।

——

UTTARADHIKAR

বিপন্ন উত্তরাধিকার

                                      ––ডাঃ তপন দাস

‘‘অভাবে পরিশ্রান্ত  মনই ধর্ম্ম বা  ব্রহ্ম জিজ্ঞাসা করে, নতুবা করে না।’’

      পরম প্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র লিখিত সত্যানুসরণের চিরন্তন ওই বাণীর অমোঘ টানে নরেন দত্ত গেলেন পরমপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণদেবের দরবারে––জাগতিক অর্থাভাব ঘোচাতে। অন্তর্যামী ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব দেবোপম চরিত্রের উত্তরাধিকারীকে সচেতন করিয়ে দিলেন, আত্মসুখ নয়, ভারতবর্ষের শাশ্বত দর্শন, ‘‘বহুজন হিতায় চ, বহুজন সুখায় চ’’-এর আদর্শের উত্তরাধিকারী হয়ে পরমার্থ লাভ করার জন্য তোমাকে আত্ম নিবেদন করতে হবে।

       শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ঐশী শক্তিতে শক্তিমান হয়ে নরেন্দ্রনাথ হলেন বিবেকানন্দ। এঁকে দিলেন মহান ভারতবর্ষের পূর্ণাঙ্গ এক চিত্র। শিকাগো ধর্ম্ম মহাসভার ক্যানভাসে।

       ‘আব্রহ্মস্তম্বভৃদ্ধাতা’–তৃণলতা থেকে ব্রহ্ম, সপরিবেশ জীবনবৃদ্ধির বার্তাবহ বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, সংহিতা, পুরুষোত্তমবাদ নিয়ে বিশ্বজনমানস নতুন করে ভাবতে শুরু করলো।  হৃত উত্তরাধিকার ফিরে পেতে ভারতবর্ষ ‘‘উত্তিষ্ঠত জাগ্রত, প্রাপ্য বরান্ নিবোধত।।’’ মন্ত্রে আবার নতুন করে জেগে উঠলো।………

       ‘‘কর্ম্মণ্যেবাধিকারেস্তু মা ফলেষু কদাচন।…….’’ ––কর্মেই তোমার অধিকার ফলে নয়। ––শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতার ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার আদর্শ আঁকড়ে নবযুগের অভিমন্যু ক্ষুদিরাম, দেশরক্ষার ধর্ম পালন করতে গিয়ে ফাঁসির আসামী হলেন। ‘‘ন জায়তে ম্রিয়তে কদাচিৎ…….বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়………নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ।…….’’। বাণীর অমৃত আদর্শে স্থিতপ্রজ্ঞ, মৃত্যুঞ্জয়ী ক্ষুদিরাম হাসিমুখে ফাঁসির দড়ির মালা পড়লেন গলায়। একটা ক্ষুদিরামের আত্মাহুতি জন্ম দিল হাজারো ক্ষুদিরামের। ফাঁসিরজ্জু আর ইংরেজ রাজশক্তির বুলেটের আলিঙ্গনে জীবনের জয়গান গাইতে গাইতে অকালে হাসিমুখে বিদায় নিল উত্তরাধিকারের স্বপ্নদেখা কতশত বীর ভারত-সন্তানেরা। অবশেষে একদিন গ্যালন গ্যালন রক্তের বিনিময়ে আমরা ফিরে পেলাম উত্তরাধিকার। অপূর্ণ, খণ্ডিত। অখণ্ড ভারতবর্ষ হিন্দুস্তান, পাকিস্তান আখ্যা পেল। কিন্তু পূর্ব পশ্চিমে প্রসারিত ভারতমাতার কর্তিত দুটো বাহুর ক্ষত আজও শুকলো না। সৃষ্ট হলো জাতীয় ম্যালিগন্যাণ্ট সমস্যার। বর্তমান যুগ-বিধায়ক শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের প্রদত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার নিমিত্ত রক্ষাকবচ ‘পপুলেশন এক্সচেঞ্জ’ বিধি না মানার জন্য।

তা’ সমস্যা যতই থাকুক, তথাপি জাতীয়তাবাদের পরিচয়ের নিরিখে আমরা ভারতবাসী। আর্য্যজাতির বংশধর। বাল্মীকি, বেদব্যাস আমাদের জাতীয় কবি। রাম, কৃষ্ণ, চৈতন্য, রামকৃষ্ণ প্রমুখ আর্য্য ভারতবর্ষের জাতীয় মানবতাবাদের পূজারী পুরুষোত্তমগণের সাথে ‘‘দিবে আর নিবে মেলাবে মিলিবে’’-র আদর্শ মেনে বুদ্ধ, যীশু, হজরত রসুলকেও দ্রষ্টাপুরুষরূপে চিহ্নিত করিয়ে দিলেন বর্তমান পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। জাতীয় জীবনে সাম্প্রদায়িক সমন্বয়ের বাস্তব সেতুবন্ধন রচিত না হলেও, ভারতীয় হিন্দু, ভারতীয় মুসলমান, ভারতীয় খৃষ্টান, ভারতীয় বৌদ্ধ, ভারতীয় শিখ প্রত্যেকেই যে আর্য্যজাতির বংশধর আমরা বুঝতে শিখলাম, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কাছে আনত হয়ে। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আসমুদ্র হিমাচল পর্যন্ত বিস্তৃত ভারতবর্ষের মহিমা বন্দনা করলেন ‘আর্য্য ভারতবর্ষ আমার জ্ঞান-গরিমা-গরবিনী …….’ সঙ্গীতের ছন্দে।

এই সবকিছু নিয়েই তো আমরা জোর গলায় বলতে পারছি,  ‘মেরা ভারত মহান, India is  great.’ আচ্ছা ওই শ্লোগানগুলো বলার সাথে সাথে করার যদি মিল না থাকে, ইতিহাসে আমাদের পরিচয় কি হবে? ভারতীয় ঐতিহ্য, ভারতীয় কৃষ্টি, ভারতীয় অনুশাসনের উত্তরাধিকার আমরা প্রকৃত অর্থে বহন করে চলছি কি?

