।। ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞ ।।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রদত্ত নিত্য অনুসর্তব্য ছড়াবাণী—-
“অন্যে বাঁচায় নিজে থাকে
ধর্ম্ম বলে জানিস্ তা’কে।”-র মধ্যে ইষ্টভৃতির মূল তত্ত্ব সুপ্ত।
সৎসঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কথিত ‘সৎসঙ্গ চায় মানুষ’ বাণীতে বর্ণিত সৎসঙ্গের আদর্শের সাথে, ‘ইষ্টভৃতি’ শব্দের মর্মার্থের সাথে পরিচিত নাহলেও ‘ইষ্টভৃতি’ নামের সাথে বেশীরভাগ সংঘকেন্দ্রিক জনেরা যেমন পরিচিত, তেমনি সাধারণ লোকেরা শ্রীশ্রীঠাকুরের নামে টাকাপয়সা রাখা এবং নির্দিষ্ট সংস্থায় জমা দেওয়াকেই ‘ইষ্টভৃতি’ মনে করেন। অনেকানেক দীক্ষিত জনেরা শুক্রবার বাদে অন্যান্য দিন মাছ-মাংস-পেঁয়াজ-রসুনাদি অভক্ষ্য ভোজন করেন, বর্ণাশ্রমধর্মের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বৃত্তিহরণ কর্মাদি করেন, প্রতিলোম-বিবাহ বিলাসে অগম্যাগামী হয়েও গর্ব করে বলেন, ‘আমি রোজ ১০/২০/৩০ ……… টাকা করে ইষ্টভৃতি কর।’ শ্রীশ্রীঠাকুর অসদুপায়ে উপার্জন (সদাচার এবং বর্ণাশ্রম বিধি না মেনে যে উপার্জন।) দিয়ে ইষ্টভৃতি করার নিদেশ কোথাও দেন নি। তিনি বলেন,—
“সত্য পথে চললে রোজগার বেশি হয়। সাধু রোজগার হয়। ……. ফাঁকির পয়সা আর ভালোবাসার পয়সায় ঢের তফাৎ। ফাঁকির পয়সা খেলে শরীর-মন প্রবৃত্তিঝোঁকা হয়। সাত্বত সম্বেগ স্তিমিত হতে থাকে।” (আঃ প্রঃ ১৫শ খণ্ড, পৃঃ ১৯৭)
শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্ৰশ্ন করা হয়েছিল আপনি ইষ্টভৃতির উপর এত জোর দেন, কিন্তু কেউ যদি জেলে আটকা পড়ে এবং সেখানে কোন সুযোগ না পায়, তখন কী করবে?
শ্রীশ্রীঠাকুর—ভাতের গ্রাসটা দেবে, ভাত যদি না পায় তবে জল নিবেদন করবে, জল যদি না পায় তবে সীতা যেমন বালির পিণ্ডি দিছিলেন, অগত্যা সেই রকমভাবে বালি বা মাটি দিয়ে ইষ্টভৃতি করবে, তা’ও যদি না পায়, পরমপিতার দান বাতাস তো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না, আর সর্বশেষে মানস-উপচারে নিবেদন তো আছেই। সেখানেও চেষ্টা করতে হবে সক্রিয়ভাবে ইষ্টের ইচ্ছা পরিপূরণের ভিতর দিয়ে যাতে তাঁকে তৃপ্ত ও তুষ্ট করা যায়।
(আলোচনা প্রসঙ্গে ৪র্থ, ২৬। ১২। ১৯৪২, পৃষ্ঠা ২০২)
উপরোক্ত বাণীতে বোঝা গেল যে, টাকা-পয়সা নয়, ইষ্টের ইচ্ছা পরিপূরণ করা ইষ্টভৃতির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। যা পঞ্চবর্হিঃ এবং সপ্তার্চ্চি-র অনুশাসনের মধ্যে নিহিত রয়েছে। যুক্তি অনুযায়ী ওই অনুশাসন যারা মানছেন না, তারা তাহলে ইষ্টভৃতি করছেন না।