গণপ্রজাতন্ত্রী আধুনিক ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ধর্মকে রক্ষা করে চলার কর্তব্যকে। রাষ্ট্রীয় মন্ত্র ‘সত্যমেব জয়তে’ স্মরণ করিয়ে দেয় উপনিষদীয় আচার্য অনুসরণের  শাশ্বত অবলম্বনকে। রাষ্ট্রের কর্ণধার রাষ্ট্রপতিসহ মন্ত্রীবর্গ প্রত্যেকেই ঈশ্বরের নামে শপথ গ্রহণ করে ঈশ্বরসৃষ্ট জীবগণের কল্যাণ সাধনে ব্রতী হয়। ঈশ্বরের প্রতিভূস্বরূপ জাগতিক ন্যায়দণ্ডধারী বিচারকেরা ধর্মাধিকরণ নামে চিহ্নিত। বিচারালয়কে বলা হয় ধর্মস্থান। কেন?

ভারতীয় অনুশাসনের সাম, দান, ন্যায়, দণ্ড, নীতি ও ভেদ-এর রাজধর্ম রক্ষার পবিত্র কর্তব্যে যাতে এতটুকু অন্যায়, অধর্ম প্রবেশ করতে না পারে তার জন্যই ওইসব মহাভারতীয় নীতির অনুসরণ। বিধিবৎ প্রকৃষ্ট-জাতক সৃষ্টি করে প্রজা পালনের স্বার্থেই  ওই অনুশাসনকে আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি। তথাপি যখন ভারতীয় শাসন সংহিতা বা সংবিধান ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সম্প্রদায় নিরপেক্ষ ধর্মপ্রাণ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ না করে, ধর্ম এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এক করে ফেলে ‘ধর্ম-নিরপেক্ষতাবাদ’,––অর্থাৎ রাষ্ট্র ধর্মের অনুবর্তী নয়’-এর মতবাদকে প্রতিষ্ঠা দেয়, তখন কি মনে হয় না, আমরা জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়েও এক পরস্পর বিরোধী আচরণ করে চলেছি !

বর্তমান যুগ-পুরুষোত্তম কথিত ধর্মের যুগান্তকারী সংজ্ঞা ‘অন্যে বাঁচায় নিজে থাকে/ধর্ম বলে জানিস তাকে। ধর্মে সবাই বাঁচে-বাড়ে/সম্প্রদায়টা ধর্ম না-রে।’ সমন্বয় বার্তাবহ বাণীকে গুরুত্ব না দিয়ে ধর্মের নামে, ভারতীয় সংহিতার নীতি বহির্ভূত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তি পরায়ণতার  আস্ফালনকে, কতগুলো অনিত্য, অসার, পৌত্তলিক কু-সংস্কারকে যদি ‘ধর্ম’ নামে প্রতিষ্ঠা দিতে চাই, তা’ কি বিচক্ষণতার পরিচায়ক হবে, না ভারতবর্ষের কৃষ্টির পরিপূরক হবে? ওই ভুলের বোঝা কি আমাদের চিরদিন বইতে হবে? আমাদের বুদ্ধি, বোধ কি নিরেটই থেকে যাবে?

যে নীতি-বিধি পদার্থের অস্তিত্ব রক্ষার সহায়ক তাই তো ধর্ম। পদার্থের স্বকীয়তা ধারণ করে রাখার সহায়ক যা’ তাই ধর্ম। ধর্ম পালন করলেই পদার্থ টিঁকে থাকবে, নচেৎ থাকবে না। সংসদ প্রকাশিত ইংরেজী অভিধানে ধর্মের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘It is an action, one is bound to  do.’ সেই ধর্মের আবার পক্ষ আর নিরপেক্ষ কি? বেঁচে থাকার অজৈব উপকরণ বায়ু, জল, মাটি ইত্যাদির যদি ধর্ম থাকতে পারে, এবং তা’ যদি বিজ্ঞানের বইতে পাঠ্য হতে পারে, তাহলে মানুষের  কি ধর্ম নেই? মনুষ্যত্ব প্রকাশের মাধ্যমেই তো মানুষ ধার্মিকতার পরিচয় দেয়। মানুষের মনুষ্যত্বের অস্তিত্ব টিঁকিয়ে রাখার নীতিবিধি-সমন্বিত ভারতের নিজস্ব সংহিতাগুলোর বিধানসমূহ ভারতীয় শাসনতন্ত্রের সংহিতায় স্থান পাবে না কেন, প্রজাদের শিক্ষা দিতে পাঠ্য করা  হবে না কেন?    

রাষ্ট্রের সৃষ্টিই তো প্রজাদের অধর্ম বা দুর্নীতি থেকে মুক্ত করে ধার্মিক, অর্থাৎ সু-নীতি পরায়ণ করে তোলার জন্য। সেই রাষ্ট্র যদি তার প্রজাবর্গকে, তাদের পিতৃ-পিতামহের আদর্শ অনুসারী ধর্ম-পরায়ণ, কৃষ্টি-পরায়ণ হতে উৎসাহ না দিয়ে, প্রবৃত্তি-পরায়ণতায় উৎসাহ দেয়, সেটা ভারতবর্ষের জাতীয়  উত্তরাধিকারত্বের অস্তিত্বকে বিপন্ন করার বার্তা ভিন্ন আর কিছু নয়।

আর্য্য ভারতবর্ষের আদি সংবিধান ‘ব্রহ্মসূত্র’-এর নবীন সংস্করণ ‘কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র’ অনুযায়ী–-

‘‘সুখস্য মূলম্ ধর্ম্মম্

ধর্ম্মস্য মূলম্ অর্থম্

অর্থস্য মূলম্ রাষ্ট্রম্

রাষ্ট্রস্য মূলম্ ইন্দ্রিয় বিজয়ম্

ইন্দ্রিয় বিজয়স্য মূলম্ জ্ঞানবৃদ্ধ সেবয়া

জ্ঞানবৃদ্ধ সেবয়া বিজ্ঞানম্।’’

অর্থাৎ সুখী হতে হলে ধর্ম পালন করতে হবে। প্রকৃত ধার্মিক হতে হলে পুরুষার্থের চতুর্বর্গ সমন্বিত আশ্রমধর্ম পালন করতে হবে। নির্বিঘ্নে আশ্রমধর্ম পালন করার জন্য রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। ইন্দ্রিয় বিজয়ী প্রজাদের দিয়ে রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। ইন্দ্রিয় বিজয়ী হবার জন্য গুরু গ্রহণ করতে হবে। গুরুর আদেশ-নিদেশ পালন করলে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করা যাবে। তবেই জীবনে সুখী হওয়া যাবে। এই হলো ভারতবর্ষের ধর্মের মূল কথা।