আমরা আমাদের প্রিয়জনের জন্য কোন কিছু কিনলে সেরা বা শ্রেষ্ঠ জিনিসটাই কিনি। এ বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত থাকতে পারে না। তাহলে আমরা যাঁকে আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ আদর্শ মনে করি, সেই প্রিয়পরম প্রেষ্ঠকেও শ্রেষ্ঠ জিনিস নিবেদন করতে হয়। তাই ইষ্টভৃতিকে যারা সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের অবশ্যই শ্রেষ্ঠ ইষ্টভৃতি বিষয়টা জেনে রাখা উচিত।
শ্রেষ্ঠ ইষ্টভৃতি প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর বলছেন।—
“ঈশ্বর-অনুধ্যায়িতা নিয়ে
গণহিতী অনুচর্য্যায়
তাদের যে অনুগ্রহ-অবদান অর্জ্জন কর,
সেই অবদান হ’তে
শ্রদ্ধানুস্যূত অন্তঃকরণে
স্বতঃস্বেচ্ছায় তোমার ইষ্টকে যা নিবেদন কর,
তাই-ই কিন্তু তোমার শ্রেষ্ঠ ইষ্টভৃতি।”
(ধৃতি-বিধায়না, ১ম খণ্ড, বাণী সংখ্যা ৩০৬)
* * *
‘ঈশ্বর অনুধ্যায়িতা’……..বাণীর নিদেশ ব্যতীত ইষ্টভৃতি বাস্তবায়িত হয় না। ইষ্টভৃতির নামে শুধুমাত্র ইষ্টের প্রীতির জন্য, কাউকে পীড়িত না করে, নিজে পীড়িত না হয়ে বর্ণানুগ কর্মের সেবা মাধ্যমে আহরিত অর্থ ‘দিন গুজরানী আয়’। এই *‘দিন গুজরানী আয়’-কেই ইষ্টভৃতির অর্ঘ্য হিসেবে নিবার্চিত করেছেন শ্রীশ্রীঠাকুর। ওই নিদেশ অনুসারে ইষ্টার্ঘ্য আহরণ করার মধ্যেই প্রীতি, মৈত্রী ও ঐক্যের বীজ বপন করে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন আর্য্যকৃষ্টির সদাচার এবং বর্ণাশ্রম ধর্মকে। ওই ইষ্টার্ঘ্য ইষ্টকে দিতে হবে। তিনি তা দিয়ে PHILANTHROPICAL WORK বা সব্যষ্টি সমষ্টির মধ্যে ভাগবত ঐক্য স্থাপন দ্বারা গণহিতৈষণা কর্ম করবেন। ইষ্টভৃতির দাতা এবং গ্রহীতার মেলবন্ধনে গড়ে উঠবে পরম রাষ্ট্রিক সমবায়। এই ছিল শ্রীশ্রীঠাকুরের পরিকল্পনা। পরিবেশের সকলকে নিয়ে বাঁচা এবং বৃদ্ধি পাওয়ার বাস্তুতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক বিন্যাস-ব্যবস্থার সরলীকরণ অবদান ইতিপূর্বে পরিলক্ষিত হয়নি।—মানবসভ্যতার সার্বিক উত্তরণের জন্য। সেই উদ্দেশ্যে স্থাপন করেছিলেন ফিলানথ্রপি কার্যালয়। মাসান্তে ওই অর্ঘ্য প্রেরিত হত ইষ্টসকাশে। ইষ্টের নামে প্রেরিত ওই অর্ঘ্য গৃহীত হতো ফিলানথ্রপিতে। ইষ্টভৃতি পাঠাবার পর দুজনকে ভ্রাতৃভোজ্য দিতে হয়। এর মাধ্যমে পারস্পরিক প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করলেন। দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে চাইলেন। ইষ্টভৃতি গ্রহীতারা এ বিষয়টিকে ইষ্টানুগ-বোধ দিয়ে বিবেচনা করলে কিছুটা কাজের কাজ হবে।
*”দিন গুজরানী আয় থেকে কর
ইষ্টভৃতি আহরণ,
জলগ্রহণের পূর্ব্বেই তা’
করিস্ ইষ্টে নিবেদন ;
নিত্য এমনি নিয়মিত
যেমন পারিস ক’রেই যা’
মাসটি যবে শেষ হবে তুই
*ইষ্টস্থানে পাঠাস্ তা’ ;
ইষ্টস্থানে পাঠিয়ে দিয়ে
আরো দু’টি ভুজ্যি রাখিস্,
গুরুভাই বা গুরুজনের
দু’জনাকে সেইটি দিস্ ;
পাড়া-পড়শীর সেবার কাজে
রাখিস কিন্তু কিছু আরো,
উপযুক্ত আপদগ্রস্তে
দিতেই হ’বে যেটুকু পার ;
এসবগুলির আচরণে
ইষ্টভৃতি নিখুঁত হয়–
এ না-ক’রে ইষ্টভৃতি
জানিস্ কিন্তু পূর্ণ নয়।”
*ইষ্টস্থান বলতে শুধু ইষ্ট বা প্রিয়পরমের বসতবাটিই নয়। ইষ্টস্থান মানে, যেখানে থেকে আমরা মঙ্গল-অভিগমনে চলি। সে-হিসেবে পরমপিতার এই সারা দুনিয়াটাই ইষ্টস্থানে পরিণত হ’তে পারে।
(আলোচনা প্রসঙ্গে, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ইং ১৮-১০-১৯৪৫)
ইষ্টভৃতি নিবেদন করার পর শ্রীশ্রীঠাকুর নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে অগ্নিহোত্র করতে নিদেশ দিলেন।
“তুমি যখন তোমার ইষ্টে বা আচার্য্যে
ইষ্টার্ঘ্য বা ইষ্টভৃতি নিবেদন কর,
সে নিবেদন-সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই
শ্রদ্ধোৎসারিণী অন্তঃকরণে
অন্তর-আবেগ নিয়ে বল —
“হে দেবতা !
হে আমার আচার্য্য !
হে আমার প্রিয়পরম !
আমি আমার শ্রদ্ধাকে
তোমাকে আহূতি দিতেছি।”
—ইহাই অগ্নিহোত্রের তাৎপর্য্য,
কারণ, অগ্নিই হ’চ্ছেন
ইষ্টদেবতা ও ব্রহ্মবিৎ আচার্য্যের
প্রতীক,
তা’দেরই অগ্নিমুখ বলা হয়,
তাই অগ্নিহোত্র
নিত্য করণীয়,
কখনই পরিত্যাজ্য নয়। ১৫ ।
(ধৃতি-বিধায়না ১ম খন্ড)
শ্রীশ্রীঠাকুর পথের কড়ি গ্রন্থে ইষ্টভৃতির বিষয়ে বললেন :
❝ইষ্টভৃতি মানে হ’চ্ছে—সাংসারিক কোন কর্মে হস্তক্ষেপ করিবার পূর্ব্বেই ইষ্টপোষণার্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পূর্ব্বক অন্ততঃ নিজের আহার্য্য পরিমিত ভোজ্য নিবেদন করা।❞
* * *
“ইষ্টভৃতি ভোজ্যই রীতি
অনুকল্পে জোটে যা’
বিনিময়ে তাই পাওয়া যায়
এমনি দিয়ে রাখিস্ তা।”