ভারতীয় আর্য্যকৃষ্টি অনুসারে, ‘‘যেনাত্মন্ স্তথান্যেষাং জীবনংবর্দ্ধাঞ্চপি ধ্রীয়তে য স ধর্ম্মঃ।’’ অর্থাৎ, অন্যের বাঁচা এবং বৃদ্ধি পাওয়াকে অক্ষুন্ন রেখে, মানুষ বাঁচার জন্য, বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য যা’ যা’ করে, তাই ধর্ম। ধর্ম শব্দের অর্থ ধারণ করা।  ধর্ম আচরণের মাধ্যমে পালন করার জিনিস, অনুভব করার জিনিস, যা’তে প্রতিটি সত্তা তার অস্তিত্বকে ধারণ এবং পালন করতে পারে, তার অনুশীলন করা।

অথচ বাস্তব চিত্রটার সাথে মেলানো যাচ্ছে না ধর্মকে। বর্তমানে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্মের নামে চলছে বাহ্যপূজা, পৌত্তলিকতার প্রকাশ, হৈ-চৈ, পরিবেশ-দূষণ, রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায়। রাস্তা  আটক করে, চাঁদার জুলুম করে, জনজীবন বিপর্যস্ত করে, তারস্বরে মাইক বাজিয়ে, বাজি ফাটিয়ে, অবধ্য, নিরীহ প্রাণীদের হত্যা করে ধর্ম উদযাপন করার বিধি কোন মহাপুরুষ, কোন সাধক, কোন  নবী, কোন ঋষি, প্রবর্তন করেছেন কি? যদি না করে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রের কর্তব্য সব সম্প্রদায়কে প্রকৃত ধর্ম পালনে উৎসাহিত করা।  ধর্মের নামে বিধি-বহির্ভূত অসদাচারের অনুষ্ঠানের উদযাপনকে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা।

ভারতের আর্য্য-ঋষিগণ, অবতার-বরিষ্ঠগণ প্রত্যেকেই সপরিবেশ জীবনবৃদ্ধির উপাসনার কথা বলেছেন ধর্মের নামে, পূজার নামে। বর্তমান পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আরও একটু সহজ করে দিয়ে বললেন, ‘‘ধর্ম্মে সবাই বাঁচে-বাড়ে/সম্প্রদায়টা ধর্ম্ম না-রে। অন্যে বাঁচায় নিজে থাকে/ধর্ম্ম বলে জানিস্ তাকে। পূর্বতনে মানে না যারা/জানিস্ নিছক ম্লেচ্ছ তা’রা।’’ ‘‘পূজা-আর্চ্চা মানেই কিন্তু /দৈবগুণ যা সেধে নেওয়া। হাতে-কলমে মক্স করে/বাস্তবে তার রূপটি দেওয়া।।’’ ইত্যাদি ছড়াবাণীগুলো সহজ, সরল, ওজস্বী আবদনে সমৃদ্ধ হলেও একটা নির্দিষ্ট গণ্ডীর ভাষা-ভাষীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ওই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিতে তিনি  বললেন, ‘Upholding urge of existence is Dharmma.’  বস্তুর অন্তর্নিহিত সত্তা বা অস্তিত্বকে ধারণ এবং পালন করে উৎকর্ষতায় রক্ষা করার নাম ধর্ম। তথাপিও আমরা ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতার, কু-সংস্কারের, অজ্ঞানতার আবরণ ভেদ করে শুদ্ধ আমিটাকে বের করতে ব্যর্থ হলাম। তথাকথিত ইনটেলেকচ্যুয়াল হওয়া সত্বেও ধর্মের নামে ফুল, বেলপাতা, ধূপবিহীন ধূপকাঠি, ফল-মিষ্টান্নাদির অঢেল আয়োজনে, মাইক বাজিয়ে, শব্দবাজির আওয়াজ দিয়ে পরিবেশবিদদের চিন্তার বলিরেখায় ভাঁজ ফেলে দিতে ইন্ধন যোগাচ্ছি। আর আমাদের গর্বের রবীন্দ্রনাথ আমাদের দ্বিচারিতা দেখে কষ্ট পাচ্ছেন আর ভাবছেন, যে মানুষগুলো ‘তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি’, ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধূলার তলে’ ইত্যাদি ছন্দের ডালি সাজিয়ে ভক্তির আবেদন জানায়, তারাই আবার পূজার নামে কু-সংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে বিশ্বাত্মাকে দূষিত করে চলেছে।
       আমাদের বর্তমান যুগ যে যুক্তিবাদী সে কথা কোন চিন্তাশীল ব্যক্তি অস্বীকার করবেন না আশাকরি। যেমন, সন্তানের হয়ে মা খেলে সন্তানের পেট ভরবে না। ছাত্রের হয়ে শিক্ষক লেখাপড়া করলে ছাত্র পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে না।–তেমনি প্রচলিত পূজার আয়োজকদের হয়ে কোন পুরোহিত পূজা করলে আয়োজকদের কিছু ফললাভ হবে কি ?

       অবশ্য পুরোহিতও  জানেন না ফললাতের বিষয় সম্পর্কে। যদি জানতেন বিসর্জন মন্ত্রে বলতেন না—ওঁ আবাহনং ন জানামি, নৈব জানামি পূজনম্। বিসর্জনং ন জানামি ক্ষমস্ব পরমেশ্বরি (পরমেশ্বর)।–অর্থাৎ আমি আবাহনও জানিনা, বিসর্জনও জানিনা, আমাকে ক্ষমা করুন। (দ্রঃ বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা)   

বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত পঞ্জিকার মত অনুযায়ী পূজ্য-প্রতিমা চঞ্চল চিত্তের ধারণের জন্য একটি অবলম্বন। প্রতিমাকে ব্রহ্মের রূপ কল্পনা করে উপাসনা, সংযম, সাত্তিক আহার, সাত্তিক বিহার ইত্যাদি ক্রিয়াকাণ্ডের মাধ্যমে পূজা করা হয়।–যাতে পূজক বা উপাসক মনসংযোগ দ্বারা প্রতিমাকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রতিমার গুণে গুণান্বিত হতে পারে। এই হলো প্রতিমা পূজার মূল কথা।