শ্রীশ্রীঠাকুর প্রদত্ত ইষ্টভৃতি নিবেদন মন্ত্রের ‘‘ইষ্টভৃতির্ম্ময়াদেব কৃতাপ্রীত্যৈ তবো প্রভো, ইষ্টভ্রাতৃভূতযজ্ঞৈস্তৃপ্যন্তু পারিপার্শ্বিকাঃ।’’ উচ্চারণ করার সাথে সাথে বৃহত্তর পারিপার্শ্বিকের জীবনবৃদ্ধির দায়ভারের শপথ নিতে হয় আমাদের। সব অবস্থাতে বাস্তব কর্মে বৃহত্তর পরিবেশের জৈবাজৈব সবকিছুকে পালন-পোষণে সমৃদ্ধ করে রাখার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সার্থক হয় ইষ্টভৃতি পালন। ইষ্টাদর্শের পঞ্চবর্হিঃ ও সপ্তার্চ্চি-র বিধি মেনে শারিরীক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সদাচার পালনে, ইষ্টপ্রোক্ত বিধি অনুসরণ করে বিবাহ ও সুপ্রজনন নীতি পালনে অভ্যস্ত না হতে পারলে—‘আমি ইষ্টভৃতি করি’ এই কথা বলা বোধহয় সমীচীন হবে না। ইষ্টভৃতি করা মানে, বাস্তবে ইষ্টনীতি মেনে চলা, ইষ্টনীতির ভরণ করা।
যদিও ইষ্টভৃতি প্রচলনের পূর্বে সত্যানুসরণের “তুমি তোমার, নিজ পরিবারের, দেশের ও দশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য দায়ী।”—বাণী-মাধ্যমে অনুরূপ দায়ভার দিয়েই রেখেছিলেন ব্যষ্টি ও সমষ্টি উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে।
এ তো গেল ইষ্টভৃতি আহরণ ও নিবেদনপর্ব। এর পর রয়েছে প্রেরণপর্ব। প্রেরণ বিষয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর স্পষ্ট নিদেশ দিয়ে বলেছেন :
ইষ্টভৃতি ইষ্টকেই দিস্
করিসনা তা’য় বঞ্চনা।
অন্যকে তা’ দিলেই জানিস
আসবে বিপাক গঞ্জনা ।।
অর্থাৎ ইষ্টভৃতি ইষ্টেরই প্রাপ্য, অন্য কারও নয়। ওই অর্ঘ্য দিয়ে ইষ্টকর্ম করা হবে। ইষ্টকর্ম মানে পূর্ত্তকর্ম। যা প্রকৃত ইষ্টভৃতির মন্ত্রের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। “…..ইষ্টভ্রাতৃভূতযজ্ঞৈস্তৃপ্যন্তু পারিপার্শ্বিকাঃ ।।” এর সরলার্থ খুব সহজ। শ্রীশ্রীঠাকুরের আদর্শ অনুযায়ী সদাচার এবং বর্ণাশ্রমানুগ জীবন বর্দ্ধনার বিধি মেনে সপারিপার্শ্বিক জীবনবৃদ্ধির পথে চলেন যিনি এমন গুরুভাই-ই প্রকৃত ইষ্টভ্রাতা।––যাঁর আপদে-বিপদে সাধ্যানুগ সাহায্য করতে হবে। ভূত মানে,—ক্ষিতি, অপ্, মরুৎ, ব্যোম ও তেজ-আদি সৃষ্টি-প্রকরণের পঞ্চ-মহাভূত, যা পরিবেশের অজৈব উপাদান, যার সাহায্য ব্যতীত জৈব প্রাণপঙ্ক (protoplasm) বাঁচতে পারে না। উক্ত উপাদানসমূহকে সমৃদ্ধ রাখার জন্য আর্য্যদের বাস্তব পূর্ত্ত-কর্মের মাধ্যমে নিত্য পঞ্চ-মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান করতে হতো সপারিপার্শ্বিক জীবনবৃদ্ধিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে। শ্রীশ্রীঠাকুর ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞের মাধ্যমে ওই প্রক্রিয়াকে নবীকরণ করলেন। শ্রীশ্রীঠাকুর হিমাইতপুরে সপারিপার্শ্বিক জীবন বৃদ্ধিদ আশ্রম সংগঠনের মাধ্যমে, ইষ্টভৃতি প্রবর্তনের পূর্বেই ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আমাদেরও তাই করতে হবে, বাস্তবে।