পূজা বিষয়ে মহানির্ব্বাণতন্ত্র নামক তন্ত্রশাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছেঃ  
       ‘‘উত্তমো ব্রহ্মসদ্ভাবো ধ্যানভাবশ্চ মধ্যমঃ।
       অধমস্তপোজপশ্চ বাহ্যপূজাহধমাধমঃ।।’’
       মহানির্ব্বাণতন্ত্রকে সমর্থন করে ভারতে বিবেকানন্দ গ্রন্থের  ৩৩৬  পৃষ্ঠায় বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘‘সকলস্থলে ব্রহ্মদর্শন সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট। ধ্যান মধ্যম, স্তুতি ও জপ অধম, বাহ্যপূজা অধমেরও অধম।’’

       আমরা এমনই অধম যে, ধর্মের নামে প্রাণী হত্যা পর্যন্ত করতে আমাদের  বিবেকে বাধে না। আমাদের প্রামাণ্য হিন্দু শাস্ত্রে  কোথাও প্রাণী হত্যার অনুমোদন নেই। উপনিষদে ‘আত্মবৎ সর্ব্বভূতেষু’ মন্ত্রে প্রতিটি প্রাণের স্পন্দনকে রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

সর্বশ্রেষ্ঠ হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মহাভারতের অনুশাসনপর্ব ১১৪ অধ্যায়ে  বলা হয়েছে—
“যে ব্যক্তি মোহ প্রভাবে পুত্র-মাংস-তুল্য অন্যজীবের মাংস ভক্ষণ করে, সে অতি জঘন্য প্রকৃতির এবং তার সেই জীবহিংসা বহুবিধ পাপযোনিতে জন্মগ্রহণ করবার একমাত্র কারণ বলে নির্দিষ্ট হয়।“

শুধু হিন্দু মতেই নয়, কোন ধর্মীয় মতবাদে জীবহত্যা স্বীকৃত নয়।  

কোরানে, আর্য্য হিন্দু-শাস্ত্রে এবং পুরুষোত্তমদের বাণীতে কোথাও ‘বলিদান’ বা ‘কোরবাণী’-র নামে প্রাণী হত্যার অনুমোদন নেই।

       ‘কোরবাণী’ কথাটির উৎপত্তি  আরবীর ‘কুরবান’ থেকে। ‘কুরবান’ মানে উৎসর্গ, বলি। আবার বলি মানে দান। তন, মন, ধন কর কুরবানী অর্থাৎ কায়, মন, ধন পরমেশ্বরের জন্য উৎসর্গ কর। এই আত্মোৎসর্গ বা আত্ম-বলিদানই প্রকৃত বলি বা কোরবাণী।

মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ আল-কোরানে বলা হয়েছে, “এদের মাংস আর রক্ত আল্লাহর কাছে পৌছায় না, কিন্তু তোমার ভক্তি তার কাছে পৌছায়।”  (সুরা ২১/৩৭)

“আল্লার নিকট তাহার মাংস ও তাহার রক্ত কখন পৌঁছে না বা তিনি তাহা ইচ্ছা করেন না। বরং তোমরা অসৎকর্ম্ম হইতে নিজেকে রক্ষা কর ইহাই তিনি ইচ্ছা করেন। তিনি  আমাদের অধীনে থাকিয়া কার্য্যনির্বাহের জন্য পশু সৃষ্টি করিয়াছেন—সেজন্য তোমরা খোদার নিকট নম্র ও নিরীহ হইতে শিক্ষালাভ করিবে। এই সৎপথ-প্রাপ্তির অর্থাৎ সৎ-শিক্ষার জন্যই খোদা এই ব্যবস্থা করিয়াছেন। যাহারা অন্যের মঙ্গল সাধন করে, তাহাদের মঙ্গল করিয়া থাকেন  ……..”  (কোর-আণ—২২ হজ ৩৭ র, ৫) অথচ কোরবানীর নামে অবাধে নিরীহ পশুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়!

ভগবান বুদ্ধদেব বলেছেন, “আমি কখনই কাউকে মাংস খাওয়ার অনুমোদন করি নি, করি না এবং করব না।” (লঙ্কাবতার সূক্ত)

প্রভু যিশু বলেন, “তুমি হত্যা করিও না” । (এক্সোডাস – 20:13)
“যে একটি ষাড়কে হত্যা করলো, সে যেন একটি মানুষকে হত্যা করলো।”  (ইসা – 66:33)

উক্ত অনুশাসনবাদ আমাদের  স্মরণ করিয়ে দেয়, যে নিজেকে পরমেশ্বরের সন্তান  বা খোদাতাল্লার বান্দা মনে করবেন তিনি কখনই কোন প্রাণী হত্যা করবেন না এবং প্রাণীর রক্ত-মাংসে ক্ষুধার নিবৃত্তি করবেন না।

ধর্ম পালনের জন্য নির্দিষ্ট ওইসব অনুশাসনাবলী মেনে চলা স্বভাবতই নাগরিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। রাষ্ট্রের কর্ণধারগণ যদি ওই নাগরিক কর্তব্য  পালনে উদাসীন হয়ে ধর্মের নামে ‘যেমন খুশি তেমন’ উদযাপনের ছাড়পত্র দেয়, তাহলে, তথাকথিত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষজন ধর্মের নামে প্রবৃত্তি-প্ররোচিত অধর্মের আচরণ করার সুযোগ পেয়ে যায়, পরিবেশ দূষণ হয়, জনজীবন বিপর্যস্ত হয়। এই তো ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ-এর বাস্তবতা!  