ইষ্টের অবর্তমানে, ইষ্টাদর্শের পরমরাষ্ট্রিক সমবায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল থেকে দীক্ষা, শিক্ষা, বিবাহ, কৃষি ও শিল্পের বাস্তবায়ন করতে নিবেদিত-প্রাণ যিনি, তিনিই ইষ্টার্ঘ্য গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি।
এ বিষয়ে পরম দয়ালের সুস্পষ্ট নির্দেশ :-
“আগত যিনি, উপস্থিত যিনি—
তাঁর বিগতিতে বা তিরোভাবে
তাঁর বংশে যদি
তাঁ’তে অচ্যুত—সশ্রদ্ধ—আনতি-সম্পন্ন,
প্রবুদ্ধ-সেবাপ্রাণ,
তঁৎবিধি ও নীতির সুষ্ঠু পরিচারক
ও পরিপালক,
সানুকম্পী-চর্য্যানিরত,
সমন্বয়ী সামঞ্জস্য-প্রধান,
পদনির্লোভ, অদ্রোহী,
শিষ্ট-নিয়ন্ত্রক,
প্রীতিপ্রাণ—এমনতর কেউ থাকেন—
তাঁরই অনুগমন ক’রো,
কিম্বা তা’ও যদি না পাও—
তবে, তাঁর কৃষ্টি-সন্ততির ভিতর
অমনতর গুণসম্পন্ন যিনি
তাঁরই অনুগমন ক’র পারম্পর্য্যে—
যতক্ষণ আবার
আগতের অভ্যুত্থান না হয়,
ঠকবে না—
শিষ্ট-সমন্বয়ে সম্বর্দ্ধনাও পাবে।” ৩৯ । (সম্বিতী)
১) তাঁতে অচ্যুত-সশ্রদ্ধ-আনতিসম্পন্ন,
২) প্রবুদ্ধ-সেবাপ্রাণ,
৩) তঁৎবিধি ও নীতির সুষ্ঠু পরিচারক ও পরিপালক,
৪) সানুকম্পী-চর্য্যানিরত,
৫) সমন্বয়ী-সামঞ্জস্য প্রধান,
৬) পদনির্লোভ,
৭) অদ্রোহী,
৮) শিষ্ট নিয়ন্ত্রক,
৯) প্রীতিপ্রাণ।
তাঁর সন্তান-সন্ততিগণের মধ্যে এই নয়টি বিশেষ গুণসম্পন্ন যিনি—অভাবে তাঁর কৃষ্টি সন্ততির অর্থাৎ শিষ্যবর্গের মধ্যে অমন গুণ সম্পন্ন যিনি তাঁরই অনুগমন কর !”
উক্ত বাণীর সরলার্থ,—যিনি অর্থ-মান-যশ ইত্যাদির নাগপাশ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিজের চরিত্রে ঠাকুরত্বকে জাগ্রত করেছেন, তাঁকে কেন্দ্র করে চলতে হবে, তাঁকেই ইষ্টার্ঘ্য দিতে হবে। অন্যথায় বিপাক-গঞ্জনাকে মেনে নিতে হবে।
ওই বাণীর মর্মার্থ অনুযায়ী ১. ইষ্ট পরিবারের সব সদস্যরা মিলে যাঁকে উপযুক্ত নির্বাচন করবেন তাঁকে কেন্দ্র করে চলতে হবে। ২. ইষ্ট পরিবারের সদস্যরা যদি অমনতর গুণসম্পন্ন উপযুক্ত কাউকে নির্বাচিত না করতে পারেন তাহলে কৃষ্টিসন্তানদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করতে হবে এবং তাঁর অনুগমন করে কেন্দ্রায়িত চলনে চলতে হবে।—অন্যথায় শ্রীশ্রীঠাকুরের নিদেশ অনুযায়ী বিপাক-গঞ্জনাকে মেনে নিতে হবে। এই বাণীতে বংশানুক্রমিক জ্যেষ্ঠ-পরম্পরার বিষয় কিন্তু উল্লেখ করেন নি।
———————