                                         *    *    *

আমরা আমাদের ভারতবর্ষের জাতীয়তাবাদে আর্য্যজাতির মহান গ্রন্থ ‘মহাভারত’-কে স্বীকৃতি দিয়েছি। সেই স্বীকৃতির অধিকারে স্বীকৃতি পেয়েছে ‘শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা’। সেই সূত্রে স্বীকার করে নিতে হয় মহান রাজনীতিবিদ্ পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণকে। স্বীকার করে নিতে হয় ‘শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা’ প্রদত্ত––‘গতির্ভর্ত্তা প্রভুঃ প্রেষ্ঠ ঈশ্বরঃ পুরুষোত্তমঃ।/আব্রহ্মস্তম্বভৃদ্ধাতা সদগুরুস্ত্বং নমহোস্তুতে।।’ বাণীর শাশ্বত বার্তাকে। অতএব, আমাদের প্রকৃত উত্তরাধিকার প্রাপ্তির সূত্রই হলো সদগুরুর দীক্ষা গ্রহণ করে তাঁর নীতি-নিদেশ মেনে চলা। তাঁর আদর্শের প্রতি আনতি সম্পন্ন হয়ে চলা।

আমরা ‘মেরা ভারত মহান’ বলে চিৎকার করবো অথচ ভারতীয় কৃষ্টির ধারা অনুসরণ করবো না, পরিপালন করবো না, প্রচার করবো না, তা’-তো হতে পারে না! যদি আমরা সত্যিসত্যিই ওই মহান অনুশাসন মেনে নিতাম তাহলে কি ভারতীয় টিভিতে, সিনেমাতে, পুস্তকে, রাস্তাঘাটে ভারতীয় কৃষ্টির অনুশাসন পরিপন্থী, প্রবৃত্তি-প্ররোচিত স্পর্শকাম, দর্শকাম, শ্রুতিকাম, হিংসা-দ্বেষ প্রদর্শিত এবং প্রচারিত হয়ে মনুষ্যত্বকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারতো? ওইসব প্রবৃত্তি-প্ররোচিত আদর্শের কবলে পড়ে আমরা ভুলতে বসেছি আমাদের জাতীয় আদর্শ, আমাদের প্রকৃত উত্তরাধিকারের তত্ত্বকে।

চিদানন্দ সম্পদের অধিকারী আমার, আপনার, আমাদের প্রাথমিক পরিচয় কি, একটু ভেবে বলুন তো? না, না, নার্ভাস হবার কিছু নেই। এককথায় এর উত্তর যে ‘মানুষ’, তা’ প্রগতিশীল, প্রতিক্রিয়াশীল প্রত্যেকেই স্বীকার করবেন। আর  এ-ও স্বীকার করবেন যে, আমরা আকাশ থেকে শিলাবৃষ্টির সাথে একদিন হঠাৎ এই মহীতলে পতিত হইনি কোন গ্রহান্তরের প্রাণী হিসেবে। অযোনী-সম্ভূতও নয়। আমরা প্রত্যেকেই মাতৃদেবীর গর্ভবাসকাল শেষ করে অপত্যপথে, না হয় নিম্ন-উদরচেরা হয়ে পৃথিবীর আলো-হাওয়ার সাথে পরিচিত হয়েছি। পুরুষ-পরম্পরাগত জৈবী-সত্তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দেহ-মন-প্রাণ নিয়ে। প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য আলাদা আলাদা। যেহেতু পৃথক পৃথক  বংশের ধারা নিয়ে আমরা জন্মেছি। এই তথ্যকে অস্বীকার করলে জীব-বিজ্ঞানকেও অস্বীকার করতে হয়।

বিজ্ঞানের মানদণ্ডে, পিতৃ-মাতৃ বংশের ধারার সাথে নিজেদের অর্জিত দোষ-গুণ মিলেমিশে তৈরি genetic code Meiotic cell division-এ বিভাজিত হয়ে প্রস্তুতি নেয় উত্তর পুরুষ সৃষ্টির। মায়ের আকুতি, ভাবাবেগ  সম্বর্দ্ধিত Ectoplasmic body বা লিঙ্গ-শরীর বা আত্মা আশ্রয় গ্রহণ করে পিতার পুং-জননকোষের কোষাণুপুঞ্জে। দৈবরূপী বীজকে পুরুষাকাররূপী প্রকৃতি বা ডিম্বাণু করে বরণ। পিতার এবং মাতার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সংস্করণ, দুটি অর্দ্ধ কোষাণু (y+x, or, x+x chromosome) এক হয়ে সৃষ্ট হয় একটি পূর্ণাঙ্গ কোষ। একটা প্রজন্মের ভ্রূণ। পিতামাতার আত্ম-প্রতিলিপির প্রতিনিধি স্বরূপ।

কোন ভ্রূণ বিস্তৃতি লাভ করে জীবনবাদের গান গেয়ে যায়। কেউ ধ্বংসকে ডেকে আনে। কেউ ঝরে যায় অকালে। আমরা কেউ চাই না আমাদের উত্তরাধিকার অকালে ঝরে যাক, বিকৃত হয়ে জন্মাক। তবুও জন্মে যায় আমাদের অজ্ঞতার জন্য। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জাগতিক সম্পদ, ভোগের  উপকরণ ম্লাণ হয়ে যায় যদি থ্যালাসেমিয়া, স্কিজোফ্রেনিয়া, হিমোফিলিয়ার ন্যায় দুরারোগ্য বংশগত রোগে আক্রান্ত হয় চিদানন্দ শক্তির অংশ কোনো উত্তরপুরুষ।

বিকৃত উত্তরাধিকার সমস্যা সৃষ্টির মূলে কিন্তু আমরাই। ভারতীয় বর্ণাশ্রমধর্ম্ম, ভারতীয় দশবিধ সংস্কারের অনুশাসন না মেনে তথাকথিত প্রগতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে সংগতি রাখতে পারিনা জীবনধর্মের সাথে। ফলে বিপর্যয় এসে যায় ব্যষ্টি, সমষ্টি এবং রাষ্ট্র জীবনে।

 আমাদের জাতীয় জীবনের উত্তরাধিকারকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের ভারতীয় ঋষিগণ ‘বর্ণাশ্রম ধর্ম্ম’, ‘দশবিধ সংস্কার’ নামে কতগুলো জীবনীয় সংস্কার প্রবর্তন করেছিলেন। বর্তমানের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী প্রগতিবাদীরা ওইসব বিধান শুনে যারা মনে মনে ‘বিজ্ঞানের যুগে কুসংস্কার’ শীর্ষক সমালোচনার জন্য তৈরি হচ্ছেন, তাদের জন্য গুটি কয়েক বিজ্ঞানের তথ্য নিবেদন করছি Davidson’s Practice of Medicine, 16th edition, Genetic Factor of Disease Chapter থেকে।

“In survey carried out in Edinburgh a few years ago, no less than 50% of childhood deaths could be attributed to  genetic disease. The contribution of genetic factors to mortality and morbidity in adults is mere difficult to assess but is also increasing.”…..

“…..Several extensive studies have shown that  among the offspring of consanguineous matings there is an increase of perinatal mortality rate together with an increased frequency of both congenital abnormalities and mental retardation………”

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওই তথ্য অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে শতকরা ৫০টি শিশু মৃত্যুর কারণ পোলিও নয়, উত্তরাধিকারে প্রাপ্ত জেনেটিক ডিজিজ। বিসদৃশ যৌনমিলনজাত ওই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র উপায় হিসেবে বলা হয়েছে, বিশ্বস্ত বংশে সদৃশ বিবাহ এবং সুপ্রজনন নীতির পরিপালন।––যা’  ভারতীয় বর্ণাশ্রমধর্ম ও দশবিধ সংস্কার পালনের মধ্যে নিহিত রয়েছে। বর্ণাশ্রমধর্ম ও দশবিধ সংস্কার পালনের মাধ্যমে প্রতিটি বংশের কুলপঞ্জীর মর্যাদা রক্ষা করে যারা নির্মল, নিষ্কলুষ উত্তরাধিকারীদের সৃষ্টি করতে পারবেন, তাদের বংশধরগণ দুরারোগ্য ব্যাধি এবং অকাল মৃত্যুর কবল থেকে সুরক্ষিত থাকবেই। নচেৎ উত্তরাধিকারীদের নিয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হতে হবে।

তাই বলছিলাম কি, সদগুরুর দীক্ষা নিয়ে, বিধিবৎ বৃত্তি নিয়ন্ত্রণ মাধ্যমে তাঁর প্রদত্ত সংস্কারে সংস্কৃত হতে পারলে উত্তরাধিকারে পাওয়া বিকৃত রূপটাকে সযত্নে পরিহার করে, বৃদ্ধি পেতে না দিয়ে, উত্তরাধিকারে পাওয়া ভালোটুকুকে সুস্থ পরিষেবা দিয়ে যদি একটা সুস্থ প্রজন্ম উপহার দিয়ে যেতে পারি ভারতমাতাকে, তবেই বোধহয় মানুষ হিসেবে সঠিক পরিচয় রেখে যেতে পারবো। তাই নয় কি?

‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ের যা’ কিছু মলিনতা’ ইষ্টীপূত প্রবাহে ধুয়েমুছে রত্নগর্ভার আধার স্বরূপিণী কল্যাণীয়া মায়েরা, গুরুর নিদেশ মেনে, স্বামীর মনোবৃত্ত্যানুসারিণী হয়ে চলতে পারলেই হয়তো অচিরেই আগমন হতে পারে শুদ্ধাত্মাদের।

      ‘শুদ্ধাত্মাদের’ জন্ম দিয়ে জাতীয় উত্তরাধিকার রক্ষার দায়িত্ব কি শুধু মেয়েদের, ছেলেদের কি কোন দায়িত্বই নেই? ––বর্তমান প্রজন্মের কল্যাণীয়া মায়েদের মনে এই প্রশ্নটা জাগা স্বাভাবিক। হ্যাঁ, ছেলেদের অবশ্যই দায়িত্ব আছে,––

‘ইষ্ট ঝোঁকে ছুটলে পুরুষ প্রজ্ঞা অনুপমা

স্বামীর ঝোঁকে ছুটলে নারী শ্রেষ্ঠ ছেলের মা।’

পুরুষদের ইষ্টনিষ্ঠ হতে হবে, পূরণকারী হতে হবে, ‘‘প্রত্যেকের মা-ই জগজ্জননী। প্রত্যেক মেয়েই নিজের মায়ের বিভিন্নরূপ এমনতর ভাবতে হয়।’’-–বাণীকে মেনে চলতে হবে। এবং সে দায়িত্ব স্বয়ং বিধাতা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রই দিয়েছেন। কিন্তু মায়েদের উপর দায়িত্ব একটু বেশি করে দিয়েছেন।

‘‘নারী হতে জন্মে জাতি
বৃদ্ধি লভে সমষ্টিতে
নারী আনে বৃদ্ধি ধারা
নারী হতেই বাঁচাবাড়া
পুরুষেতে টানটী যেমন
মূর্ত্তি পায় তা সন্ততিতে ।

অভ্যাস ব্যবহার যেমনতর
সন্তানও পাবি তেমনতর।
স্বামীতে যার যেমনি রতি
সন্তানও পায় তেমনি মতি ।

স্বামীর প্রতি যেমনি টান
ছেলেও জীবন তেমনি পান ।

যে ভাবেতে স্বামীকে স্ত্রী
করবে উদ্দীপিত
সেই রকমই ছেলে পাবে
তেমনি সঞ্জীবিত ।”

      ‘‘মা হ’লো মাটির মত। মা যদি স্বামীগতপ্রাণা হয়, নিজের প্রবৃত্তির উপর তার যে নেশা, তা’ থেকে যদি তার স্বামীনেশা প্রবলতর হয়, স্বামীকে খুশি করার জন্য নিজের যে কোন খেয়াল যদি সে উপেক্ষা করতে পারে, তাহ’লে তা’র ব্যক্তিত্বের একটা এককেন্দ্রিক রূপান্তর হয়। একে বলে সতীত্ব। তা’ থেকে তা’র শরীরের ভিতরকার অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলির ক্ষরণ ঠিকমত হয় এবং সেগুলি আবার সত্তাপোষণী হয়। এইগুলি গর্ভস্থ সন্তানের শরীর-মনের ভাবী সুসঙ্গত বিকাশের পক্ষে যে-সব সারী উপাদান প্রয়োজন, সেগুলি সরবরাহ করে। এইসব ছেলেমেয়ে মাতৃভক্ত হয়, পিতৃভক্ত হয়, গুরুভক্ত হয়, সংযত হয়, দক্ষ হয়, লোকস্বার্থী হয়, চৌকস হয়, এরা সাধারনতঃ মোটামুটি সুস্থ, সবল ও দীর্ঘায়ুও হয়।’’ (আলোচনা প্রসঙ্গে পঞ্চদশ খণ্ড/৭৩)

      বর্তমান যুগ-বিধায়ক শ্রীশ্রীঠাকুর  অনুকূলচন্দ্রের ওই সঞ্জীবনী মন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগে আমাদের ঘরের মেয়েরা যদি উপযুক্ত বরণীয় বর-কে বরণ করে আদর্শ বধূ, মনোবৃত্ত্যানুসারিনী স্ত্রী, আদর্শ জায়া হয়ে তাদের ভাবী সন্তানদের ভালোমন্দ পরিমাপিত করে গর্ভে ধারণ করতে পারেন, তা হলেই জন্ম নেবে সুস্থ দাম্পত্যের সুস্থ শিশু। এবং সেই সন্তানদের সদাচারের প্রলেপনে আধো কথার সময় থেকেই করে করিয়ে সদগুণের শিক্ষা ধরিয়ে দিতে পারেন,— তা হলেই সংরক্ষণ করা যাবে আমাদের আর্য্য ভারতবর্ষের জাতীয় উত্তরাধিকার।

 প্রহ্লাদ, ব্যাসদেব, কৌটিল্য, রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, সুভাষচন্দ্রের ন্যায় কত-শত বিখ্যাত মনীষীদের শুদ্ধাত্মারা সেই আশায় পথ চেয়ে বসে আছেন। উপযুক্ত মা পেতে। এক বুক আশা নিয়ে, পথ চেয়ে বসে রয়েছেন মানুষ-পাগল পরমপিতাও। তাঁকে শুদ্ধাত্মার ডালির উপহার কে দেবে, সে-তো এক-একজন কয়াধু, সত্যবতী, কৌশল্যা, দেবকী, চন্নেশ্বরী, চন্দ্রমণি দেবী, ভুবনেশ্বরী দেবী, প্রভাবতী দেবীর ন্যায় মায়েদের দ্বারাই সম্ভব। আমাদের আর্য্য ভারতবর্ষের উত্তরাধিকারের দায়িত্ব  মায়েদেরই তো নিতে হবে। পরমপিতা যে পথ চেয়ে বসে আছেন আপনাদের দেওয়া উপহার পেতে।

জয়গুরু! ভালো থাকবেন, ভালো রাখবেন।  

                                  –––– 

।। ईश्वर को मानेंगे या गुरु को मानेंगे ? ईस बिषय पर श्रीश्रीठाकुर अनुकूलचन्द्रजी का सिद्धांत ।।
श्रीश्रीठाकुर—“हमलोग ईश्वर को नहीं देख पाते हैं । माता-पिता एवं गुरू को देखते हैं । यही लोग श्रेष्ठ है । इनलोगों का स्वार्थ है कि हमलोग बचें-बढ़ें । हमलोग जितना सुकेन्द्रिक होते हैं, जितना सदगुरू में केन्द्रायित होते हैं उतना ईश्वर का माहात्म्य हमलोगों में उद् भाषित होता है । mathematics ( गणित ) पढ़ने के लिए जिस प्रकार mathematician ( गणितज्ञ ) के पास जाकर शरणापन्न होते हैं उसी प्रकार भगवान को प्राप्त करने हेतु सदगुरू के यहाँ शरणापन्न होना होगा । ईश्वर रहें या नहीं रहें प्रथम हमलोग बचना, बढ़ना चाहते हैं। यह कैसे होगा ? बढ़ने के लिए एक प्रतीक स्वरूप कुछ चाहिए, उनमें संहत होना होगा, उनसे संगत कर अजाना को जानने का प्रयास करेंगे, इसके माध्यम से मनुष्य evolve ( विवर्तित ) होता है । बिजली का जब आविष्कार नहीं हुआ था तब क्या बिजली नहीं थी? किन्तु आविष्कार के पश्चात् इसे समझा गया । बिजली पूर्व से ही थी बाद में आविष्कार किया गया । ईश्वर का अस्तित्व हमलोगों के पकड़ में नहीं आता है किन्तु सदगुरू के माध्यम से वे पकड़ में आते हैं , सदगुरू की बातों पर विश्वास कर जितना चलेंगे उतना हमलोगों का बोध बढ़ेगा । हमलोग विस्तार चाहते हैं । यह विस्तार विच्छिन्न नहीं हो, इसके लिए इष्टमुखी होना होगा, ईश्वर निष्ठ होना होगा ।”
(आ० प्र०, 21 वाँ खण्ड, पृष्ठा 94 / 16.6.1952)������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������������4

কুমারী পূজা

।। প্রসঙ্গঃ কুমারী পূজা ।।

শাস্ত্রানুসারে কুমারী পূজা না করলে দেবদেবীর পূজা ও হোম সফল হয় না। শক্তির আরাধনার নামে আদর্শ নারীশক্তির প্রতীক স্বরূপা দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী এবং বাসন্তী পূজার আয়োজন হয়ে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। যার উদ্দ্যেশ্য চিন্ময়ী নারীদেরও আমরা যেন আদ্যাশক্তির প্রতীক মনে করে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন করতে অভ্যস্ত হই, শ্রদ্ধা জানাই, নারীকে যেন কামনার, ভোগের বস্তু মনে না করি, নারীকে ভোগ্যা নয়, পূজ্যা রূপে স্বীকৃত দেবার জন্যই কুমারী পূজা। আদ্যাশক্তির প্রতীক নারীরা যদি রুষ্ট হয় তাহলে সৃষ্টির ছন্দে পতন অবশ্যম্ভাবী। ওই আদর্শকে সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠা দিতে মূর্ত্তিপূজার পাশাপাশি তন্ত্রশাস্ত্রকারেরা দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য দেবীজ্ঞানে কুমারী পূজারও প্রচলন করেছিলেন। ফলহারিনী কালীপূজার রাতে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজের স্ত্রীকে ষোড়শীজ্ঞানে পূজা করেছিলেন।
পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেলেও বর্তমানেও শক্তিপীঠ কামরূপ কামাক্ষ্যা, বেলু়ড় মঠসহ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশনগুলোতে, আদ্যাপীঠ প্রভৃতি বিখ্যাত স্থানসহ ভারত ও বাংলাদেশের অনেক স্থানে রক্ত-মাংস দিয়ে গড়া অনার্তবা অর্থাৎ অ-রজঃস্বলা—১৬ বছর সময়সীমার মধ্যে যে মেয়ে ঋতুমতী হয়নি এমন কুমারী মেয়েদের দেবীজ্ঞানে তন্ত্রমতে পূজা করা হয়।
শাস্ত্রমতে বয়স অনুযায়ী কুমারী মেয়েদের উপাধি—
১ বৎসরের কন্যাকে সন্ধ্যা
২ বৎসরের কন্যাকে সরস্বতী
৩ বৎসরের কন্যাকে ত্রিধামূর্তি
৪ বৎসরের কন্যাকে কালিকা
৫ বৎসরের কন্যাকে সুভগা
৬ বৎসরের কন্যাকে উমা
৭ বৎসরের কন্যাকে মালিনী
৮ বৎসরের কন্যাকে কুব্জিকা
৯ বৎসরের কন্যাকে কাল-সন্দর্ভা
১০ বৎসরের কন্যাকে অপরাজিতা
১১ বৎসরের কন্যাকে রূদ্রাণী
১২ বৎসরের কন্যাকে ভৈরবী
১৩ বৎসরের কন্যাকে মহালক্ষী
১৪ বৎসরের কন্যাকে পীঠনায়িকা
১৫বৎসরের কন্যাকে ক্ষেত্রজা
এবং
১৬ বৎসরের কন্যাকে অম্বিকা উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
ইদানীংকালে হিন্দুত্বের বড়াই করা ভক্তরা সরকার স্বীকৃত ‘শক্তির আরাধনা’য় যে হারে ব্যাপৃত হয়েছে, সেই হারে শক্তি আরাধনার আয়োজকদের মধ্যে কুমারীপূজার আদর্শ যদি প্রতিষ্ঠা পেত তাহলে নারীদের কেউ লালসার বস্তু মনে করতে পারত না, আর নারীরাও নিজেদের লাস্যময়ী রূপে নিজেদের বিজ্ঞাপিত করে পুরুষের কামনার আগুনে ইন্ধন দিত না। কারণ দুর্গাপূজা, কালীপূজার নামে যত মানুষ মেতে ওঠে তারা যদি প্রকৃতই শক্তির আরাধনার শিক্ষাটাকে পোলিও প্রচারের মত সমাজে চারিয়ে দিতে পারতেন তাহলে কি ইভটিজিং, ধর্ষণ, ডিভোর্স, নারী নির্যাতনের মতো জ্বলন্ত সমস্যায় কি জর্জরিত হতে হতো আমাদের এই ভারতবর্ষকে ?

শাস্ত্র বর্ণিত অধমের চাইতেও অধম পূজায় মেতে উঠে আমাদের যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে না হয়, তাই, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আমাদের নিত্য-বাস্তবে কুমারীপূজার পূজারী করে তুলতে সৎসঙ্গীদের নিত্যপাঠ্য ‘সত্যানুসরণ’ নামক মহাগ্রন্থে নারীকে জগজ্জননী জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত করতে নিদেশ দিয়ে বললেন, ‘‘প্রত্যেকের মা-ই জগজ্জননী । প্রত্যেক মেয়েই নিজের মায়ের বিভিন্নরূপ, এমনতর ভাবতে হয় ।’’ এবং পুণ্যপুঁথি গ্রন্থে বললেন, ‘‘স্ত্রীতে কামিনীবুদ্ধি করে যে-জন, তাহার হয় না ভবের বন্ধন মোচন । …..স্ত্রী চিন্ময়ী মা।’’—এই শিক্ষার ধারাকে বাস্তবায়িত করার নাম প্রকৃত কুমারীপূজা ।
।। অভিভাবকদের উদ্দেশ্য শ্রীশ্রীঠাকুর প্রদত্ত কুমারীপূজার মন্ত্র।।
কুমারী একটু বড় হলেই
পুরুষ ছুঁতে নেই,
যথা সম্ভব এর পালনে
উন্নয়নের খেই ।
পরের বাবা পরের দাদা
পরের মামা বন্ধু যত
এদের বাধ্যবাধকতায়
সম্বন্ধটি যাহার যত
অনুরোধ আর উপরোধে
ব্যস্ত সারা নিশিদিন
কামুক মেয়ে তাকেই জানিস
গুপ্ত কামে করছে ক্ষীণ ।
বিয়ের আগে পড়লে মেয়ে
অন্য পুরুষে ঝোঁকের মন
স্বামীর সংসার পরিবার
করতে নারে প্রায়ই আপন ।।
কুমারী পূজাকে বাস্তবায়িত করতে তিনি নারীকে অবলা নয়, সবলারূপে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন। নারীর সতীত্বই নারীকে সবলা করে তোলে। তাই তিনি কত আশা নিয়ে কুমারীদের উদ্দেশ্য করে বললেন—

‘‘মেয়ে আমার,
তোমার সেবা, তোমার চলা,
তোমার চিন্তা, তোমার বলা
পুরুষ-জনসাধারণের ভিতর
যেন এমন একটা ভাবের সৃষ্টি করে—
যা’তে তারা
অবনতমস্তকে, নতজানু হ’য়ে
সসম্ভ্রমে,
ভক্তিগদগদ কন্ঠে—
‘মা আমার,— জননী আমার’! ব’লে
মুগ্ধ হয়, বুদ্ধ হয়, তৃপ্ত হয়.কৃতার্থ হয়,—
তবেই তুমি মেয়ে.
—তবেই তুমি সতী।’’

‘‘সতীর তেজে ঝলসে দে মা
নিঠুর কঠোর অন্ধকারে
মদনভস্ম বহ্নিরাগে
বৃত্তি-রিপু দে ছারখারে ।
প্রণবতালে ইষ্টমন্ত্র
ঝঙ্কারি তোল সকলতন্ত্রে
বিষাণ হাঁকে রুদ্র দোলায়
বজ্রে হানি মৃত্যুদ্বারে।’’
তাই আসুন, পূজার নামে অনিত্য-বস্তুর প্রতিযোগিতায় না মেতে, সব দেবতার সমাহার-স্বরূপ যুগ-পুরুষোত্তমের বিধি মেনে, নিত্য-সিদ্ধ দেদীপ্যমান আদর্শের আলোকে, আমাদের ঘরের মেয়েরা যাতে রাষ্ট্রপূজার অর্ঘ্যস্বরূপ সুজননে সুসন্তানের উপহার সাজিয়ে, শক্তিরূপিণী-দশপ্রহরণধারিণী সাজে সজ্জিত হয়ে নরাসুরদের কিভাবে দমন করে অস্তিত্ব রক্ষার পূজার পূজারী হতে পারে,– সেই চেষ্টায় যত্নবান হই।
জয়গুরু ! বন্দে পুরুষোত্তমম্!